ফরহাদ সুমন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ০২:৪০ এএম
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:১৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ কাউসার অবশেষে হার মানলেন

আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ কাউসার অবশেষে হার মানলেন

চট্টগ্রামের নিউমার্কেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭০ দিন চিকিৎসারত থাকার পর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাউসার মাহমুদ। গত রোববার রাতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার মৃত্যু হয়। বন্দর নগরীর আগ্রাবাদ মোগলটুলী এলাকায় বেড়ে ওঠা কাউসার লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবা আব্দুল মোতালেবের মুদির দোকানে সময় দিতেন।

কাউসারের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরায়। বাবা আব্দুল মোতালেব পরিবার নিয়ে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ রোডে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।

জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাউসার মাহমুদ। ‘আসছে ফাগুন দ্বিগুণ নয়, ১৬ কোটি হবো’ ছিল কাউসারের শেষ ফেসবুক স্ট্যাটাস। ৪ আগস্ট নিউমার্কেট চত্বরে ছাত্র-জনতা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালনে জমায়েত হন। ওইদিন পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে গুলি করে ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন কাউসার। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় নগরের আগ্রাবাদে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসকরা জানান, মারধরে গুরুতর আহত কাউসারের দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে।

এরপর সেখান থেকে ২২ সেপ্টেম্বর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। আইসিইউতে থাকাকালীন তার শারীরিক অবস্থার ফের অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি চট্টগ্রাম সেনানিবাসকে জানায়। পরে তাকে চট্টগ্রাম সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা সিএমএইচে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানান্তর করা হয়। চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ রাসেল আহমেদ কালবেলাকে বলেন, গতকাল সোমবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কাউসার মাহমুদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাতে এশার নামাজ শেষে নগরের আগ্রাবাদ এলাকার সরকারি কমার্স কলেজের মাঠে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

কাউসারের বন্ধু অনিক হাসান বলেন, পড়ালেখায় মেধাবী ছিল কাউসার। তার কোনো অহংকার ছিল না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কাউসারের অগ্রণী ভূমিকা ছিল। তার অভাব কোনো দিন পূরণ হওয়ার নয়। তার স্মৃতি নিয়েই এখন বাঁচবে পরিবার, বাঁচব আমরা।

কালবেলা
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মানবদেহ সম্পর্কে ১০ বিস্ময়কর তথ্য, যা জানলে অবাক হবেন আপনিও

ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক, তদন্তের মুখে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো

রয়টার্স/ইপসসের জরিপ / ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক

দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত মজুত, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার

বিক্ষোভে এআই নজরদারি, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা

মাতামুহুরীতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী

জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: আবদুল আউয়াল মিন্টু

রাবিপ্রবি ছাত্রদলের ৩ যুগ্ম আহ্বায়ক বহিষ্কার, সদস্য সচিবের পদ স্থগিত

কালবেলার অনুসন্ধানে বদলে গেল বিউটি রানীর ভিডিও বিতর্ক, তদন্ত থেকেও সরে এলো শিক্ষা বিভাগ

জুলাইয়ে সম্মিলিত চেতনা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক মূল্যবান সম্পদ: রিজভী

১০

কাউন্সিলর একরামুল হত্যা, সেনাবাহিনীর কাস্টডিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

১১

৪৫ দিন পর আজ খুলছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল, মিলবে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা 

১২

ছাত্রলীগ করলেই মারধর গ্রহণযোগ্য নয়: অধ্যাপক মামুন

১৩

ইনকিলাব মঞ্চের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, জায়গা পেলেন ওসমান হাদিও

১৪

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

১৫

জয়পুরহাটে সৎ মাকে হত্যায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

১৬

ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রদলের আংশিক নতুন কমিটি ঘোষণা

১৭

‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব রেকর্ড চুরমার করবে সূর্যবংশী’

১৮

ভোলায় সাপের কামড়ে জেলের মৃত্যু

১৯

বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া ’১৮ সালের সেই ৩২ ডিসি কারা

২০
X