

সিওপিডি একটি শ্বাসতন্ত্রের রোগ, যেখানে বাতাস প্রবাহের বাধাগ্রস্ত হয়ে। প্রধানত ক্রনিক ব্রংকাইটিস এবং এমফাইসিমাকে বোঝায়। ইংরেজি পরিভাষায় একে ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ বলে।
ক্রনিক ব্রংকাইটিস: শ্বাসনালির ভেতরের আস্তরণে প্রদাহ ও ফুলে যায় এবং অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরি হয়, যা শ্বাস-প্রশ্বাসের পথকে সরু করে। ফলে বছরে কমপক্ষে তিন মাস ধরে শ্লেষ্মা উৎপন্নকারী কাশি হয়।
এম্পাইসিমা: ফুসফুসের অ্যালভিওলি বা বায়ুথলিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায় এবং তাদের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। এতে বায়ুথলিগুলো বড় হয়ে যায় এবং গ্যাস বিনিময়ের পৃষ্ঠতল কমে যায়, ফলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের আদান-প্রদান ব্যাহত হয়।
বায়ু আটকে থাকা: শ্বাসনালিতে বাধা থাকায় নিঃশ্বাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ বাতাস বেরিয়ে যেতে পারে না, ফলে ফুসফুসে বাতাস আটকে থাকে এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়।
প্রোগ্রেসিভ পরিবর্তন: এ পরিবর্তনগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে, যা শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি এবং ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস করে।
মূল কারণ: ধূমপান—যা ফুসফুসে প্রদাহ এবং কাঠামোগত ক্ষতি করে। বায়ুদূষণ—ধুলা, ধোঁয়া এবং রাসায়নিক পদার্থের দীর্ঘস্থায়ী সংস্পর্শে থাকার কারণে। অন্যান্য—জেনেটিক কারণ যেমন আলফা-১ অ্যান্টিট্রিপসিন ডেফিসিয়েন্সি।
লক্ষণ ও উপসর্গ: মূলত যারা ধূমপায়ী ও ৪০ বছরের বেশি বয়স, তাদের এ রোগের ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত বেশি। সিওপিডির প্রধান লক্ষণ শ্বাসকষ্ট। বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রমের সময়। রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি অধিক পরিশ্রমের সময় শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন, তবে অবস্থা আরও খারাপ হলে বিশ্রামের সময়ও হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী কাশি, সিওপিডি রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। বছরের বেশিরভাগ সময় কাশি থাকে এবং শীতকালে বেড়ে যায়। কাশি শুষ্ক হতে পারে বা শ্লেষ্মাসহ হতে পারে, যা স্বচ্ছ, সাদা, হলুদ বা সবুজ হতে পারে। শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় শব্দ হওয়া। মাঝেমধ্যে জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি। শীতকালে এ উপসর্গগুলো বেশি দেখা যায়।
রোগ নির্ণয়: রোগের ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার সঙ্গে বুকের এক্স-রে, রক্তের সিবিসি, স্পাইরোমিটারের সাহায্যে শ্বাস পরীক্ষা। কিছু ক্ষেত্রে বুকের সিটি স্ক্যান।
জটিলতা: করপালমোনেল-রাইট হার্ট ফেইলিউর শ্বাসকষ্ট ও শরীর ফুলে যায়। টাইপ ২ রিসপিরেটরি ফেইলিউর-অক্সিজেন কমে যায় ও কার্বন ডাইঅক্সাইড বেড়ে যায়। ঘন ঘন ফুসফুসে ইনফেকশন হলে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়। নিউমোথোরাক্স ইত্যাদি।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ: সিওপিডি ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ ধূমপান ত্যাগ। এতে ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে, লক্ষণগুলো কমে যায় এবং তীব্রতার ঝুঁকি হ্র্রাস পায়। যাদের শরীরে অক্সিজেনের অভাব, তারা বাসায় অক্সিজেন থেরাপি দিতে পারে। অন্যান্য চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ইনহেলার (ব্রঙ্কোডাইলেটর ও স্টেরয়েড), পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশন, ভ্যাকসিনেশন (ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়া), কিছু ক্ষেত্রে সার্জারি বা ফুসফুস প্রতিস্থাপন, যা শ্বাসকষ্ট কমিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।
অধ্যাপক ডা. এ কে এম মূসা
চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০
মন্তব্য করুন