

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৫ হাজার ১৬৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মধ্যে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৯৩ জন প্রবাসী ভোটদান শেষে সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে ব্যালট জমা দিয়েছেন। এরই মধ্যে ১৯ হাজার ৩৮৮টি ব্যালট বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে থেকে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন, গতকাল সোমবার তাদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে ইসি।
ইসি জানায়, নির্বাচন কমিশন থেকে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১২২ জন প্রবাসীর কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুপুর দেড়টা পর্যন্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণকারী প্রবাসীর সংখ্যা ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৩২৬। এবারই প্রথম প্রবাসী ভোটাররা বিদেশে বসেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। এ পোস্টাল ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে—এমন চিন্তা মাথায় রেখে দলগুলো প্রবাসীদের ভোট আদায়ে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভোট দিতে প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী নিবন্ধন করেছেন।
অন্যদিকে, দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন, তাদের ব্যালট পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের ফল একসঙ্গে দেওয়া হবে।
আখতার আহমেদ আরও বলেন, দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, সোমবার থেকে তাদের ব্যালট পাঠানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কয়েদিরা এবার ভোট দিতে পারবেন। ব্যালট পেপার পাওয়ার পর দ্রুত ভোট দিয়ে ফেরত পাঠাতে হবে।
ইসি সচিব বলেন, দেশের ভেতরের পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের পাশে প্রার্থীর নাম থাকবে। এরই মধ্যে ইসি থেকে বলা হয়েছে, ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছতে হবে। এরপর পৌঁছলে তা গণনা করা হবে না।
গতকাল নির্বাচন ভবনে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। বৈঠক সম্পর্কে সচিব সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে কূটনীতিকরা জানতে চেয়েছেন ভোটের ফল কখন হবে। এর জবাবে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা যেটা বলেছি—আমাদের হিসাবমতে কেন্দ্রের ফল সময়মতো হয়ে যাবে। তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে হয়ে যাবে। কিন্তু যেসব রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রবাসী ভোটের কেন্দ্রগুলো থাকবে, সেখানে গণনার সময় বেশি লাগবে। তার কারণ হলো, দুটি ব্যালট পেপার, এ কারণে সময় বেশি লাগবে। প্রবাসীদের কাছে যে ব্যালট পেপার, এফোর সাইজের দুই পাশেই আছে। কাজেই ভোট দেবেন একটি। তার মানে ১১৯টি মার্কাকে স্ক্যান করতে হবে ম্যানুয়ালি। ত্রুটিমুক্ত রাখার জন্য এ জায়গায় সময় বেশি লাগবে। একটু না, আসলে কত সময় বেশি লাগবে, তা নির্ভর করছে কত ভোট এসে পৌঁছেছে, সেটার ওপর।’
মন্তব্য করুন