

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এই প্রথম জাতীয় ক্যানসার হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়েছে। সংস্কারকৃত সাবেক প্রশাসনিক সিভিল সার্ভিস কমিশনের ভবনে স্থাপিত এ হাসপাতালটিতে রয়েছে ২০০ শয্যার ব্যবস্থা। এখানে ক্যানসার রোগীদের রোগনির্ণয় ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রতিনিধিদলের উপপ্রধান বেঞ্জামিন ভিন্টজ বলেন, নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য কাজের সুযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যাতে নারী ও শিশুরা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা পেতে পারে। তিনি আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তায় ইইউর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ভিন্টজ বলেন, নারী স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে পারেন এবং নারী ও শিশুরা মৌলিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা পায়; এ জন্য কার্যকর পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে সহায়তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় হবে। গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ইইউ আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা দিয়ে আসছে। বর্তমানে এ খাতে ইইউর সহায়তার পরিমাণ ৮৬ মিলিয়ন ইউরো।
এদিকে আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী নূর জালাল জালালি বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও সংস্কারের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, নতুন হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের জন্য বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, ভারত সরকার এক মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১০ টন ক্যানসারবিরোধী ওষুধ সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে রেডিওথেরাপি সুবিধা স্থাপনেও ভারত সহযোগিতা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জালালি বলেন, আমি সব ব্যবসায়ী ও দাতব্য সংস্থার প্রতি ক্যানসার রোগীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। ক্যানসার একটি অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক রোগ। প্রতিবেশী দেশগুলোতে রোগীদের চিকিৎসায় বেসরকারি খাত বড় ভূমিকা রাখে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর আফগানিস্তান প্রতিনিধি ডা. এডউইন সালভাদোর বলেন, অতীতে ক্যানসার রোগীরা যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা কাটিয়ে উঠতে ডব্লিউএইচও কাজ করছে। কাবুলের বাইরে অন্যান্য অঞ্চলেও অনকোলজি সেবা সম্প্রসারণ এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর আশ্বাস দেন তিনি।
তিনি বলেন, এই হাসপাতালটি সারা দেশের জন্য একটি রেফারাল সেন্টার হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে শয্যাসংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অবকাঠামোর পাশাপাশি আমরা জনবল ও ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।
তিনি জানান, অনলাইন ও সরাসরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আফগানিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ৬০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্টকে অনকোলজি, কেমোথেরাপি ও প্যালিয়েটিভ কেয়ারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একজন রোগীর সেবাদানকারী আমানউল্লাহ বলেন, আগে আমাদের রোগীদের পাকিস্তানে নিতে হতো। এখন এখানেই চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছে। সরকার যদি ওষুধের সহায়তাও দেয়, তাহলে অনেক উপকার হবে।
আরেক সেবাদানকারী ঈদ মোহাম্মদ বলেন, সব প্রদেশ ও অঞ্চলে যদি এমন ক্যানসার হাসপাতাল স্থাপন করা হয়, তাহলে তা আমাদের জন্য ভালো হবে।
এই হাসপাতাল চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে আফগান ক্যানসার রোগীদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রয়োজন কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।