

খুলনার গাজী মেডিকেল কলেজের সাইকিয়াট্রি (মনোরোগবিদ্যা) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাম্মী আখতার। ২০২৩ সালের মে মাসে সহকারী অধ্যাপক থেকে পদোন্নতি পান সহযোগী অধ্যাপক পদে। এর আগে তিনি চাকরি করেছেন রাজধানীর আশিয়ান মেডিকেল কলেজে। গাজী মেডিকেল কলেজে যোগদানের সময় জমা দেওয়া নিজের অভিজ্ঞতা সনদে নেন জালিয়াতির আশ্রয়। সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সময়ও তিনি ফের জালিয়াতি করেন। পদে পদে এমন অনিয়ম করেও বহাল তবিয়তেই আছেন চিকিৎসাবিদ্যার এ শিক্ষক।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মে তাকে সহযোগিতা করেছেন গাজী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ। কালবেলার হাতে আসা সংশ্লিষ্ট নথি বিশ্লেষণ ও যাচাই করে এসব অভিযোগের প্রমাণও মিলেছে।
জানা যায়, আবেদনের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় পদোন্নতি পান ডা. শাম্মী আখতার। তাকে ২০২৩ সালের ১৮ মে গাজী মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বোর্ড সাইকিয়াট্রি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেয়। তার আগে তিনি একই বছরের ১৩ মে পদোন্নতির জন্য অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেন। সেখানে উল্লেখ করেন, তিনি ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি গাজী মেডিকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আশিয়ান মেডিকেলে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ শুরু করেন। অথচ শাম্মী আখতার গাজী মেডিকেল কলেজে যোগদানের সময় আশিয়ান মেডিকেল কলেজের যে অভিজ্ঞতা সনদ জমা দেন সেখানে উল্লেখ করেছেন যে, ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি ওই মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বোর্ডের ১৯তম সভায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তার চাকরি নিয়মিত করা হয়। শাম্মী আখতারের জমা দেওয়া অভিজ্ঞতা সনদে অধ্যক্ষ হিসেবে সই করেন অধ্যাপক ডা. মো. শহীদ হোসেন। অথচ ওই সময়ে এই ব্যক্তি আশিয়ান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন না।
কালবেলার হাতে আসা নথি অনুযায়ী, ওই সময়ে আশিয়ান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন ডা. আকতারুন নাহার এবং উপাধ্যক্ষ ছিলেন ডা. মোহাম্মদ জামান আবু নাসের। ২০২০ সালের ১২ জুলাই আশিয়ান মেডিকেল কলেজের ১৫তম গভর্নিং বোর্ডের সভা হয়। সেখানে শাম্মী আখতারকে ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ নিয়মিত করা হয়। ওই কাগজে অধ্যক্ষ হিসেবে সই করেন ডা. আকতারুন নাহার। অথচ গাজী মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বোর্ডের অনুমোদিত রেজুলেশনে বলা হয়েছে, তাকে সহকারী অধ্যাপক পদে ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে নিয়মিতকরণের প্রমাণ উপস্থাপন সাপেক্ষে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির অনুমতি প্রদান করা হলো। অভিযোগ উঠেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা কাগজ জমা দিয়ে গাজী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. বঙ্গ কমল বসুর সহযোগিতায় সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ প্রাপ্ত হন। পরবর্তী সময়ে তাকে গভর্নিং বোর্ডের সভায় সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতির জন্য তিন বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদিত/স্বীকৃত জার্নালে তিনটি প্রকাশনা থাকতে হয়। এ ছাড়াও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার তিন বছর পূর্ণ করতে হয়। যা শাম্মী আখতারের তখন ছিল না।
যদিও চাকরি-পদোন্নতিতে নিজের বিরুদ্ধে উঠা জালিয়াতির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডা. শাম্মী আখতার। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘নিয়োগ, চাকরি ও পদোন্নতিতে কোনো জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে চাকরি করছি। আমার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আশিয়ান মেডিকেল কলেজে বছরখানেক চাকরি করেছি। সেখানে বেতনসহ অন্যান্য বৈষম্যের কারণে চাকরি ছেড়ে দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সময় বোর্ড সদস্যরা আশিয়ান মেডিকেল কলেজে ফোন করে আমার কাগজপত্রের সত্যতা যাচাই করেন। তারপর গাজী মেডিকেল আমাকে ভাইভাতে ডেকেছিল।’
মন্তব্য করুন