

ঢাকার ধামরাইয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের চুরির ঘটনার বিচার করায় তিনজনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে মুক্তিবুর রহমান মুক্তি নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কায়কোবাদের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ওসি নাজমুল হুদা খান।
হাঁস চুরি ও বিচার এবং মারধরের এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ধামরাই সদর ইউনিয়নের হাজিপুর পশ্চিম পাড়া এলাকায়। আহতরা হলেন—আল আমিন (৩০), সোহরাব (৩৫) ও কায়কোবাদ (২৮)। আসামিরা হলেন—মুক্তি (৫৫), মোয়াজ্জেম (৩৫), সালাউদ্দিন (৪০), পাচু মিয়া (২২), শফিকুল (২৫), জাহানারা বেগম (২৮), আদম (২০) ও আবু বকর (২৫)।
মামলা ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ধামরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তির ছেলে পাচু মিয়া ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তারের বাড়ি থেকে হাঁস চুরি করে বিক্রি করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন মুক্তি মেম্বারের ছেলে পাচু মিয়ার বিচার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ভুক্তভোগীরা জানায়, পাচু মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। বাবা ইউপি সদস্য থাকায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার জানান, পূর্ব শত্রুতার কারণে সব সময় মুক্তিবুর মেম্বার আমাদের ওপর নির্যাতন করে যাচ্ছেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমার বাড়িতে অস্ত্র নিয়ে মুক্তিবুর মেম্বার বাড়ির গেট কুপিয়েছে। বিষয়টি আকলিমা আক্তার তার ভাই আল আমিন, দেবর সোহরাব ও ছেলে কায়কোবাদকে জানালে তারা বাড়ির দিকে আসতে থাকে। মুক্তিবুর রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনী বাড়ির পাশে রাস্তায় অবরোধ করে আল আমিন, সোহরাব ও কায়কোবাদকে। নির্জন রাস্তায় তাদেরকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে ওই মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী চলে যায়।
এ ঘটনায় আকলিমা আক্তারের ছেলে কায়কোবাদ, ভাই আল আমিন ও দেবর সোহরাবকে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ বিষয়ে মুক্তিবুর মেম্বারকে তার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, এ ঘটনায় উভয়পক্ষ আহত হয়েছেন। উভয়পক্ষই মামলা করেছেন। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
মন্তব্য করুন