

মৃত্যু নিশ্চিত এ কথা সব ধর্মের মানুষই বিশ্বাস করেন। তবে কেউই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু কামনা করেন না। প্রত্যেক মুমিনেরই একান্ত চাওয়া, তার মৃত্যু যেন ভালো অবস্থায় হয়। ইমানের সঙ্গে হয়। দুনিয়ার শেষ মুহূর্তে ঠোঁটজুড়ে যেন কালিমার আওয়াজ থাকে।
মৃত্যুর কথা সামনে আসতেই আমাদের আশপাশের অনেকে একটি কথা বলেন, যে ব্যক্তি আজানের সময় কথা বলবে, মৃত্যুর সময় তার কালিমা নসিব হবে না। তাই প্রশ্ন জাগে, বিষয়টি কি আসলেই সত্য? শরিয়তে কি এর কোনো ভিত্তি আছে?
এ বিষয়ে ইসলামী গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে এটাকে একটি জাল ও ভিত্তিহীন কথা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘আজানের সময় কথা বললে কি মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হবে না’- এটি একটি জাল বর্ণনার বক্তব্য; এখানে একটু ভিন্ন ভাষায় পেশ করা হয়েছে। মূল বর্ণনাটি হলো, .مَنْ تَكَلَّمَ عِنْدَ الأَذَانِ خِيفَ عَلَيْهِ زَوَالُ الإِيمَانِ
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আজানের সময় কথা বলবে, তার ঈমান চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আল্লামা সাগানী (রাহ.) বর্ণনাটিকে জাল বলেছেন। (রিসালাতুল মাউজুআত ১২, কাশফুল খাফা : ২/২২৬, ২৪০)
এ বর্ণনার ‘ঈমান চলে যাওয়ার আশংকা রয়েছে’- এ কথাকেই এখানে ‘মৃত্যুর সময় তার কালিমা নসিব হবে না’ বলে ব্যক্ত করা হয়েছে। সুতরাং এটি একটি জাল ও ভিত্তিহীন কথা।
তবে আমাদের উচিত আযানের সময় গল্প-গুজবে লিপ্ত না থেকে আজানের উত্তর দেওয়া। হাদিস শরিফে এসেছে, যে ব্যক্তি দিল থেকে আজানের উত্তর দেবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহিহ মুসলিম : ৩৮৫)
মন্তব্য করুন