

পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। প্রতিটি আসনেই একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর অংশগ্রহণে ভোটের লড়াই হয়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে চালানো অনানুষ্ঠানিক জরিপ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি আসনে দাঁড়িপাল্লা, দুটিতে ধানের শীষ স্পষ্ট এগিয়ে থাকলেও একটি আসনে ফল নিয়ে রয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
পটুয়াখালী-১: এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী ঈগল প্রতীকের মোহাম্মদ আব্দুর ওহাবের মধ্যে। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মো. ফিরোজ আলম, জাসদের গৌতম চন্দ্র শীল, জাতীয় পার্টির আ. মান্নান ও গণঅধিকার পরিষদের মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম। তবে স্থানীয়রা ধানের শীষ প্রতীকের আলতাফ হোসেন চৌধুরীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখছেন।
পটুয়াখালী-২: এ আসনে পাঁচজন নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন। বিএনপির সহিদুল আলম তালুকদার, জামায়াতের শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ইসলামী আন্দোলনের মালেক হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির মো. রুহুল আমিন ও গণঅধিকার পরিষদের মো. হাবিবুর রহমান।
এখানে বিএনপি জোট ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চললেও সর্বশেষ জরিপে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
পটুয়াখালী-৩: জেলার সবচেয়ে আলোচিত ও ঝুঁকিপূর্ণ আসন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে পটুয়াখালী-৩। এখানে বিএনপি জোটের নুরুল হক নুর (ট্রাক), জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মুহম্মদ শাহ আলম (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন (ঘোড়া) এবং ইসলামী আন্দোলনের আবু বকর সিদ্দিকসহ (হাতপাখা) পাঁচজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
বিশেষ করে নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন—এ দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর তুমুল প্রচার-প্রচারণায় ভোটের হিসাব জটিল হয়ে উঠেছে। কে জিতবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পটুয়াখালী-৪: এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির এ বি এম মোশাররফ হোসেন, জামায়াত সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ (দেয়াল ঘড়ি), ইসলামী আন্দোলনের মোস্তাফিজুর রহমান এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. রবিউল হাসান। সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, এখানে বিএনপির প্রার্থী এ বি এম মোশাররফ হোসেনের জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করছেন ভোটাররা।
মন্তব্য করুন