বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩৩
শাহনেওয়াজ খান সুমন
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০১ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার ৭, ১২ ও ১৪ আসন

বিএনপির বিদ্রোহীতে বদলে গেছে সমীকরণ

বিএনপির বিদ্রোহীতে বদলে গেছে সমীকরণ

ভোটগ্রহণের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে নির্বাচনী প্রচারণা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ। ভোটের মাঠের লড়াইয়ে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুটি নির্বাচনী ঐক্য ও জোট। তবে রাজধানী ঢাকার তিনটি সংসদীয় আসনের সমীকরণ কিছুটা ভিন্ন। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে ঢাকা-৭, ঢাকা-১২ ও ঢাকা-১৪ আসনে দলটির তিন নেতা হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনজনই লড়ছেন ফুটবল প্রতীকে। তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থিতা এই তিন আসনের ভোটের লড়াইকে দুপক্ষের সীমা ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে—সে হিসাবের চেয়ে এখন বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত ভোটের ভাগাভাগি কার পক্ষে যাবে। তিনটি নির্বাচনী এলাকারই অলিগলি প্রার্থীদের গণসংযোগ আর সমাবেশে উৎসবমুখর। প্রার্থীদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাসে সরগরম নির্বাচনী এলাকা।

ঢাকা-৭ আসন: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসনে রয়েছে লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালির আংশিক এলাকা। আসনটিতে ভোটার ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। সবশেষ নির্বাচনে এই আসনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৮৯ জন, অর্থাৎ দুবছরে ভোটার বেড়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৮৭ জন। এই সংসদীয় আসনে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। সর্বশেষ এখানে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সোলায়মান সেলিম। তার আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার বাবা হাজি সেলিম স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হন।

এবারের নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার। জোটগত কারণে এনসিপির প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় জামায়াতের প্রার্থী এনায়েত উল্লাহ কিছুটা সুবিধা পেয়েছেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আব্দুর রহমানও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

এ আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন ১১ জন। অন্যরা হলেন- জাতীয় পার্টির সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের হাবিবুল্লাহ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির শহিদুল ইসলাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের শাহানা সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের সীমা দত্ত ও বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মাকসুদুর রহমান। বংশাল, চকবাজার ও নাজিরাবাজারের প্রতিটি মোড়ে প্রার্থীদের ব্যানার-ফেস্টুন টানানো হয়েছে। তবে সব প্রার্থীর প্রচারণা এখনো দেখা যায়নি।

বিদ্রোহী প্রার্থিতায় বিএনপির ভোট দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি দেখছেন অনেকেই। নাজিরাবাজারের বাসিন্দা নজরুল খান বলেন, ‘বিএনপিতে দলীয় প্রার্থী ও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে।’

পুরান ঢাকার এই অঞ্চলে গ্যাস ও পানির তীব্র সংকট, সরু রাস্তা, নিত্যদিনের যানজট এবং কেমিক্যাল গোডাউনের ঝুঁকি প্রধান সমস্যা। এর আগে সব সরকার এসব সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোগান্তির সার্বিক চিত্র তেমন বদলায়নি।

কামরাঙ্গীরচরের ভোটার হাসান আলী বলেন, ‘এই নির্বাচনেও টাকার খেলা হবে। এবার প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবে এমন সৎ ব্যক্তিকে ভোটাররা বেছে নেবেন। কেউ দুর্নীতি করলে দুই বছর যেতে না যেতেই তাদের বিরুদ্ধেও কথা বলবে জনগণ। আগের সরকার তো পালানোর জায়গা পেয়েছে, দুর্নীতি করলে আগামী সরকার কোথাও পালানোর জায়গাও পাবে না।’

পুরান ঢাকা বর্তমানে নানান সমস্যায় জর্জরিত উল্লেখ করে এসব সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘বিশেষ করে বুড়িগঙ্গার দূষণ, ডেঙ্গু আতঙ্ক এবং যত্রতত্র রাসায়নিকের গুদাম জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিশুদ্ধ পানি, যানজট ও জলাবদ্ধতা সমস্যা দেখা যায়। নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানসহ তীব্র গ্যাস সংকট নিরসনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করব।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসহাক সরকার বলেন, ‘আমি দলের থেকে ইনসাফ পাইনি। এই এলাকার জনগণ আমাকে দাঁড় করিয়েছে। আমি শতভাগ আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ। নির্বাচিত হলে এলাকার সব সমস্যা নিরসনে কাজ করব।’

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নিজের জয় নিয়ে শতভাগ আশাবাদী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এনায়াত মোল্লা। তিনি বলেন, ‘জয়ী হব। আমি জয়ী হলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করব এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেব। বাসাবাড়িতে গ্যাস সমস্যা দূর করব। পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের পাশাপাশি শিশুদের জন্য খেলার মাঠ নির্মাণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ করে পুরান ঢাকাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলব।’

ঢাকা-১২ আসন: তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, পশ্চিম নাখালপাড়া, আরজতপাড়া, কারওয়ান বাজার, তেজতুরী বাজার, তেজকুনীপাড়া, রাজাবাজার, গ্রিন রোড, বড় মগবাজার, দিলু রোড, মধুবাগ, মগবাজার এলাকা নিয়ে এই আসন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটিতে ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩২০ জন। গত নির্বাচনে এই আসনে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১১১ জন। অর্থাৎ দুই বছরে ভোটার বেড়েছে ২০৯ জন।

এ আসনে বিএনপি ও সমমনা জোটের প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক লড়ছেন নিজ দলের প্রতীক কোদাল নিয়ে। এতে বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন জামায়াত ও সমমনা জোটের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল আলম নীরব। এই তিন প্রার্থী নিয়েই ভোটের মাঠে চলছে আলোচনা।

এ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন আমজনতার দলের তারেক রহমান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মোমিনুল আমিন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুস্তাফিজুর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সালমা আক্তার, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মুনতাসির মাহমুদ, গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির নাঈম হাসান।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব ও জামায়াতের সাইফুল আলমের মধ্যে। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও বিএনপির স্থানীয় সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের বিপরীতে জামায়াতের শৃঙ্খলিত ভোটব্যাংক এবং কৌশলী প্রচার—এ দুই শক্তি ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত তাদের।

বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাটি দীর্ঘদিনের নানা সমস্যায় জর্জরিত। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, যানজট ও মাদকের বিস্তারে বিপর্যস্ত জনগণ। এবার ভোটাররা ভাবছেন ভিন্নভাবে।

স্থানীয়রা বলেছেন, প্রার্থী নয়, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসমুক্ততার ইস্যুই এবার ভোটারদের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখবে।

বিএনপি সমমনা জোটের প্রার্থী সাইফুল হক বলেন, ‘এলাকার প্রধান সমস্যা হলো দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখলদারিত্ব এবং মাদক। সুযোগ পেলে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব। এ এলাকাকে বাসযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিএনপি নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে কাজ করছেন। আশা করছি, স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে দলের পক্ষে কাজ করবেন।’

বিজয়ী হয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন। তিনি বলেন, ‘সমস্যায় জর্জরিত এ অঞ্চল। এ আসনে কাজ করার সুযোগ পেলে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব। এ ছাড়া তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় দীর্ঘদিনের সমস্যা ট্রাকস্ট্যান্ড। এটারও বিকল্প চিন্তা করে সরানোর ব্যবস্থা করব।’

জনদাবির মুখে দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই ভোটের মাঠে রয়ে গেছেন বলে জানান স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘এলাকার সাধারণ মানুষের চাপের মুখেই আমি নির্বাচন করছি। দল-মত নির্বিশেষে মানুষ আমাকে ভোট দেবে বলেই বিশ্বাস। প্রধান অগ্রাধিকার হবে এলাকাকে মাদক, চাঁদাবাজ ও কিশোর গ্যাংমুক্ত করা। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ড্রেনেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ঢাকা-১৪ আসন: রাজধানীর প্রবেশমুখের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ও বনগাঁও ইউনিয়ন এবং ডিএনসিসির ৬টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪ জন। গত নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ১৮ হাজার ২১২ জন, অর্থাৎ দুবছরে ভোটার বেড়েছে ৩৭ হাজার ৮৩২ জন।

সর্বশেষ নির্বাচনে এ আসনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তার আগে ২০০১ সালে এমপি হন বিএনপির এস এ খালেক। ২০০৮ সালের ভোটে জয়ী হন আওয়ামী লীগের আসলামুল হক। ২০১৪ সালের বিএনপিবিহীন নির্বাচনেও জয়ী হয়েছিলেন আসলাম। ২০১৮ সালেও জয়ী আসলামুল হকের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির এবি সিদ্দিক সাজু। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাজু। তার বাবা এস এ খালেক একাধিকবারের সাবেক এমপি। এবারের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি ও জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেমের (ব্যারিস্টার আরমান) পাশাপাশি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাজুকে ঘিরেই হিসাব কষছেন ভোটাররা।

আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু ইউসুফ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রিয়াজ উদ্দিন, গণফোরামের জসিম উদ্দিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সোহেল রানা, এবি পার্টির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের নুরুল আমিন, জাতীয় পার্টির হেলাল উদ্দীন, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ওসমান আলী।

গত বছরের ৫ জানুয়ারি বিএনপির সাবেক এমপি এস এ খালেক মারা যান। দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ ধরেই নিয়েছিলেন যে এরপর দলীয় মনোনয়ন পাবেন তার ছেলে সাজু। তবে পরবর্তী সময়ে হিসাব পাল্টে যায়। আসনটি থেকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলে গুমের শিকার মীর আহমাদ বিন কাসেম, যিনি ব্যারিস্টার আরমান নামেও পরিচিত। এ আসনে বিএনপিও তুরুপের তাস হিসেবে সামনে নিয়ে আসে বিগত সরকারের আমলে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোকে দলবদ্ধ করার কারিগর সানজিদা ইসলাম তুলিকে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দেন সাজুও, যা নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন এনে দেয়।

স্থানীয়রা বলেন, এ আসনের ভোটের হিসাব এবার অত্যন্ত জটিল। এখানে যেমন একদিকে রয়েছে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, আবার অন্যদিকে রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদভুক্ত গ্রামাঞ্চলও। এ ছাড়া পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বিপুল ভোটার গোষ্ঠীও প্রভাব ফেলতে পারে ভোটের সমীকরণে।

বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি ঢাকা-১৪ আসনকে নারীদের জন্য নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে বলেন, ‘মাদকচক্র ভেঙে তরুণ সমাজকে সুরক্ষিত করা এবং নারী সমাজকে মূলধারায় আনাই হবে প্রধান লক্ষ্য। এ জনপদটি দীর্ঘদিন ধরে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। মাঠে নেমে নারীদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, অনেকে জানেনই না কী কী নাগরিক সুবিধা তাদের পাওয়ার কথা। আমার প্রতিশ্রুতিগুলো সরাসরি এ বাস্তবতা থেকেই এসেছে।’

প্রচারে নেমে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন বলে ভাষ্য স্বতন্ত্র প্রার্থী এবি সিদ্দিক সাজুর। তিনি বলেন, বনগাঁও ও আশপাশের ইউনিয়নগুলোয় ছোটবেলা থেকেই তার আত্মীয়তা, সামাজিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। এলাকাবাসী তাকে নিজেদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছে। তার প্রতীক নয়, বরং অতীত কর্মকাণ্ড, সক্ষমতা ও ব্যক্তিগত পরিচিতিই ভোটারদের কাছে মুখ্য হয়ে উঠেছে।

জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান বলেন, ‘ঢাকা-১৪ রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হলেও এলাকাটি এখনো উপেক্ষিত। এ জনপদকে ভোক্তা অঞ্চল নয়, বরং একটি উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তর করতে চাই, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।’ ভোটের মাঠে প্রচারে নেমে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের স্বার্থ রক্ষায় একমাত্র দল হলো বিএনপি : মির্জা আব্বাস

রাতে বিচারকের বাসায় ককটেল হামলা 

ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

ইসলামের নামে ধোঁকা দেওয়া সহ্য করবে না মানুষ : ১২ দলীয় জোট 

ভোটে সহিংসতার দায় আ.লীগের কেন, ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিএনপির আরও ১১ নেতাকে বহিষ্কার

চবির নতুন ডিনকে আ.লীগপন্থি দাবি করে জাতীয়তাবাদী ফোরামের ক্ষোভ

ভারতের কূটনীতিকদের পরিবার সরানোর কোনো কারণ খুঁজে পাই না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

ভিসানীতিতে পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের জন্য বড় ধাক্কা

১০

বিএনপির ৪ নেতার পদত্যাগ

১১

কবে পদত্যাগ করবেন, জানালেন ডাকসুনেতা সর্বমিত্র চাকমা

১২

সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত

১৩

আর কোনো স্বৈরাচার না চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে : আসিফ মাহমুদ

১৪

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা

১৫

কে এই তামিম রহমান?

১৬

চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু, পৃথিবীতে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টির আশঙ্কা

১৭

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সার্ভেয়ার সমিতির নতুন কমিটি / সভাপতি আব্বাস, সম্পাদক নুরুল আমিন

১৮

ড্যাফোডিলের ১৩তম সমাবর্তনে চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান

১৯

স্ত্রী-সন্তানের কবর ছুঁয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সাদ্দাম

২০
X