বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩৩
মো. ওমর ফারুক, ভোলা
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০২ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ভোলা

তিন আসনে এগিয়ে বিএনপি জোট

তিন আসনে এগিয়ে বিএনপি জোট

ভোলার চারটি আসনেই প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী লড়াই জমে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতীকের মিছিলে সরগরম হয়ে উঠেছে পথ-ঘাট, অলিগলি। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। চায়ের দোকানগুলোতেও সাধারণ মানুষের প্রধান আলোচনার বিষয় ভোট। আগামী সংসদ নির্বাচনে কোন দল ক্ষমতায় যাবে, ভোলার আসনগুলোর মধ্যে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি, কে সংসদে গেলে এই দ্বীপ জেলাটির মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা বলবে, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

ভোলা-১: সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে এবার পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে বিএনপি জোটের ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওবায়দুর রহমান, এনপিপির মো. মিজানুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান (জুয়েল মিয়া)।

এ আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীরকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে আসনটি ছেড়ে দেন আন্দালিব রহমান পার্থকে। তাতে বিএনপিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা গেলেও এখন গরুর গাড়িকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ। পার্থ নিজ দলসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় হেঁটে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ঘরে ঘরে গ্যাস সরবরাহ, শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্দালিব রহমান পার্থের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নজরুল ইসলাম তীব্র লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত পার্থেরই বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেটা নির্ভর করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থেকে তার হয়ে কাজ করেন কি না।

ভোলা-২: দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা নিয়ে ভোলা-২ আসন গঠিত। স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকে (বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ঘিরেই এ এলাকার রাজনীতি। এরশাদ শাসন আমলে জাতীয় পার্টির একটা প্রভাব থাকলেও এরশাদ পতনের পর বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এই দুই দল ছাড়া সংসদ নির্বাচনে আসন দখল করার মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে আর কোনো দল গড়ে উঠেনি।

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে সাতজন প্রার্থী রয়েছেন। তবে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক সাংসদ হাফিজ ইব্রাহিম ও জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম। প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যরা হলেন জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু, আমজনতা দলের মো. আলাউদ্দিন, স্বতন্ত্র মো. জাকির হোসেন খন্দকার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মোকফার উদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র তাছলিমা বেগম।

মাঠপর্যায়ে ভোটারদের সঙ্গে আলোচনা ও স্থানীয় জনমত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমকেই এগিয়ে রাখছেন ভোটাররা। তারা বলছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের মামলা-হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি হাফিজ ইব্রাহিম। নেতাকর্মীদের দুর্দিনে জেলে বসেও এলাকার খোঁজ খবর রেখেছেন তিনি। এলাকায় সক্রিয় রাজনৈতিক ভূমিকা, দৌলতখান-বোরহাউদ্দিনে উন্নয়নের ভূমিকা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং অতীত সংসদীয় অভিজ্ঞতার কারণে হাফিজ ইব্রাহিমের প্রতি ভোটারদের একটি পক্ষপাতিত্ব লক্ষ করা গেছে।

অন্যদিকে সাংগঠনিক দিক থেকে জামায়াতের অবস্থান এ আসনে অতটা মজবুত না থাকলেও ভোটের মাঠে নারী ভোটারর ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ভোটব্যাংকের ওপর টার্গেট করেই নির্বাচনের মাঠে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন তারা। কেউ কেউ মনে করছেন এই বাড়তি সুবিধা নিয়ে ভোটের মাঠে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম।

ভোলা-৩: লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ১৯৮৬-২০০১ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি, স্বতন্ত্র ও বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ২০০৮ সাল থেকে এ আসনটি নিয়ন্ত্রণে নেয় আওয়ামী লীগ। এবার বিএনপির ব্যানারে আসনটি পুনরুদ্ধারে চেষ্টা করে যাচ্ছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

এ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপির) মহাসচিব মো. নিজামুল হক নাঈম। ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী তরুণ এই নেতা এরই মধ্যে এলাকায় বেশ সারা ফেলেছেন। তবে ভোটার হিসাবনিকাশ ও যোগ্যতার বিচারে ধানের শীষের প্রার্থী মেজর হাফিজই বিজয়মাল্য পরবেন বলে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা।

ভোলা-৪: চরফ্যাসন ও মনপুরা উপজেলার পর্যটন এলাকা চর কুকরি, মনপুরা, সাগরবেষ্টিত ইউনিয়ন ঢালচর, পাতিলা মিলে এ সংসদীয় আসনটি গঠিত। প্রায় পৌনে ৫ লাখ ভোটারের বসবাস এ এলাকায়। ১৯৮৪ সালে জেলা বিভক্তির পর জাতীয় পার্টি দিয়ে এ আসনটির সংসদীয় শাসন শুরু হলেও এ আসনটি বেশিরভাগই শাসন করেছে আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে ছাত্রনেতা নাজিম উদ্দিন আলম বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির পরিচিতি লাভ করতে শুরু করে। তবে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। মনোনয়ন পাওয়ার পর অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে বিজয়ের লক্ষ্যে এলাকাকে বিএনপির দুর্গে পরিণত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।

এদিকে ফুরফুরে অবস্থানে রয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল। বিএনপি যখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দলীয় কোন্দলে ব্যস্ত, তখন জামায়াতের এই প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ গোছাতে কাজ শুরু করেন। তবে স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, ধানের শীষের প্রার্থী নূরুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার মোস্তফা কামালের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই না হলেও তিনি ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশের স্বার্থ রক্ষায় একমাত্র দল হলো বিএনপি : মির্জা আব্বাস

রাতে বিচারকের বাসায় ককটেল হামলা 

ফরিদপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

ইসলামের নামে ধোঁকা দেওয়া সহ্য করবে না মানুষ : ১২ দলীয় জোট 

ভোটে সহিংসতার দায় আ.লীগের কেন, ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিএনপির আরও ১১ নেতাকে বহিষ্কার

চবির নতুন ডিনকে আ.লীগপন্থি দাবি করে জাতীয়তাবাদী ফোরামের ক্ষোভ

ভারতের কূটনীতিকদের পরিবার সরানোর কোনো কারণ খুঁজে পাই না : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বৃহস্পতিবার যেসব এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

ভিসানীতিতে পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের জন্য বড় ধাক্কা

১০

বিএনপির ৪ নেতার পদত্যাগ

১১

কবে পদত্যাগ করবেন, জানালেন ডাকসুনেতা সর্বমিত্র চাকমা

১২

সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম নিহত

১৩

আর কোনো স্বৈরাচার না চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে : আসিফ মাহমুদ

১৪

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা

১৫

কে এই তামিম রহমান?

১৬

চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু, পৃথিবীতে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টির আশঙ্কা

১৭

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সার্ভেয়ার সমিতির নতুন কমিটি / সভাপতি আব্বাস, সম্পাদক নুরুল আমিন

১৮

ড্যাফোডিলের ১৩তম সমাবর্তনে চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান

১৯

স্ত্রী-সন্তানের কবর ছুঁয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সাদ্দাম

২০
X