

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালায় একজন শিক্ষক চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন। নারী শিক্ষক, দূরত্ব, স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল ও জ্যেষ্ঠতা—এই চারটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বদলির আবেদন অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। যারা নিজ জেলায় কর্মরত, তারা নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন না। তবে যারা নিজ জেলার বাইরে কর্মরত, তারা নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন।
গতকাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের স্বাক্ষরে নীতিমালা জারি করা হয়। একই দিন এটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এই বদলির জন্য দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
নীতিমালায় সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো বেসরকারি শিক্ষকদের নিজ জেলায় ফেরার সুযোগ। কোনো শিক্ষক যদি বর্তমানে নিজ জেলার বাইরে কর্মরত থাকেন, তবে তিনি নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে বর্তমানে নিজ জেলায় কর্মরত শিক্ষকরা একই জেলার ভেতরে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারবেন না। নিজ জেলায় শূন্যপদ না থাকলে আবেদনকারী তার নিজ বিভাগের যে কোনো জেলায় বদলির সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায়ও বদলির আবেদন করা যাবে। একই উপজেলায় কর্মরত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বর্তমান উপজেলার কেন্দ্র থেকে কাঙ্ক্ষিত উপজেলার কেন্দ্রের দূরত্ব বিবেচনা করা হবে। ভিন্ন উপজেলা বা ভিন্ন জেলার ক্ষেত্রে যথাক্রমে জেলা কেন্দ্র থেকে জেলা কেন্দ্রের দূরত্ব নির্ণয়ের মাধ্যমে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। দূরত্ব পরিমাপে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত মডেল অনুসরণ করা হবে।
নীতিমালায় একটি পদের বিপরীতে একাধিক আবেদনকারী থাকলে চারটি বিষয় বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে। নারী আবেদনকারীরা বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন, বর্তমান কর্মস্থল থেকে কাঙ্ক্ষিত কর্মস্থলের দূরত্ব (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মডেল অনুযায়ী), স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল (এ ক্ষেত্রে আধা-সরকারি বা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে হবে) এবং এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী চাকরির বয়স বা জ্যেষ্ঠতা বিবেচনায় আনা হবে।
প্রথম যোগদানের অন্তত দুই বছর পূর্ণ হলে তবেই বদলির আবেদন করা যাবে। একবার বদলি হওয়ার পর ফের আবেদনের জন্য আরও দুই বছর অপেক্ষা করতে হবে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এক বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষক এক বছরে বদলি হতে পারবেন না। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) অনলাইনে শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করবে। শিক্ষকরা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনে কোনো ভুল বা অসত্য তথ্য দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এনটিআরসিএ-এর নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার আগেই বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে শিক্ষক নিয়োগ ও বদলিতে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা দূর এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন