

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ করা হবে। এতে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ পুরোপুরি মেধাভিত্তিক ও কেন্দ্রীয় পরীক্ষার আওতায় এলো। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত পরিপত্র প্রকাশ করা হয়।
পরিপত্র অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্যপদে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের জন্য শিগগির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পরীক্ষার কাঠামো ও নম্বর বণ্টন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের তিন ধাপে পরীক্ষা দিতে হবে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষা ৮০ নম্বরের, শিক্ষাগত সনদে ১২ এবং মৌখিক পরীক্ষা হবে ৮ নম্বরের। পাস নম্বর ধরা হয়েছে ৪০।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের থেকে শূন্যপদের সর্বোচ্চ তিন গুণ প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হবেন। সব ধাপের মোট নম্বরের ভিত্তিতে মেধাক্রম অনুযায়ী ১:১ অনুপাতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচিত প্রার্থীরা সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম দিতে পারবেন। প্রয়োজনে ‘Other Option’-এ সম্মতি দিয়ে পছন্দের বাইরে নিয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে। এনটিআরসিএ নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে বাধ্য থাকবে। ফৌজদারি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত অথবা বিভাগীয় মামলায় শাস্তি পাওয়া প্রার্থীরা এই নিয়োগে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
পরিপত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব বিধিমালা জরুরিভিত্তিতে সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এই পরিপত্র বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে অনিয়ম কমবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্তব্য করুন