গত ঈদে ছুটি পাওয়ায় এবার ছুটি নেই। কোরবানি ঈদে গরুর হাটের কারণে রাস্তায় প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়। তাই আমার স্বামী ময়মনমসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন রায়হানুল ইসলামেরও এবার ছুটি নেই। তাই আমাদের সঙ্গে এবারের ঈদ উদযাপন করতে পারছেন না। দুই মেয়ে ১৬ বছরের আয়শা আর ৪ বছরের আরশি। ওদের নিয়েই আমার এবারের ঈদ আয়োজন। সকালবেলা মেয়েদের নিয়ে মায়ের বাসায় যাব। ডিউটি না থাকলে মায়ের বাসায় খাওয়াদাওয়া করব। ডিউটি থাকলে মেয়েদের মায়ের বাসায় রেখে চলে যাব। ডিউটি থেকে ফিরে এসে বাকি সময়টা মেয়েদের নিয়ে মায়ের সঙ্গে কাটাব।
কাজের ফাঁকে ফাঁকে এবারের ঈদ উদযাপন করব। সহকর্মীদের ৬০ ভাগ অফিসে দায়িত্ব পালন করবে, বাকি ৪০ ভাগ ঈদ ছুটি কাটাবে। আমরা সবাই একটা ঈদে ছুটি পাই। আমাদের ছুটি বা ডিউটি না থাকলেও কাজের প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। ঈদের দিন ঢাকা শহরের যে কোনো প্রান্তে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ডাকামাত্রই যাতে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছে যেতে পারি। ঈদগাহ ময়দানেও ডিউটি পড়তে পারে। কারণ সেখানে নারী-পুরুষ উভয়েরই জামাতের ব্যবস্থা থাকে। সন্ধ্যার দিকে চামড়ার আড়ত যেখানে যেখানে রয়েছে, সেখানে কখনো কখনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। সেখানে যেতে হতে পারে। এসব ভেবে দূরে কোথাও যাওয়ার কথা ভাবতে পারি না। কাউকে বাসায় দাওয়াতও দিতে পারি না।
ঈদের দিন রাতে আমাদের পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয় আইজিপি (পুলিশ প্রধান) স্যারের বাসায়। সেখানে সব পুলিশ কর্মকর্তা মিলিত হই। সব র্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকেন। এই সুবাদে সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় হয়। আইজিপি স্যার তার পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদের আপ্যায়ন করেন।
ঈদের এক বা দুদিন পর কমিশনার স্যারও ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করেন। সবার সঙ্গে দেখা, খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি গল্পও চলবে।
মাহমুদা আফরোজ লাকী, পিপিএম, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স, ডিএমপি
মন্তব্য করুন