আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৪০ এএম
অনলাইন সংস্করণ

কিস্তির টাকা না পেয়ে হাঁস নিয়ে গেল এনজিও কর্মী

টিএমএসএস এনজিওর অফিসে ঋণগ্রহীতার বাড়ি থেকে ধরে আনা হাঁস। ছবি : কালবেলা
টিএমএসএস এনজিওর অফিসে ঋণগ্রহীতার বাড়ি থেকে ধরে আনা হাঁস। ছবি : কালবেলা

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় টিএমএসএস এনজিওর কিস্তির টাকা দিতে না পারায় গৃহস্থের চিনাহাঁস নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. মুরাদ হোসেনের স্ত্রী হাফিজা খানম ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘের (টিএমএসএস) সদস্য। ওই এনজিও থেকে ২০২৫ সালের প্রথম দিকে ৬০ হাজার টাকা লোন উত্তোলন করেন হাফিজা খানম। প্রতি সপ্তাহে ১ হাজার ২৫০ টাকা করে নিয়মিত কিস্তি দিয়ে আসছিলেন।

মঙ্গলবার দুপুরে কিস্তির টাকা উত্তোলন করতে ওই এনজিওর মাঠকর্মী ফিরোজ খানসহ দুজন আসেন হাফিজা খানমের বাড়িতে। এ সময় হাফিজা কিস্তি দিতে অপারগতা জানান। কিন্তু ফিরোজ খান নাছোড়বান্ধা, কিস্তির টাকা না নিয়ে হাফিজার বাড়ি থেকে যাবেন না। ফিরোজ খান হাফিজার উঠানে থাকা হাঁস-মুরগি দেখে টাকার পরিবর্তে হাঁস দাবি করেন। হাফিজা কিস্তির পরিবর্তে হাঁস দিতে অপারগতা জানিয়ে পাশের বাড়িতে চলে যান। টিএমএসএস মাঠকর্মী ফিরোজ খান ও তার সঙ্গে থাকা সহযোগীকে নিয়ে ধাওয়া করে হাফিজার বাড়ি থেকে একটি চিনাহাঁস ধরে নিয়ে যান।

ঋণগ্রহীতা হাফিজা খানম বলেন, সর্বশেষ একটি কিস্তির টাকা আগামী সপ্তাহে পরিশোধ করার কথা বললেও এনজিওর মাঠকর্মীরা আমার বাড়ির উঠান থেকে ধাওয়া করে বড় একটি চিনাহাঁস ধরে নিয়ে যায়। তখন আমি বাড়ি ছিলাম না। ওই হাসঁটির দাম দেড় হাজারেরও বেশি হবে। আমার মেয়ে লাবিবার পালিত শখের হাসঁটি ফেরত চাই।

উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সভাপতি কাজল দাস গুপ্ত বলেন, কিস্তির টাকার পরিবর্তে ঋণগ্রহীতার বাড়ি থেকে কোনো জিনিসপত্র আনার বৈধতা নেই। সদস্যের বাড়ি থেকে হাঁস আনার বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত। টিএমএসএস এনজিও আগৈলঝাড়া উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের আওতাভুক্ত নয়।

অভিযুক্ত টিএমএসএস এনজিওর মাঠকর্মী ফিরোজ খান ঋণগ্রহীতা হাফিজা খানমের বাড়ি থেকে হাঁস আনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কিস্তির টাকার পরিবর্তে ৮০০ টাকা দাম ধরে হাঁস আনা হয়েছে।

টিএমএসএস এনজিওর ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম বলেন, ঋণগ্রহীতা হাফিজা খানম হাঁস বিক্রি করে পরে টাকা দেবে। আমার এনজিওর মাঠকর্মী দাম ধরে কিনে আনলে অপরাধের কিছু নয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তপন বিশ্বাস বলেন, এ এনজিওটি আমার উপজেলার আওতাভুক্ত নয়। তারা কীভাবে এ উপজেলায় কাজ করে আমার জানা নেই। কিস্তির টাকার পরিবর্তে হাঁস আনার বিষয়টি অবৈধ।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আবারও স্বর্ণের দামে রেকর্ড

এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাইয়ে ১১ সদস্যের কমিটি

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের যে অভিযোগ দিল জামায়াত

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে তরুণদের নেতৃত্ব জরুরি : মেয়র ডা. শাহাদাত

গভীর নলকূপে পড়া সেই শিশু উদ্ধার

১৪ বছর পর ঢাকা থেকে করাচি যাবে বিমানের ফ্লাইট 

বিএনপিতে যোগ দিলেন জাতীয় পার্টির ৩ শতাধিক নেতাকর্মী

খেলাপিদের নাম-ছবি প্রকাশ ও বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিতে চায় ব্যাংকগুলো

সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুত : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ায় জামায়াত নেতার বাড়িতে আগুন

১০

নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা করা হবে : আসিফ

১১

ক্রেতা দেখলেই মরার ভান ভেড়ার, দামে রেকর্ড

১২

‘রাজনীতি আমার ইবাদত, এটা দিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ নেই’

১৩

শেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত

১৪

দেশে ফিরে কোন ব্যাটে খেলবেন সাকিব, জানালেন তারই বন্ধু

১৫

ফোনের চার্জিং পোর্টে এই ৫টি জিনিস কখনোই লাগাবেন না

১৬

৫ দফা দাবিতে বারির শ্রমিকদের বিক্ষোভ 

১৭

গণভোট নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

১৮

বিএনপির ১৮ নেতাকর্মী বহিষ্কার

১৯

ফোনের ইন্টারনেট স্লো, সহজ ৯ কৌশলে হুহু করে বাড়বে স্পিড

২০
X