কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম
আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:০৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সা ক্ষা ৎ কা র

ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে জনগণের চাহিদা হারিয়ে গেছে

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান
ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে জনগণের চাহিদা হারিয়ে গেছে

অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের চেয়ারপারসন। অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর, নির্বাচন, সংস্কার, তরুণদের শক্তিসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলেন

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের পারফরম্যান্স কেমন দেখছেন?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে কথা বলতে গেলে এর তিনটি দিক বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রথমটি হলো এ সরকারের উদ্ভব। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্ভব হয়েছে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী তাৎক্ষণিক রাষ্ট্রীয় সংকট থেকে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী যেভাবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছিল, তখন রাষ্ট্র ছিল এক গভীর সংকটে। প্রশ্ন ছিল, সরকার গঠন কীভাবে হবে, প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া কী হবে, তারা এ পরিবর্তনে কী ভূমিকা নেবে এবং বিশ্বের সঙ্গে কীভাবে দ্রুত একটি কার্যকর সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে। অর্থাৎ শুরুতেই বিষয়টি ছিল রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবিলার, যেখানে একদিকে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, অন্যদিকে সরাসরি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং পাশাপাশি অর্থনৈতিক ঝুঁকিও ছিল।

অর্থনীতির সূচকগুলো যেমন ডলার ও টাকার বিনিময় হার ছিল উদ্বেগজনক, রিজার্ভ ছিল দুর্বল—সব মিলিয়ে অত্যন্ত অনিশ্চিত অবস্থায় ছিল বাংলাদেশ। আস্থার সংকট যেন সংক্রামক হয়ে না ওঠে, সেটি সামাল দেওয়াও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথম অধ্যায়টি ছিল টিকে থাকার—ভূরাজনৈতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়ার অধ্যায়। এ ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে অন্তর্বর্তী সরকার কিছুটা সক্ষম হয়েছে। এর ফলেই আজ এক বছর পরও তাদের নিয়ে আলোচনা করছি। না হলে শুরুতেই হয়তো সরকার অচল হয়ে যেত। আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলো, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ সংকট সামাল দেওয়া গেল আর তখন থেকে শুরু হলো দ্বিতীয় অধ্যায়।

দ্বিতীয় অধ্যায়ের মূল প্রশ্ন ছিল, মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ। জুলাই-আগস্টে পটপরিবর্তনের পর জনগণের মনে যে বিস্ফোরণ ঘটেছিল—আকাঙ্ক্ষার, গণতন্ত্রের চাহিদা, দুর্নীতি থেকে মুক্তি, কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান এবং রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় সংস্কারের দাবি—এসবই সামনে আসে। তরুণ, নারী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের নানা স্তরের চাহিদা কীভাবে পূরণ করা যাবে, সেই পথ নির্ধারণ করাই ছিল সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায়। এ অধ্যায়কে বলা যায় আকাঙ্ক্ষার অধ্যায়। এখানে রাজনৈতিক ঝুঁকি নয়, মানুষের চাহিদা পূরণ করাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। সংস্কারের ধারণা সমাজে আলোচিত ও আলোড়িত হয়েছে, এটি এক ধরনের সাফল্য। কিন্তু দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে তৃতীয় অধ্যায়ে উত্তরণও জরুরি। আমি তৃতীয় অধ্যায়কে বলব উত্তরণের অধ্যায়। প্রথম অধ্যায় ছিল টিকে থাকা, দ্বিতীয় অধ্যায় ছিল আকাঙ্ক্ষার পূর্বশর্ত তৈরি আর তৃতীয় অধ্যায় হবে উন্নতির বা উত্তরণের।

তবে এক বছরের মাথায় কিছু মৌলিক ত্রুটিও চোখে পড়েছে। প্রথমত, কর্মপন্থায় দুর্বলতা। অন্তর্বর্তী সরকারের বড় শক্তি হলো কার্যকর কোয়ালিশন—সরকারি স্তরের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের সমন্বয়। কিন্তু সেই রাজনৈতিক কাজে ঘাটতি ছিল। হাতে অনেক কাজ নেওয়া হলেও সেগুলোর গতি বা অগ্রগতি প্রত্যাশিতভাবে হয়নি।

কালবেলা: এক বছরে আসলে কতটুকু এগোনো গেছে?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: এ সময়ে বিশেষভাবে দুটি ত্রুটি স্পষ্ট। প্রথমটি হচ্ছে অতিরিক্ত এজেন্ডা হাতে নেওয়া। যথেষ্ট রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পুঁজির অনুপস্থিত সত্ত্বেও একসঙ্গে অনেক এজেন্ডা খোলা হয়েছে। ফলে সুপরিকল্পিতভাবে এগোনোর পরিবর্তে কিছুটা গন্তব্যহীন অবস্থা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, এজেন্ডার আধিক্য দেখা গেলেও তা যথেষ্ট সুচিন্তিত ছিল না।

অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় বড় ধরনের ত্রুটি ছিল তাদের অতিরিক্ত আমলানির্ভরতা। তারা কার্যত আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার পরিবর্তে আমলাতান্ত্রিক শাসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এখানে অবশ্য একটা পার্থক্য স্পষ্ট করা দরকার, আমলাতন্ত্র ও আমলাতান্ত্রিক শাসন এক নয়। আমলাতন্ত্রকে যদি সঠিকভাবে পরিচালিত করা যায়, তাহলে তারা অনেক ভালো কিছু প্রদান করতে পারে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক শাসন মানে হলো আমলারাই রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে—তারা এজেন্ডা লিখছে, নোট লিখছে, মিটিং মিনিটস তৈরি করছে, অগ্রগতি কেমন হবে সেটির ব্যাখ্যাও তারাই দিচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দ্বিতীয় এই ত্রুটির মধ্যে পড়ে গেল। তারা অতিমাত্রায় আমলানির্ভর হয়ে গেলেন। এ দুটি বড় ধরনের ত্রুটি—একদিকে অতিরিক্ত এজেন্ডা নেওয়া, অন্যদিকে আমলাতান্ত্রিক শাসনের ওপর নির্ভরতা; যখন একসঙ্গে প্রকাশ পেতে শুরু করে, তখন পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে, বিশেষ করে জানুয়ারি ২০২৫-এর শুরু থেকেই, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ধীরে ধীরে এ সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝতে শুরু করে।

জুলাই-আগস্টের পরিবর্তনের পর সাধারণ মানুষ, প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন শ্রেণির অ্যাক্টররা শুরুতে এক ধরনের মানিয়ে নেওয়ার মনোভাব দেখিয়েছিল। তারা ভেবেছিল, পরিবর্তন হলে মানিয়ে নিতে হবে। কিন্তু ডিসেম্বর আসার পর ধীরে ধীরে তারা বুঝে গেল যে, অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার একটি বড় ঘাটতি আছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি আবার ‘ব্যাক টু নরমাল’ ধাঁচে ফিরে গেল।

কালবেলা: অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা কখন স্পষ্ট হয়ে উঠল?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: দুর্নীতির প্রসঙ্গ দেখলে বোঝা যায়। দৃশ্যমান দুর্নীতির অনেক কিছু কমেছে, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি প্রতিটি খাতেই রয়ে গেছে। এমনকি অনেক খাতে দুর্নীতি আগের মতোই আছে বা কিছু ক্ষেত্রে আরও গভীর হয়েছে। ২০২৫ সালে এসে এ ত্রুটিগুলোর পাশাপাশি যখন মানুষের সামনে সরকারের সীমাবদ্ধতা ও সক্ষমতার ঘাটতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল, তখন আরেকটি ঘাটতি ধরা পড়ল—সেটি হলো রাজনৈতিক সাহসের অভাব।

সাহস বলতে বোঝাচ্ছি, তারা অনেক বেশি এজেন্ডা সামনে এনেছেন; কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ রাজনৈতিক সাহস দেখাতে পারেননি। বলা হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার চালিয়ে যাচ্ছেন, চেষ্টা করছেন, এটিতে কারও আপত্তি নেই। কিন্তু কেবল ‘চেষ্টা করছেন’ এ বাক্য দিয়ে জনগণকে আর সন্তুষ্ট করা যাচ্ছে না। যখন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী গোষ্ঠীগুলো সরকারের কাজের মূল্যায়ন করল, তখন তারা দেখল সরকারের সক্ষমতার একটি সীমা আছে। এর ফলে সরকারের নিয়ন্ত্রণও প্রত্যাশিতভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারল না।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোর্স কারেকশন বা চলার পথে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা। একটি সফল ও সক্ষম রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সময়মতো সুচিন্তিত কোর্স কারেকশন করা। যখন দেখা যায় বাস্তব অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কিছু পরিবর্তন দরকার, তখন সেটি করার মানসিকতা থাকতে হয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে এক ধরনের একগুঁয়েমি মনোভাব সামনে এসেছে। তারা প্রায় ঘোষণা করে দিয়েছে, যা চলছে তাই চলবে, কোনো ধরনের কারেকশন করা হবে না। এর ফলেই আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে সরকারের অবস্থান দুর্বল হয়ে যাচ্ছে।

এখন যদি আমরা সংস্কারের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখব, অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক সংস্কারের দিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ ব্যয় করেছেন। জনগণের চাহিদা হলো প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, যেখানে দুর্নীতি-হয়রানি রোধ, অর্থনীতিকে সচল করা, উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা ইত্যাদি।

নিঃসন্দেহে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতে কিছু সংস্কার হয়েছে, সরকারি প্রকিউরমেন্ট নিয়ে ইতিবাচক কিছু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারেরও আশা আছে। এগুলো খারাপ নয়, বরং কিছু ভালো কাজ হয়েছে। ঘোষিত সংস্কারের বাইরেও কিছু সংস্কার করার সুযোগ আছে, সেটি নিয়েও আশা করা যায়। তবে সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, সাংবিধানিক সংস্কারকেই অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেটির দিকনির্দেশনা স্পষ্ট নয়।

কালবেলা: অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা কী?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: জাতীয় ঐক্য সংহত করার ক্ষেত্রে সরকারের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম দায়িত্ব ছিল জাতীয় ঐক্যকে সংহত করা, বিভক্ত রাজনৈতিক অঙ্গনকে অন্তত আংশিকভাবে ঐক্যবদ্ধ করা। কিন্তু বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, তারা সময় পার করেছেন বটে, কিন্তু জাতীয় ঐক্যকে পুরোপুরি সংহত করতে সফল হননি। বরং নতুন নতুন প্রশ্ন ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে। ফলে আজ জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গন আরও বেশি অস্থির এবং অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নানা ধরনের পক্ষ থাকতে পারে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকা দরকার। কারণ, একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য প্রতিযোগিতাপূর্ণ রাজনীতি অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেটি সুস্থ এবং আশাপ্রদ রাজনৈতিক মাঠ তৈরি করছে না, বরং উত্তরণের পথে এক ধরনের অন্ধকার রেখা টেনে দিচ্ছে।

আমরা দেখছি, নির্বাচন পর্ব পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে। আর এ মুখোমুখি অবস্থান মূলত নির্বাচনের নিয়মাবলি নিয়েই। অর্থাৎ, মৌলিক বিষয় নিয়েই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে আরও যোগ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ। কখনো এক ধরনের, আবার কখনো অন্য ধরনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। যদিও ভবিষ্যতে এগুলো আরও বিশ্লেষিত হবে, তবে তাদের দুর্বল বার্তা ও দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক উপস্থিতিই রাজনৈতিক দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থান ত্বরান্বিত করেছে।

কালবেলা: রাজনীতিতে কি কোনো পরিবর্তন এসেছে?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: রাজনৈতিক দলগুলোর মূল কাজ ছিল জনগণের সামনে দুটি বিষয় স্পষ্ট করা। প্রথমত, নির্বাচনের নিয়মাবলি ও রাজনৈতিক মাঠের কাঠামো কী হবে, সে সম্পর্কে একটি গ্রহণযোগ্য ঐকমত্যে আসা। দ্বিতীয়ত, কী ধরনের সমাজ ও অর্থনীতি আমরা চাই, তার একটি পরিষ্কার রূপরেখা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা; কিন্তু সেটি তারা করতে পারেনি। বরং শুরু থেকেই তারা প্রভাববলয় তৈরির দিকে ঝুঁকে গেছে।

প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতির অর্থ হলো, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে নিজেকে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়াগুলো বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরব। কিন্তু তারা সেটি না করে শুরু থেকেই নানা পর্যায়ে প্রভাববলয় তৈরি করতে মনোযোগ দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো প্রশাসনিক যন্ত্রে প্রভাব বিস্তার, কিংবা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বলয় গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সুষ্ঠুভাবে এগোনোর পথে বাধা তৈরি হয়েছে।

আরেকটি দিক হলো—যেসব কারণে শেখ হাসিনার সরকার বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলো তার থেকে শিক্ষা নিতে পারেনি। সেই সরকারের দুর্বলতা ছিল প্রতিপক্ষকে হেয় করা, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া, অনৈতিক আপস ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জোট গড়ে তোলা এবং কর্মীদের অবমূল্যায়ন করা। জনগণ এসব বিষয় বোঝে। অথচ নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোও একই ধরনের প্রভাববলয়কেন্দ্রিক সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়েছে।

তবে ইতিবাচক দিকও আছে। সংস্কার আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো অন্তত অংশ নিয়েছে, জড়িত থেকেছে। যদিও সেটি অনেকটাই আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ধাঁচে—তবুও বলা যায় তারা আলোচনার সংগ্রামে ছিল, সেটি ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।

রাজনৈতিক দলগুলো মুখোমুখি অবস্থানে অনড় ও অসহিষ্ণু থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। যদি একদিকে নৈতিক শক্তি আর অন্যদিকে অনৈতিক শক্তি মুখোমুখি হতো, তবে জনগণ নৈতিক শক্তির পক্ষে দাঁড়াত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এটি নৈতিক বনাম অনৈতিক শক্তির লড়াই নয়, বরং প্রতিপক্ষ প্রভাববলয়ের লড়াই। এটি আসলে ক্ষমতার লড়াই-ক্ষমতা দখল ও ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই। রাজনৈতিক ভাষ্য ও বয়ান দলগুলো কতটুকু বিশ্বাস করে, সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নতুন নতুন বিষয় সামনে আসছে, কিন্তু সেগুলো আসলেই সুচিন্তিত কি না, নাকি কেবল রাজনৈতিক মুখোমুখি অবস্থানকে উসকে দেওয়ার জন্য—এ প্রশ্নও তোলা হচ্ছে।

কালবেলা: সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কী? তরুণ নেতৃত্ব কি গড়ে উঠছে?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: শেখ হাসিনার মতো একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারকে হঠানো জনগণের এক ধরনের বিজয়। তবে স্বল্পমেয়াদে হলেও বলা যায়, এ সংস্কার আলোচনার পুরো প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল ছাড়া আর কোনো স্টেকহোল্ডার নেই বলে মনে হয়েছে। সমাজকে তারা গৌণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। এটি একটি ভুল ধারণা।

জুলাই-আগস্টে যে পরিবর্তন ঘটেছিল, সেটিতে তরুণদের শক্তি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই তারুণ্যের শক্তি এক বছরের বিবর্তনে কিছুটা হতাশাজনকে পর্যবসিত হয়েছে। তারা নতুন কোনো নৈতিক মানদণ্ড তৈরি করতে পারেনি, নতুন ধরনের রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব ঘটাতে পারেনি। এখানে অন্তর্বর্তী সরকারেরও দায় আছে, কারণ তারাও তরুণদের শক্তির ওপর জোর দিয়েছিল। কিন্তু সেই তরুণশক্তিকে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজ যথাযথভাবে করা হয়নি।

এ তারুণ্যের শক্তি দীর্ঘমেয়াদে খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও এই এক বছরে পরিচিত মুখগুলো থেকে নতুন কোনো সংগঠিত শক্তির আবির্ভাব ঘটেনি, তবে সমাজের ভেতরে তরুণশক্তির জাগরণ ঘটেছে। এটিকে বিবেচনায় রাখতে হবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ শক্তি আমাদের আশা পূরণ করবে কি না, সেটা অনিশ্চিত। তবে এটুকু নিশ্চিত যে, এই শক্তি সমাজে রয়ে গেছে। সঠিক পথে না গেলে, এটিই ভবিষ্যতে অস্থিরতার কারণ হতে পারে। তাই রাজনৈতিক দল, সামাজিক চিন্তাশীল নেতৃত্ব, এমনকি অন্তর্বর্তী সরকার—সবাইকে এ তরুণশক্তিকে সঠিক পথে লালন করার দায়িত্ব নিতে হবে।

এ কারণেই আমি মনে করি, নির্বাচন কোনো শেষ মাইলফলক নয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। নির্বাচন শেষ হলেও জনগণ সজাগ থাকবে। তরুণ জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ না হলে, এ শক্তি আবারও বিস্ফোরিত হতে পারে।

কালবেলা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বিষয় ছিল কর্মসংস্থানের সংকট। সেই পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ কি নেওয়া হয়েছে?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের অবস্থা ভয়াবহ। পিপিআরসির মাধ্যমে একটি সার্ভে করেছি, যেখানে দেখা গেছে এক ধরনের এমপ্লয়মেন্ট ইমার্জেন্সি তৈরি হয়েছে। সার্বিক কর্মসংস্থানের অবস্থা খারাপ এবং এর প্রবণতা আরও অবনতির দিকে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারত্ব, ছদ্ম বেকারত্ব, নারীদের কর্মসংস্থান—সবই বিপরীত দিকে হাঁটছে। কর্মসংস্থান বিষয়টি যথাযথ প্রাধান্য পায়নি।

আমার কাছে এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, তরুণদের মধ্যে কোটার অসন্তোষ থেকে একটি আন্দোলন শুরু হয়েছিল, কিন্তু সার্বিক কর্মসংস্থান নিয়ে কোনো জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিষয় দেখা যায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারও এটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। তারা হয়তো ভাবছে, ব্যাংক খাত সংস্কার, প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম ইত্যাদি করলেই ফল আসবে। কিন্তু এগুলো যথেষ্ট নয়। কর্মসংস্থানের জন্য আরও গভীর চিন্তাভাবনা দরকার ছিল।

এ ব্যর্থতা শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের নয়। রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সমাজ, নাগরিক সমাজ—সবার ঘাটতি আছে। শেখ হাসিনার সরকার পড়ে যাওয়ার পর আলোচনা হয়েছে মূলত কর্তৃত্ববাদী শাসন, নির্যাতন, দমনপীড়ন নিয়ে। কিন্তু ওই সময়ে যে অর্থনৈতিক মডেল চালু ছিল, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়নি। সেই অর্থনৈতিক মডেলের বৈশিষ্ট্য ছিল দেনানির্ভর উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতিনির্ভর কৌশল, এমনকি বৈধ দুর্নীতির মাধ্যমে প্রবৃদ্ধি। এর ভেতরে কর্মসংস্থান, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, নারীর অংশগ্রহণ—এসব অনুপস্থিত ছিল। এর ফলে কর্মসংস্থানের সংকট তৈরি হয়েছিল। পরে বৈশ্বিক সংকট যেমন—কভিড, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি; এসব পরিস্থিতি আমাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু এর আগেই যে অর্থনৈতিক মডেলে ১৫ বছর ধরে দেশ চলছিল, তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন ছিল। এখনো সেই বৈশিষ্ট্য অতিক্রম করে নতুন কোনো মডেল গড়ে ওঠেনি।

কালবেলা: কোন মডেল কর্মসংস্থানবান্ধব, নারী ও তরুণদের জন্য সহায়ক, উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে? গার্মেন্টস ও রেমিট্যান্সের বাইরে আমাদের প্রবৃদ্ধির নতুন চালক কোথা থেকে আসবে?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: এই এক বছরে আমরা এসব প্রশ্ন নিয়ে কোনো বড় আলোচনা দেখিনি।

আমাদের মনোযোগের ৯০ শতাংশ চলে গেছে দুটি বিষয়ে—একটি হলো সংস্কার, যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা বা গন্তব্য ছিল না; আরেকটি হলো সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। কিন্তু শুধু অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা যথেষ্ট নয়। প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানো জরুরি।

এখানে কর্মসংস্থান, বৈষম্য হ্রাস, নতুন প্রবৃদ্ধির চালক তৈরি—এসব বিষয়ে ঘাটতি স্পষ্ট। নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সমাজ, এমনকি সংস্কার আলোচনার মধ্যেও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া হয়নি। সংস্কার নিয়ে সীমিত পরিসরে ধারণা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সমান্তরালভাবে অর্থনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তনের নতুন ধারণা তুলে ধরা হয়নি। শেখ হাসিনার সরকারের কর্তৃত্ববাদ নিয়ে যেমন আলোচনার ঘাটতি আছে, তেমনি অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বিকল্প উন্নয়ন মডেল নিয়েও দৃষ্টিভঙ্গির ঘাটতি রয়েছে।

কালবেলা: রাজনৈতিক সংস্কার কি হবে? করণীয় কী?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: অন্তর্বর্তী সরকার এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংস্কার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, তাদের মধ্যে একটি বড় ধরনের ঘাটতি লক্ষ করা যায়। তারা প্রধানত কর্তৃত্ববাদী শাসনের ওপর ভিত্তি স্থাপন করেছেন এবং সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার দিকে। প্রধানমন্ত্রীর পদ এবং তার প্রভাবের ওপর অতিকেন্দ্রিক মনোযোগ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রতিটি সংসদীয় এলাকার এমপির ক্ষমতা ও ভূমিকার পরিবর্তন নিয়ে কোনো আলোচনা নেই। এমপি রাজনীতি এখনো প্রধানমন্ত্রীর আদেশের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে প্রতিটি অঞ্চলে এমপির কথায় সবকিছু চলে। কিন্তু এমপি রাজ থেকে উত্তরণের কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

স্থানীয় সরকার এবং বিকেন্দ্রীকরণের আলোচনা প্রায় অনুপস্থিত। শুধু স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা নয়, প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। আমাদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় তৃণমূল স্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু ক্ষমতা দেওয়া হয় না। এর ফলে দায়িত্ব পালন কার্যকরভাবে সম্ভব হয় না। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় কেন্দ্রিক দায়িত্ব চলে আসে, যা একটি অকার্যকর ব্যবস্থা সৃষ্টি করে।

আমলাতান্ত্রিক শাসনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় নিয়মাবলি কার্যকরভাবে মানা হয় না। ব্যক্তিগত ইচ্ছা নিয়মের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়। চেইন অব কমান্ড কার্যকর থাকে না; উদাহরণস্বরূপ, ডিসি বা ওসিকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া হয়। একইভাবে, পদোন্নতি বা প্রমোশন প্রায়ই স্বার্থের ভিত্তিতে হয়, যা অকার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থার সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত, যার ফলে শক্তি কেন্দ্রীভূত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের দায় নয়; রাজনৈতিক দলসমূহ, নাগরিক সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও দায় রয়েছে। সংস্কারের প্রক্রিয়াটি এখনো গন্তব্যহীন। এটি দ্রুত সমাপ্ত করা উচিত।

কালবেলা: নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কি কেটেছে?

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান: অনিশ্চয়তা দূর করা জরুরি। নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং নিয়মাবলি স্পষ্ট করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতা, অনুপস্থিতি এবং কার্যকরী ইমেজ পুনরুদ্ধার করা অত্যাবশ্যক। ছয় মাসের মধ্যে কোর্স কারেকশন এবং টিম পুনর্গঠন জরুরি।

সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু মুখের কথায় হবে না। নির্বাচনী পরিবেশ, যন্ত্রপাতি, খেলোয়াড় এবং ভোটারদের আস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে করিয়ে দিতে হবে, তাদের মুখোমুখি অবস্থান কি জনগণের জন্য, নাকি স্বার্থের লড়াই? নাগরিক সমাজ এবং পেশাজীবী সমাজকে উদ্যোগী হতে হবে। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশের জন্য অর্থনৈতিক নতুন মডেলের প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারে।

কর্তৃত্ববাদী শাসন বন্ধ ও অর্থনৈতিক গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন চালককে সহায়তা করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক নীতিসংক্রান্ত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন বাহিনীর হামলা, নিহত ২

কুমিল্লায় যাচ্ছেন তারেক রহমান, বক্তব্য দেবেন তিনটি জনসভায়

রোববার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

বাংলাদেশের আগে নির্দিষ্ট কোনো দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল যে ৬ দেশ

মা-শিশুর পাশাপাশি দাফন, কারা ফটকে থেমে রইল স্বামীর শেষ দেখা

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে হাইকমিশনের বর্ণাঢ্য আয়োজন

সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা ইস্যুতে যা বললেন আসিফ

কেন্দ্রীয় চুক্তিতেও থাকছেন সাকিব, যা জানাল বিসিবি

বুধবার রাজশাহী যাচ্ছেন তারেক রহমান

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ / অবহেলিত নড়াইলের উন্নয়নের জন্য ধানের শীষকে বিজয়ী করুন

১০

১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যুক্ত হলো লেবার পার্টি

১১

আবারও পেছাল তারেক রহমানের বরিশাল সফরের তারিখ

১২

মানুষের ভাগ্য গড়তে ১০ দলীয় ঐক্য নির্বাচন করছে : মামুনুল হক

১৩

সাতক্ষীরায় সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও ক্যামেরা ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও আলটিমেটাম

১৪

এই দেশের ভূমিপুত্ররাই দেশ শাসন করবে : হাসনাত আব্দুল্লাহ

১৫

‘নিজ স্বার্থে ওসমান হাদিকে বিক্রি করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’

১৬

আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারী বৃষ্টিতে নিহত ৬১

১৭

ইউনিভার্সেল মেডিকেলে নবজাতক ও পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ারের বৈজ্ঞানিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১৮

সাকিব আল হাসানকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিসিবি

১৯

ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে জামায়াত নেতাদের অংশগ্রহণ

২০
X