

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ জোটে আরও একটি দল যুক্ত হচ্ছে বলে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ লেবার পার্টি ওই জোটে যোগ দিতে যাচ্ছে— এমন ইঙ্গিত মিলেছে সংশ্লিষ্ট একাধিক রাজনৈতিক সূত্রে।
জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ দুই নেতা ও ১০ দলীয় জোটের সমন্বয়কের বক্তব্যে বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। লেবার পার্টির সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানও জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চলমান আলোচনার কথা স্বীকার করেছেন।
ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, কথাবার্তা চলছে। এখনো চূড়ান্ত নয়। হয়তো আজ বা কাল বিষয়টি স্পষ্ট হবে। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি এবার নির্বাচনে না থাকলেও লেবার পার্টির ১৫ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ইসলামপন্থি দলগুলোর ঐক্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল নিয়ে প্রথমে একটি জোট গঠিত হয়। পরে আসন সমঝোতার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) যুক্ত হলে জোটটি ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’তে রূপ নেয়।
তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে শেষ মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যায়। এতে জোটটি আবার ‘১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’ নামে পরিচিত হয় এবং নেতৃত্বে থাকে জামায়াতে ইসলামী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকেই নতুন শরিক যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। এরই মধ্যে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) লেবার পার্টি যুক্ত হলে জোটটি আবার ১১ দলে পরিণত হবে বলে জানান ১০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নে এক পথসভায় তিনি বলেন, এখন আমাদের ১০ দল বলা হলেও আমি আগাম ঘোষণা দিচ্ছি— আগামীকাল আরও একটি দল যুক্ত হবে। তখন আমরা ১১ দলীয় ঐক্য।
যদিও তিনি ওই বক্তব্যে কোন দল যুক্ত হচ্ছে, তা স্পষ্ট করেননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, লেবার পার্টিই জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দিচ্ছে।
এর আগে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্র ছিল লেবার পার্টি। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মতানৈক্যের কারণে দলটি বিএনপির সঙ্গে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, কথাবার্তা হচ্ছে। ১০ দলীয় জোট বড় হচ্ছে। অন্তত একটি দল যুক্ত হওয়া নিশ্চিত।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত ও প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
মন্তব্য করুন