

খোয়া ওঠা অমাবস্যা রুগ্ণ রোড
খোয়া ওঠা অমাবস্যা রুগ্ণ রোড দুপাশে পুষ্টিহীন গাছ, ডাঙ্গা কালিক মেশানো ন্যায্যমূল্যের বাতাস; ছিন্ন বিদ্যুৎ- এবঙ এখানে আমি একা হেঁটে যাই অন্ধ চোখে- যাই কুয়াশার তাঁতে বোনা বিচ্ছেদের ভীষণ শরীরে ছেঁড়া কার্পেট খরস্রোতা যৌবনে।
প্রতিদিন ভুলে থাকি মর্ত্যের মানুষ- আম-আপেল জবড়জং এই জীবাশ্ম, জন্ম-জন্মের অলৌকিক আয়োজন।
রুটি, ভাত-কাপড়, জুতা-স্যান্ডেল; নাস্তার টেবিলে কিছুই পাই না ভরা ফার্মেসির জানালায় ওঠে নষ্ট হওয়া নারী ও বৃষ্টি- দাগী, দৃষ্টিহীন শীষের মতো লকলক করে চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের চোরা চিন্ময় জিহবা...।
যেনো চোখে ভাসে খোয়া ওঠা অবাবস্যা রুগ্ণ রোড আনন্দ-অশ্রু, ম্লান শিশির কণা- ভাঙে কুমারী মন আর এইভাবে আর্তনাদ ওঠে অবহেলিত পৃথিবীর পুষ্টিহীন পিঠে, ফসলের মাঠে, খালে-বিলে কাশবনে-
এবঙ আমি একা এখানে হেঁটে যাই অন্ধ চোখে- খোয়া ওঠা অমাবস্যা রুগণ রোড কালিক মেশানো পুষ্টিহীন গাছ-মাছ রাত-রৌদ্র, পচা আম-আপেল সব আমারই থেকে যায় থেকে যায় অসহায়, আর্তনাদ ভেজা ভারবাহী বৃষ্টির মতো।
পৃথিবী বাড়ন্ত বৃক্ষ ও ঝরনা হবে
তোমরা নদীর জলে রৌদ্রের সার দাও ঢেউ লাগাও মাটির মার্গণ মউলে এবঙ দেখে নিঅ রাত্রিরে, একদিন নদী ও মাটিরা গর্ভবতী হলে মানুষ ফিরে পাবে কল্যাণময় কস্তুরি রাত...
তোমরা রেলের দৌড়ের সাথে পাল্লা দাও
পাল্লা দাও কোনো এক সগন হৃদয়হীন ঘড়ির কাঁটার সাথে তোমরা পাল্লা দিলে গাছেরা ফিরে পাবে বর্ণালী বরাঙ্গ বোধ ও জলের উত্তাল তরঙ্গ।
তোমরা আদ্র-কোমল ষড়ৈশ্বর্য শব্দের দিকে হাত বাড়াও হাত বাড়াও সোনালি চাঁদ ও প্রজাপতির ডানার দিকে। তোমরা হাত বাড়ালে বাতাসের সাথে উড়ে যাবে সুরভিত প্রতারক পাপড়ির দীর্ঘশ্বাস এক ষাড়যন্ত্রিক নদীর জীবন।
তোমরা আকাশে সূর্যের দিকে তাকাও আমি সূর্যকে স্বর্ণের থালা বানিয়ে দিয়েছি সূর্য থালা হলে তোমরা বাড়িতে বাড়ন্ত বৃক্ষ পাবে।
এবঙ এখন প্রতারক পাখি, পাখিদের ফিরে যাওয়ার কথা পাখিরা ফিরে গেলে- আজই আম্বর-মেশকে মেশানো পৃথিবী ঝরনা হবে।
কবি পরিচিতি : মৃধা আলাউদ্দিন। মাতা : ফুলবানু বেগম। পিতা : মৃত মোসলেম মৃধা। কবি, কথাশিল্পী ও প্রাবন্ধিক। মৃধা নব্বই দশকের অন্যতম নিভৃত কবিদের অন্যতম একজন। লিখছেন গল্প, কবিতা, ছড়া ও সমালোচনা সাহিত্য। দেশের জাতীয় দৈনিক ও লিটলম্যাগে নিয়মিত তার লেখা ছাপা হচ্ছে। মৃধা একজন ছন্দ সচেতন নাগরিক কবি। তার কবিতায় উঠে এসেছে সমাজের কুসংস্কার, নীতিহীন-বিপ্রতীব সময়ের ছবি, নোংরা রাজনীতি এবং একই সাথে নিপুণ কারিগরের মতো মৃধা তার কবিতায় প্রেম, দ্রোহ ও ভালোবাসার গান গেয়েছেন। সমাজ বিনির্মাণের গাথা কবিকে আলাদা বৈশিষ্ট্য দান করেছে। কবির দোঁহাগুচ্ছ কাপলেটে পরিণত হয়েছে বলেই পাঠক সমাজের দৃঢ় বিশ্বাস। নিঃসন্দেহে বলা যায় সমালোচনা সাহিত্যে কবি তার নিজস্ব জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন। কবি মৃধা আলাউদ্দিনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রৌদ্দুরে যায় মন (প্রকাশকাল : ২০০৫), রেলগাছ। ২. সামনের শীতে মানুষ রৌদ্র হবে (প্রকাশকাল : ২০২০), প্রকাশক : বার্নম এন্ড নোবল, নিউইয়র্ক। প্রকাশিতব্য গ্রন্থ : প্রজাপতি হয়ে গ্যাছে কোনো কোনো মাছ (কাব্যগ্রন্থ), জঙধরা পিনালকোড (গল্পগ্রন্থ), চড়ুইয়ের চিড়িপ চিড়িপ শব্দ (কিশোর কবিতা), শুঁড়িখানার নরম দেহ (দোঁহা কাব্যগ্রন্থ), অল্পকিছু বিষ প্রয়োজন (দোঁহা কাব্যগ্রন্থ), আল মাহমুদ ও অন্যান্য সন্দর্ভ প্রভৃতি। কবি মৃধা আলাউদ্দিন দুই ছেলে সন্তানের জনক। মৃধা শব্দশীলন সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও চেয়ারম্যান। পুরস্কার ও সম্মাননা : অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক। বঙ্গভূমি সাহিত্য সম্মাননা, বঙ্গভূমি সাহিত্য পরিষদ। শীর্ষবিন্দু সাহিত্য পদক, শীর্ষবিন্দু লিটলম্যাগ। বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতিপ্রাপ্ত ক্রেস্ট ও স্বর্ণপদক। সম্পাদনা : একটি কাব্যভাঁজ (লিটলম্যাগ প্রায় ১০টি সংখ্যা বের হয়ে অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে গেছে লিটলম্যাগটি)। মৃধার সম্পাদনায় বের হয়েছে সিলেটের মরহুম কবি মিছবাহুল ইসলাম চৌধুরীর কবিতা ‘শেরশাহ’ (একটি মহাকাব্য)। কবি মৃধা আলাউদ্দিন বর্তমানে একটি জাতীয় দৈনিকে কর্মরত আছেন।