

তুমি আমার
আকাশের শেষ তারাটির নাম তুমি আমার শুধুই আমার বুকের মাঝে একটা নরম আলো যার জন্য রাত জেগে থাকে
যার জন্য সকাল হাসে তোমাকে ভালোবেসে এই জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই প্রতিটা শ্বাসে তোমার নাম
প্রতিটা স্বপ্নে তোমার ছায়া চোখ বুজলেই দেখি তুমি হেসে বলছো— ‘আমিও তো শুধু তোমার’
তাই থাকো আমার কাছে একটু কাছে, আরও কাছে যতদিন এই হৃদয় ধুকপুক করে ততদিন শুধু তোমারই।
ধর্ষণ
আজকাল যেভাবে বেড়ে চলেছে ধর্ষণ, কাঁপছে মানবতা, লজ্জিত এই ভূবন। কোথায় দেশের আইন, কোথায় মানুষের বিবেক, নীরব হয়ে কেন দাঁড়িয়ে আছে সব পথ এক? রাস্তায়, ঘরে, অন্ধকারের আড়ালে, স্বপ্ন ভাঙে কত মেয়ের নির্মম জ্বালায়।
কাঁদে আকাশ, কাঁদে বাতাস, কাঁদে নিঃশব্দ রাত, মানুষ রূপী হিংস্রতার নেই কোনো প্রভাত। আইনের বই আছে, আছে অনেক শাসন, তবুও কেন থামে না এই নিষ্ঠুর সর্বনাশন? বিবেক কি ঘুমিয়ে আছে মানুষের অন্তরে, নাকি হারিয়ে গেছে লোভের অন্ধ অন্ধকারে?
যে হাত রক্ষা করবে, সেই হাত কেন আঘাত, মানবতার বুকে আজ কেন এতই আঘাত? জেগে উঠুক মানুষ, জেগে উঠুক দেশ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে হোক সাহসের পরিবেশ। ন্যায়ের আলো জ্বলুক প্রতিটি প্রাণে, নিরাপদ হোক পৃথিবী প্রতিটি নারীর টানে। যে সমাজে সম্মান পাবে প্রতিটি জীবন, সেই সমাজেই থামবে এই নির্মম ধর্ষণ।
ন্যায় বিচার
অন্যায়ের অন্ধকারে ঢেকে যায় যখন দেশ, তখনই মানুষ খোঁজে ন্যায়ের আলোর রেশ। শক্তির দম্ভে যখন সত্য চাপা পড়ে যায়, বুকের ভেতর নীরব কান্না জমে ওঠে হায়।
আইনের চোখ নাকি সমান সবার তরে, তবু কেন সত্য হারায় ক্ষমতারই ঘোরে? কেন নিরপরাধ দাঁড়িয়ে থাকে অভিযুক্ত হয়ে, অপরাধী হাসে তখন ছায়ার আড়ালে রয়ে।
ন্যায় বিচার শুধু বইয়ের পাতায় নয়, এটা মানুষের অধিকার, সত্যেরই জয়। যেখানে সত্য কথা বলতে ভয় পায় না প্রাণ, সেখানেই গড়ে ওঠে ন্যায়ের আসন মহান।
একদিন ভোর হবে, ভাঙবে অন্ধকার, সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়বে বারবার। মানুষের বিবেক জাগবে দৃঢ় বিশ্বাসে, ন্যায় বিচার ফিরবে আবার মানুষের আশায়।
অন্ধ সমাজ
চারপাশে মানুষ আছে, তবু মানুষ নেই, চোখ খোলা রেখেও সবাই যেন কিছুই দেখে না সেই। অন্যায় দেখে নীরব থাকে, মুখে তালা দিয়ে, অন্ধ সমাজ দাঁড়িয়ে থাকে সত্যকে লুকিয়ে।
কারো কান্না ভেসে আসে রাতের নীরবতায়, কেউ শোনে না, সবাই ব্যস্ত নিজের স্বার্থের ছায়ায়। বিবেক যেন হারিয়ে গেছে লোভের অন্ধ পথে, মানুষ আজ মানুষকে ভুলে গেছে নিজের রথে।
ন্যায় যখন কাঁদে চুপে অন্যায়ের দেয়ালে, সমাজ তখন দাঁড়িয়ে থাকে নীরব দর্শক হয়ে কালে। কেউ বলে না সত্য কথা, ভয় তাদের বাঁধে, মিথ্যার ভিড়ে সত্য যেন হারিয়ে যায় সাধে।
তবু আশার আলো জ্বলে কোনো এক অন্তরে, কেউ না কেউ দাঁড়াবে একদিন সত্যেরই তরে। সেদিন হয়তো অন্ধ সমাজ খুলবে তার চোখ, মানুষ মানুষকে দেখবে, ভাঙবে অন্ধ শোক।
যদি তুমি বুঝতে
যদি তুমি বুঝতে আমার নীরবতার ভাষা, তবে হয়তো এতো দূরত্ব থাকতো না আশা। অভিমানগুলো লুকিয়ে রাখি মনের গহীনে, তুমি কি কোনোদিন দেখেছো তা চোখের কোণে? যদি তুমি বুঝতে অদেখা সেই কষ্ট, হয়তো ভাঙতে না এভাবে ভালোবাসার সেতু।
হাসির আড়ালে যে কত কথা লুকিয়ে থাকে, তুমি কি কখনো শুনতে চেয়েছো মন দিয়ে ডাকে? আমি তো বলিনি সব দুঃখের গল্প, শুধু চেয়েছি একটু বোঝাপড়া, একটু সম্পর্ক। কিন্তু নীরবতা ভুল বুঝে তুমি দূরে চলে গেলে, অজানা অভিযোগে আমায় একা করে দিলে।
তবু আজও মনে হয় কোনো একদিন, তুমি বুঝবে হয়তো আমার নীরব সেই দিন। তখন হয়তো বলবে ধীরে ভেজা চোখে, ‘ইশ! যদি আগে বুঝতাম তোমার মনের শোকে।’
ক্লান্ত পথিক
জেনেও আমি কিছুই জানিনি সেই দিন, বুঝেও কিছুই বুঝিনি সেই দিন, শুনেও কিছুই শুনিনি সেই দিন। বলার ছিল অনেক কথা, বলব বলে তাও বলা হয়নি সেই দিন।
ভাবলাম তুমি কষ্ট পাবে, ভাবলাম হয়তো নতুন করে আবার ভালোবাসবে আমায়। কিন্তু না, তা আর হলো না। আমার নীরবতাকে তুমি দুর্বলতা ভেবে পাষাণীর মতো চলে গেলে দূরে।
তবুও কিছু বলিনি আমি, শুধু নীরবে দেখেছিলাম তোমার চলে যাওয়া। হয়তো ভেবেছিলাম একদিন তুমি আবার ফিরে আসবে। কিন্তু না, আজও তুমি ফিরনি। অপেক্ষার পথ চেয়ে চেয়ে আজ আমি ক্লান্ত, প্রিয়।
সময় হলে একবার এসে দেখে যেও তোমার প্রেমে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া এই ক্লান্ত পথিককে।
মনের দরোজা
তোমার জন্যে খুলে দিলাম মনের দরোজা। যখন তখন তুমি চাও আসতে পারো, আবার চলে যেতে চাইলে চলেও যেতে পারো।
এসে আমায় ভাসাতে পারো তোমার ভালোবাসায়, আবার কাঁদাতেও পারো নিঃশব্দ রাতের নিরালায়। আমি ভালোবাসতেও চাই, আমি কাঁদতেও চাই তোমার ভালোবাসায়।
তোমার হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বপ্নগুলোতেও হারিয়ে যেতে চাই। তুমি এলে বসন্ত নামে আমার নিঃসঙ্গ মনে, তুমি গেলে নেমে আসে নীরব শূন্যতা ক্ষণে ক্ষণে।
তবু মনের দরোজা খোলা থাকবে তোমারই অপেক্ষায়, যদি কোনোদিন ফিরে এসে ডাকো আমায়
আপুনি
তোর স্মৃতিগুলো আজও আমায় কাঁদায় রে আপু। সে কান্নার শব্দ শোনে না কেউ, জানে না কেউ, এ এক নিঃশব্দ কান্না।
এই কান্নার কথা জানি শুধু আমি, আর জানে আমার একলা রাতগুলো। তুই নেই, তবু মনে হয় কোথাও কাছেই আছিস তুই।
কেউ আর ভালোবাসে না আমায় তোর মতো করে। চলে গেছিস তুই না ফেরার দেশে ঠিকই, তবু মনে হয় এই তো আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছিস।
মনে হয় তোর সাথে এখনো প্রতিদিন কথা হয়, কখনো ঝগড়া হয়, কখনো ছোট্ট করে মারামারি হয়। হঠাৎ সেই ভাবনার মাঝেই দু’চোখ ভিজে যায় আমার। এখন আর কেউ আমায় বকেনা, কেউ শাসনও করে না আগের মতো।
কী এক অদ্ভুত হাহাকার রে আপু বুকের গভীরে জমে আছে। মনে হয় পৃথিবীর কোনো সুখই এই শূন্যতা ভরাতে পারবে না।
তুই ছিলি বলেই
আমার পৃথিবীটা ছিলো এত আপন। আজ তুই নেই, তাই চারপাশটা এত নির্জন লাগে। ভালোবাসি তোকে অনেক, অনেক বেশি রে আপু, আমার প্রিয় আপুনি।
তুই না থাকলেও আমার হৃদয়ের ভেতর চিরদিন বেঁচে থাকবি তুই।