কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অধ্যাদেশ অনুযায়ী ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারাও হবেন ব্যাংকের মালিক

প্রতীকী ছবি। কালবেলা গ্রাফিক্স
প্রতীকী ছবি। কালবেলা গ্রাফিক্স

দেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমকে আরও সুসংহত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্যবিমোচনের লক্ষ্যে ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতারা কেবল গ্রাহক নন, সরাসরি ব্যাংকের মালিক হিসেবেও অংশীদার হবেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ বিভাগ থেকে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনে দেশে একটি ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই ব্যাংকের মোট মালিকানার অন্তত ৬০ শতাংশ থাকবে সাধারণ ক্ষুদ্রঋণ গ্রহীতাদের হাতে।

নতুন আইনে ব্যাংকটিকে একটি ‘সামাজিক ব্যবসা’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে। এতে ব্যক্তিগত লভ্যাংশ বণ্টনের পরিবর্তে অর্জিত মুনাফা পুনরায় সামাজিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন খাতে ব্যয় করতে হবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার জন্য এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা যাবে। ব্যাংকের প্রারম্ভিক পরিশোধিত মূলধন হবে ন্যূনতম ২০০ কোটি টাকা। তবে কোনো মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে না।

পরিচালনা পর্ষদ হবে ৯ সদস্যের। এর মধ্যে ৪ জন পরিচালক হবেন ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্য থেকে নির্বাচিত। এ ছাড়া ৩ জন মনোনীত পরিচালক, ২ জন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং ভোটাধিকারবিহীন একজন পদাধিকারবলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন। কোনো পরিচালক একাদিক্রমে দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

লভ্যাংশ নীতির বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা তাঁদের মূল বিনিয়োগের অতিরিক্ত অর্থ লভ্যাংশ হিসেবে পাবেন না। তবে সাধারণ ঋণগ্রহীতা শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষেত্রে এই বিধান শিথিলযোগ্য রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট নিট মুনাফা সামাজিক খাতে ব্যয়ের বাধ্যবাধকতা থাকবে।

ব্যাংকের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে নতুন উদ্যোক্তাদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচনে ঋণ প্রদান, আমানত গ্রহণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্যোগ মূলধন সরবরাহ, বিনা ফিতে কারিগরি ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান এবং শিল্প ও কৃষিজ পণ্য, গবাদিপশু ও যন্ত্রপাতি কেনায় ঋণ সহায়তা।

ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩’ অনুসরণ করতে পারবে। তবে সামাজিক সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের জবরদস্তি বা অবমাননাকর পদ্ধতি গ্রহণ করা যাবে না।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এই ব্যাংকের লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ বাতিল বা চেয়ারম্যান ও পরিচালক অপসারণের ক্ষমতা রাখবে। ব্যাংকের সব কার্যক্রম ‘ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১’ ও ‘মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি আইন, ২০০৬’-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

সরকার দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে এই অধ্যাদেশ কার্যকর করবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সংবাদিক আবদুল হাই সিদ্দিকের বাবার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সেই ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু, মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন ধর্মমন্ত্রী

প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ভেষজ উদ্ভিদ সাদা মটমটিয়া

সমতায় শেষ ইরান-নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত লড়াই

আজকের নামাজের সময়সূচি

আমগাছে উঠে অনলাইনে হাজিরা দিলেন প্রধান শিক্ষক

পারদ গলল ইরান-যুক্তরাষ্টের, হিম হচ্ছেন নেতানিয়াহু?

এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একের পর এক পুশইনচেষ্টা প্রতিহত বিজিবির

পিরোজপুরে মায়ের হাতে ছেলে খুন

দক্ষিণ লেবাননে ৩০ সেনা সদস্য হারাল ইসরায়েল

১০

দুপুরে কাজ নিষিদ্ধ করল সৌদি সরকার

১১

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আশাবাদী লেবানন

১২

স্পেনের ফুটবলারের সাড়ে ৮ বছরের কারাদণ্ড 

১৩

হাটে উঠল হাঁড়িভাঙা, ৩০০ কোটির বাণিজ্যের আশা

১৪

উন্মুক্ত হলো হরমুজ, শুরু হলো জাহাজ পারাপার

১৫

ফরিদপুরে যুবলীগ নেতাসহ আটক ২

১৬

সৌদি আরব-উরুগুয়ে ম্যাচে গোলাপি জার্সিতে রেফারি, কারণ জানাল ফিফা

১৭

নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে : ইরানের প্রেসিডেন্ট

১৮

বল যখন ভেতরে ঢুকতে চায় না, তখন কোনোভাবেই ঢুকবে না : স্পেন কোচ

১৯

৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে কোচ বরখাস্ত করল তিউনিসিয়া

২০
X