চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পর এবার উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙে দেওয়া হতে পারে- রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে এমন গুঞ্জন। ‘ধীরে চলো নীতি’ থেকে বের হয়ে জোরালো আন্দোলনের লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আদলে উত্তর ও দক্ষিণে জেলায় নতুন সিদ্ধান্তের আভাস মিলেছে ইতোমধ্যে। সেই অনুযায়ী ভেঙে দেওয়া হতে পারে দুই জেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো। নগরের নতুন কমিটির আদলে উত্তর ও দক্ষিণ জেলাতেও মেরুকরণ হতে যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর হেলাল কালবেলাকে বলেন, পর্যায়ক্রমে সারাদেশেই কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সেই ধারায় চট্টগ্রামেও হয়েছে। উত্তর দক্ষিণের বিষয় নিয়ে এখনো নির্দেশনা নেই। তবে যে কোনো নির্দেশনা আসতে পারে। সংগঠন শক্তিশালী করতে এবং নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিও ঘোষণা করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকারকে আহ্বায়ক করে ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠিত হয়। একই দিনে ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে কমিটির ঘোষণা করা হয়েছিল। যেহেতু শাহাদাত-বক্কর জুটি ভেঙে নগরীতে নতুন মেরুকরণ আনা হয়েছে। সেহেতু সাংগঠনিক গতি ফেরাতে চট্টগ্রামের উত্তর জেলায়ও নতুন সমীকরণের গুঞ্জন রয়েছে। তবে কমিটি ভেঙে দিলেও গোলাম আকবর খন্দকারকে কেন্দ্র করেই সাজানো হতে পারে নতুন কমিটি। যেখানে গুরুত্বপূর্ণ পদে বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, কাজী সালাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে।
অন্যদিকে কমিটি নিয়ে বিব্রত দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রাম মহানগর ও উত্তর জেলায় কমিটি হওয়ার আগেই ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর গঠিত হয় দক্ষিণ জেলা কমিটি। তিন মাসের মধ্যে সেখানে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কথা থাকলেও প্রায় সাড়ে চার বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। এ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান নগর বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান ও সদস্য সচিবের দায়িত্ব পান মোস্তাক আহমদ খান। দীর্ঘদিনের রাজপথের আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখতে না পারায় এই কমিটি ঘিরে হতাশা দেখা গেছে বিএনপির তৃণমূলে। আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা না থাকলেও বিভিন্ন সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বারবার মারামারি-হাতাহাতিতে জড়িয়ে খবরের শিরোনাম হয় দক্ষিন জেলা বিএনপি। দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন ইউনিটে ‘পকেট কমিটির’অভিযোগ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বেশ কয়েকটি ইউনিটে গঠিত হয় পাল্টা কমিটি।
এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম নগরের মতো চট্টগ্রামের দক্ষিণ জেলায় নতুন মেরুকরণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা কালবেলাকে বলেন, চট্টগ্রামের দক্ষিণ জেলায় কোন্দল দীর্ঘদিনের। কোন্দল এড়াতে আবু সুফিয়ানকে দায়িত্ব দিয়ে ৬৫ সদস্যর জাম্বু কমিটির গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রামের ওই অংশে সমস্যা সমাধান হয়নি। দিন যত গড়িয়েছে বরং বিরোধ বেড়েছে। ঐক্যবদ্ধ না থাকায় বিভিন্ন ইউনিটে পাল্টাপাল্টি কমিটি হয়েছে। তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি ৫ বছর পার করে ফেলছে। তবু কাজের কাজ কিছু হয়নি। এ অবস্থায় কমিটি পুর্নগঠন করে আন্দোলন মুখি কমিটি গঠন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিভিন্ন সারির নেতারা।
নতুন কমিটিতে দক্ষিণ জেলা বিএনপি বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনামকে কেন্দ্র করে নতুন বলয় সৃষ্টি হওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে পারেন দক্ষিণ জেলার বিএনপি নেতা সাতকানিয়া উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান, আলী আব্বাস, অধ্যাপক শেখ মহিউদ্দিন, ইদ্রিস মিয়া, চেয়ারম্যান আজিজুল হকসহ বেশ কয়েকজনের নাম।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম কালবেলাকে বলেন, দলের জন্য যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে বলে আশা করছি। যারা আন্দোলন-সংগ্রামে যারা প্রতিনিয়ত মাঠে ছিল তাদের নিয়েও শীর্ষ পর্যায়ে বিশেষ আলোচনা হচ্ছে। প্রত্যাশা করি কমিটি পুর্নগঠনের পর জোরালো আন্দোলনের বার্তা আসবে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম নগরীতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে ব্যাপক মারামারিতে জড়ায় সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম ও সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদের অনুসারীরা। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞল্য সৃষ্টি হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের মতো কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দুপক্ষের এ সংঘর্ষের ঘটনার প্রভাব নতুন কমিটিতে পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন শীর্ষ নেতারা।
মন্তব্য করুন