চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

৬ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ, নুরজাহান গ্রুপের রতনকে আরও ৩ মামলায় গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামভিত্তিক নুরজাহান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ রতন। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামভিত্তিক নুরজাহান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ রতন। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামভিত্তিক নুরজাহান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জহির আহমেদ রতনকে আরও ৩টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের দায়ের করা ৬টি অর্থ ঋণ জারি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান। শুনানি শেষে তাকে ৩ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আদেশ দেন তিনি।

এর আগে তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ৬১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম।

আদালত সূত্র জানায়, ভোজ্যতেল পরিশোধনসহ বিভিন্ন খাতের একাধিক কারখানা আছে নুরজাহান গ্রুপের। গম ও অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানিও করে থাকে শিল্প গ্রুপটি। ২০১০-১১ সালে ভোগ্যপণ্য আমদানি ও বাজারজাতকরণের জন্য রাষ্ট্রায়াত্ত অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, বেসরকারী ন্যাশনাল ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করেন নুরজাহান গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। ভোজ্যতেল ও গম আমদানির জন্য এই ঋণসমূহ বিতরণ করা হয়েছিল। লেটার অব গ্যারান্টি ও ট্রাস্ট রিসিটের বিপরীতে আমদানি পণ্য ছাড় করে নিলেও নুরজাহান গ্রুপের প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয়নি।

২০১৩-১৪ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণ আদায়ে মামলা করলেও খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারেনি। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পাওনা আদায়ে ব্যাংকগুলো চট্টগ্রামের অর্থ ঋণ আদালতে রতনের বিরুদ্ধে অন্তত ৩০টি মামলা করেছে।

গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত তার পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। এর আগেও বিভিন্ন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু, পাসপোর্ট জব্দ ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান। মামলার সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে নূরজাহান গ্রুপের এমডি রতন ও তার অপর ৩ ভাই দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।

স্ত্রী ও সন্তানরা ২০১২ সাল থেকে কানাডায় বসবাস করলেও চট্টগ্রাম অর্থ ঋণ আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার রতন দেশত্যাগ করতে পারেননি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য গত বছরের ১৫ জানুয়ারি পুলিশের আইজি বরাবর আদেশের কপি পাঠানোর পর গত ২৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা পুলিশের বিশেষ টিম ঢাকার বাড্ডা থেকে রতনকে গ্রেপ্তার করে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমাদ আল-শারার সঙ্গে কুর্দিশ নেতার ফোনালাপ

বিপিএল ফাইনালের সময় এগিয়ে আনল বিসিবি

খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি বাদ দিতে বলেছেন : রবিন

রুমিন ফারহানাকে শোকজ, সশরীরে হাজির না হলে ব্যবস্থা

ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭

মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চগড়ে মরহুম ইয়াছিন আলীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিপুন রায়ের

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন / সাইফুল হকের সঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মতবিনিময়

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কমিউনিটি ব্যাংকের টিডিএফ উদ্যোক্তাদের রিফাইন্যান্সিং সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর

প্রার্থীকে বললেন নির্বাচন কমিশনার / ‘ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন, না দিলে জনরোষ তৈরি হবে’

১০

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪ শতাধিক, মোট বৈধ প্রার্থী দাঁড়াল যত

১১

জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

১২

নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করল ছাত্রদল

১৩

তসলিমা নাসরিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা

১৪

তারেক রহমানের সঙ্গে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের নেতাদের সাক্ষাৎ

১৫

২১ জানুয়ারির মধ্যেই ঠিক হবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য

১৬

এশিয়ান টিভির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন

১৭

সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম

১৮

নাহিদ ইসলাম ও নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারীর শোকজের জবাব দিল এনসিপি

১৯

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম : নোমান

২০
X