

‘ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল’ রোডম্যাপ ডিসেমিনেশন অ্যান্ড শেয়ারিং ওয়ার্কশপ’-এর মাধ্যমে দেশের জন্য প্রণীত বহুমাত্রিক দুর্যোগে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ‘মাল্টি হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় রূপরেখার (রোডম্যাপ) উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সম্মেলন কক্ষে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
২০২২ সালের মার্চ মাসে জাতিসংঘের মহাসচিব ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রত্যেক মানুষকে কার্যকর আর্লি ওয়ার্নিং ব্যবস্থার আওতায় আনার যে বৈশ্বিক আহ্বান জানান, তারই ধারাবাহিকতায় কপ ২৭-এ সবার জন্য আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ‘আর্লি ওয়ার্নিংস ফর অল ইনিশিয়েটিভ’ (EW4All) শুরু হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় রূপরেখা সেই বৈশ্বিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি কৌশলগত অংশ, যার উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত বাড়তি ঝুঁকি থেকে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে সুরক্ষিত রাখা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, এই রোডম্যাপ শুধু একটি পরিকল্পনা নয়; এটি আমাদের দেশের মানুষদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার—‘দুর্যোগ পীড়িত মানুষের জীবনের ক্ষতি কমানো এবং সীমিত সম্পদ রক্ষা করা।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব কবির মো. আশরাফ আলম বলেন, আমাদের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট—বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষ যেন সময়মতো ও কার্যকর আগাম সতর্কতা পায় তা নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশজুড়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্কই সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মাধ্যমে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সতর্কবার্তা সেই ১৯৭২ সাল থেকে পৌঁছে দিচ্ছি এবং লক্ষ্য অর্জনে এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নিকোলাস উইক্স, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোগের মানবাধিকার দিক তুলে ধরে বলেন, আর্লি ওয়ার্নিং শুধু একটি দুর্যোগ প্রতিরোধের টুল নয়; এটি একটি মৌলিক অধিকার।
মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, কার্যকর আর্লি ওয়ার্নিং সম্প্রচারে প্রযুক্তির গুরুত্বের ওপর জোর দেন: বাংলাদেশ একত্র হয়ে EW4All ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে বার্তাগুলো যথাযথ ও ব্যবহারকারী বান্ধবভাবে পৌঁছে দিচ্ছে। দ্রুত, সঠিক ও সহজলভ্য বার্তাই জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য।
কর্মশালায় এ ছাড়া প্রায় ১৪০ জন উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন যার মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মতো জাতীয় সংস্থার প্রধানরা, জাতিসংঘ এবং উন্নয়ন অংশীদারদের প্রতিনিধিরা এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
কর্মশালায় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে সার্বিক উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং সরকার, জাতিসংঘ এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের নিয়ে এর কৌশলগত গুরুত্ব এবং বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের (MoDMR) নেতৃত্বে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (WFP) ওই কর্মশালার আয়জন করেন।
এই কর্মশালার মাধ্যমে জাতীয় EW4All রোডম্যাপের প্রযুক্তিগত পরিকল্পনা থেকে জাতীয় বাস্তবায়ন কর্মসূচিতে রূপান্তরকে চিহ্নিত করা হয়।
মন্তব্য করুন