

সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর আবারও আকাশসীমা খুলে দিয়েছে ইরান। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এখন আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং তেহরানের দিকে বিমান প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে। এই তথ্য জানিয়েছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং সেবা ফ্লাইটরাডার২৪ বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের আকাশসীমায় চলাচল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার নোটিশ বা নোটাম এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এর পরপরই একাধিক বিমান দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করে।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ইরান সাময়িকভাবে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ রেখেছিল। তখন শুধু অনুমোদিত কিছু আন্তর্জাতিক আগমন ও প্রস্থান ফ্লাইটকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রাথমিক ঘোষণায় বলা হয়েছিল, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকবে। ওই সময় কেবল বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগাম অনুমতি পাওয়া নির্দিষ্ট ফ্লাইট চলাচল করতে পারবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে বলে তাকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজর রাখছে।
বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ইরান সরকারকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে মানবাধিকার রক্ষার কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই বিক্ষোভ ও অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে হতাহতের বিষয়ে ইরান সরকার এখনো কোনো সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন