বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের নিউমার্কেটসহ এর আশপাশের এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জহুর হকার্স, নিউমার্কেটের আশপাশের এলাকার বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে আশ্রয় নেয় বিক্ষোভকারীরা। পরে দোকানপাটে ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে আহত হয়েছেন শতাধিক। আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্ক অবস্থানে ছিল সেনাবাহিনী।
রোববার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মূলত নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় পুলিশ এবং সরকারদলীয় সমর্থকদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর টাইগারপাস, জহুর হকার্স, সিআরবিসহ নিউমার্কেটের আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে৷
এর আগে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রোববার সকাল থেকেই নিউমার্কেট চত্বরে জড়ো হতে শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা। নিউমার্কেট চত্বরের প্রায় দেড়শ গজ দূরে গণবিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি শুরু করে নগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মূলত সেখান থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন প্রতক্ষ্যদর্শীরা৷ এরপর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, যে কোনো ধরনের সংঘাত এড়ানোর জন্য নগর পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় কোনো হুমকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷ কেউ অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে৷
চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. মোমিন উল্লাহ ভুইঁয়া জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে কমপক্ষে ৪৫ জনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জন গুলিবিদ্ধ। গুরুতর আহত দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের বেশিরভাগই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। অনেকের হাতে-পায়েও আঘাত রয়েছে।
আহতরা হলেন- মো. আলাউদ্দিন (২৬), সোহরাব হোসেন (২২), ফয়সাল (২৫), আশরাফুল (৩০), জাহাঙ্গীর (২৬), সৌরভ (২২), মনির (২২), চিশতী (২৮), তাহমিন (১৯), শান্ত ইসলাম (২২), মাঈনউদ্দিন (২৪), কাওছার হোসেন (২৪), মাহবুব হোসেন (২৪), মো. মারফ (২৭), এহসান উল্যাহ (২৮), শাহীন (২৪), মো. শাহীন (২৬), শাকিব উদ্দিন (২০), আদিল (২৫), রিদোয়ান (২৪), সাকিব উদ্দিন (২৩), ফারুক (২০), কাঞ্চন চক্রবর্তী (৪৭) ও মো. সাজ্জাদ হোসেন (২৮)।
এ ছাড়া সীতাকুণ্ড থেকে আহতাবস্থায় চমেক হাসপাতালে এসেছেন ২৭ জন। তারা হলেন- ফারহান (২৩), শুকুর (২০), অনিক (২৫), আবু তাহের (২৭), সুজন (৩৫), সাজ্জাদুল হক (২৭), জয়নাল আবেদিন (৩০), মো. কালাম উদ্দিন (২৭), রিমন (২২), নয়ন (৩২), রিমন (২২), নয়ন (৩২), বাবু (২০), মো. হাসান (১৯), মো. আসিফ (১৭), তাহমিদুল ইসলাম (২৩), আরিফ আহমেদ (৩৩), তপু (২৬), মো. কফিল (২৫), রবিউল আউয়াল (২৯), বাদশা (২৪), সাইফুল (৩৫), মো. ইমরান (১৯), সাহেদ (২৩), মিন্টু চৌধুরী (৩৮), সুমন বিশ্বাস (২৬) ও মো. হাসান (২০)।
হাসপাতালের ভর্তি হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন মো. আলাউদ্দিন(২৬), সোহরাব হোসেন(২২), ফয়সাল(২৫), আশরাফুল (৩০), জাহাঙ্গীর (২৬), সৌরভ (২২), মনির (২২), চিশতী (২৮), তাহমিন (১৯), শান্ত ইসলাম(২২), মাঈনউদ্দিন(২৪), কাওছার হোসেন (২৪), মোঃমারুফ (২৭), মাহবুব হোসেন (২৪), এহসান উল্যাহ(২৮), মো. শাহীন (২৬), শাহীন (২৪), আদিল (২৫), শাকিব উদ্দিন (২৩), রিদোয়ান (২৪), সাকিব উদ্দিন (২৩), ফারুক (২০), জয়নাল আবেদীন, সাজিদুল হক ও আইনজীবী এস এম আবু তাহেরসহ আরও অনেকে।
বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর
নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের পর রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি নুর আহমদ সড়কের নাসিমন ভবনে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
নগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা ইদ্রিস আলী বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগের কর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
মূলত নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষের পর কাজীর দেউড়ি, ওয়াসাসহ এর আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। এরপর এসব এলাকায়ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে কাজীর দেউড়ি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা৷ পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার একপর্যায়ে বিএনপির কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ওয়াসা, কাজীর দেউড়ি, আলমাস সিনেমাহল এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থায় ছিল সেনাবাহিনী।
মন্তব্য করুন