লুটপাটের শিকার ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ালেন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মিন্টু। নগদ অর্থ সহায়তা দিয়ে স্বল্প পুঁজির দোকানি বিধান অধিকারীকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখালেন তিনি।
দোকানি বিধান অধিকারী যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরের পাবলিক লাইব্রেরি মোড়ে পান, বিস্কুট, নানা ব্র্যান্ডের কোমল পানীয়, রুটি কলা বিক্রি করে। দিন শেষে এই দোকানের রোজগারেই তার সংসারের ৫ জনের মুখে খাবার ওঠে।
পুঁজি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়া বিধান অধিকারী জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যান। পরে জানতে পারেন কে বা কারা তার দোকান ভেঙে সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। পরে বিএনপি নেতা মিন্টুর অর্থ সহায়তা পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
জানা যায়, শেখ হাসিনার দেশ ছাড়ার খবরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ উল্লাস করতে রাস্তায় নেমে আসে। এরমধ্যে কিছু দুর্বৃত্ত ধ্বংসের খেলায় নামে। এ সময় স্বল্প পুঁজির এ ব্যবসায়ীর দোকান তছনছ করে সব লুটে নেয়। এ ঘটনা জানতে পেরে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মিন্টু ।
গত ৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী কয়েকদিন অতি উৎসাহীরা আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকসহ সাধারণ ব্যবসায়ীদের বাড়ি-ঘর ও দোকানপাটে হামলা চালিয়ে লুটপাট-ভাঙচুর শুরু করে। বিষয়টি উপজেলা বিএনপিসহ জেলার শীর্ষ নেতৃস্থানীয়দের নজরে আসে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে স্থানীয় নেতারা ব্যাপক তৎপর হলেও অতি উৎসাহীদের নিবৃত করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এমনকি এসব অপকর্মে জড়িতের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাকিবুল হাসান শুভ, ছাত্রদল নেতা ওহেদুজ্জামাসহ কয়েকজনকে বহিষ্কার করে দলীয় হাইকমান্ড।
পৌরশহরের ভেনাস জুয়েলার্সের মালিত গোবিন্দ ঘোষ, অসিত, টপিসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, কতিপয় দুর্বৃত্তরা তাদের দোকানে হামলার চেষ্টাসহ নানা হুমকি দেয়। খবর পেয়ে সামনে ঢাল হযে দাঁড়ান বিএনপি নেতা মিন্টু। অনেককে মারধরের হাত থেকে রক্ষায় এগিয়ে আসেন তিনি। ওই দিন একদল দুর্বৃত্তরা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মিল্টনের ওপর হামলা চালায়। খবর পেয়ে তাকে রক্ষা করেন মিন্টু। এ সময় দুর্বৃত্তদের মারধরের হাত থেকে তিনি নিজেও রক্ষা পাননি।
এ বিষয়ে উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন কুমার ধর জানান, পরিবারসহ তার সম্প্রদায়ের লোকেরা হামলার আশঙ্কায় উৎকণ্ঠায় ছিলেন। মিন্টু তাদের পাড়ায় এসে পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন।
জানতে চাইলে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, বিএনপির খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্দেশে বিপদাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছি।
মন্তব্য করুন