হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১১:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

নিঝুমদ্বীপে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

নৌকায় করে নিঝুমদ্বীপে আসা পর্যটক। ছবি : কালবেলা
নৌকায় করে নিঝুমদ্বীপে আসা পর্যটক। ছবি : কালবেলা

প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ। হরিণের অভয়ারণ্য, বিশাল কেউড়া বাগান, দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্র সৈকত, সবুজে ঘেরা এই দ্বীপে সৌন্দর্য যে কোনো মনুষকে মুগ্ধ করে। দেশ বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভ্রমণপিপাসু হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন কোলাহলমুক্ত এই দ্বীপের সৌন্দর্য দেখতে। এতে করে এখানে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের হোটেল মোটেল ও রেস্তোরাঁ।

গত কয়েক বছরে এখানে সরকারিভাবে তেমন কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া না লাগলেও মানুষের থাকার মতো আধুনিক অনেক ব্যবস্থাপনা এখানে তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সেন্টমার্টিন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ দ্বীপে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। হোটেলে সিট না পেয়ে তাঁবু টানিয়ে এবং স্থানীয়দের বাসা বাড়িতে রাত্রি যাপন করতে হয়েছে পর্যটকদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, নিঝুমদ্বীপের মূল কেন্দ্র বিন্দু নামার বাজারে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি। সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে উপজেলার তমরদ্দি ও নলচিরা ঘাট হয়ে মোক্তারিয়া ঘাটে এসে নিঝুম দ্বীপ প্রবেশ করে। অনেকে আবার পার্শ্ববর্তী মনপুরা, ভোলা থেকে সরাসরি বড় ট্রলার নিয়ে নামার বাজার ঘাটে এসে নামেন। এই বাজারে ১৫টি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। তাতে শতভাগ বুকিং থাকায় অনেক পর্যটককে দেখা গেছে তাঁবু করে রাত যাপন করতে। আবার কেউ কেউ তাবুতেও থাকার সুযোগ পাননি। তারা বাজারের পাশে বিভিন্ন বাসা বাড়ির সামনের অংশে গাদাগাদি করে রাত্রি যাপন করছেন।

ফরিদপুর থেকে ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত ৭০ জনের একটি টিম এসেছে নিঝুমদ্বীপ। তাদের থাকার জায়গা হয়েছে সোহেল রিসোটে। কিন্তু ৭০ জনের সবার থাকার ব্যবস্থা এই হোটেলে ছিল না। অন্য কোনো হোটেলেও সিট খালি নেই। পরে হোটেলের মালিক বাজারের পাশে তার বাসায় নারী-পুরুষ সহ ১০-১২জনকে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এদের মধ্যে একজন ইমরান জামান জানান, হোটেলে সিট খালি না থাকায় মহা বিপদের মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে তাদের সাথে থাকা নারী সহকর্মীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। হোটেল মালিকের সহযোগিতায় মোটামুটি তারা একটি বাড়িতে অবস্থান করেন।

একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে ভেড়াতে আসা চার বন্ধু একই সমস্যার মধ্যে পড়েন বলে জানান আব্দুল আলিম নামে এক পর্যটক। তিনি জানান, গত দুই দিন ধরে তারা নিঝুম দ্বীপ অবস্থান করছেন। প্রথমদিন তারা হোটেলে থাকলেও দ্বিতীয় দিন বুকিং না থাকায় হোটেল ছেড়ে দিতে হয়েছে। অন্য কোনো হোটেলে সিট পায়নি তারা। ভাড়া দেওয়া তাবুতেও থাকার ব্যবস্থা করতে পারেননি। পরে হোটেলের ম্যানেজারের সহযোগিতায় পাশের একটি বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে রাত যাপন করেন। তাতে খুবই ভালো ভাবে রাত কেটেছে তাদের।

তিনি আরো জানান, প্রচুর পরিমাণে লোক এসেছে নিঝুমদ্বীপে। যে পরিমাণ হোটেলে থাকার ব্যবস্থা আছে তার দ্বিগুণ মানুষ নিঝুমদ্বীপে অবস্থান করছে। তাদের মতো অনেকের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে মানুষের বাসা বাড়িতে।

ঢাকা থেকে আসা নাবিল নামে একজন জানান, এখানে খাওয়ার হোটেল অনেক কম। সকালে ও রাতে খাওয়ার হোটেলগুলোতে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেতে হয়েছে। শুনা যায় অনেকে হোটেলে খাওয়ার শেষ হয়ে গেছে পরে বাড়ি থেকে এনে লোকজনকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন হোটেল মালিকরা।

নিঝুমদ্বীপ সোহেল রিসোর্টের মালিক ইব্রাহীম পার্টি জানান, নিঝুমদ্বীপে নামার বাজারের আসে পাশে ছোট-বড় ১২টি হোটেল রয়েছে। এতে চার শতাধিক লোক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আবার অনেকে তাঁবু ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তাতেও শতাধিক লোক থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু নিঝুমদ্বীপে বর্তমানে ৬-৭শত লোক অবস্থান করছে। তাতে থাকার সংকট দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাবে। গত রাতে নামার বাজারের পাশে সবকটি বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়রা নিজেদের বসবাসের ঘর ছেড়ে দিয়েছে পর্যটকদের। সবাই সহযোগিতা করছেন। কোথাও নিরাপত্তার সমস্যা হয়নি।

হাতিয়া থানার ওসি একেএম আজমল হুদা কালবেলাকে বলেন, একজন ভিআইপির প্রটোকল দেওয়ার জন্য নিঝুমদ্বীপে অবস্থান করছি। ভোরে এসে এখানে কোনো হোটেলে সিট খালি পাইনি। একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বনবিভাগের অফিসে অবস্থান করতে হয়েছে। প্রচুর পর্যটক বাজারে, কেউড়া বাগানে, সৈকতে অবস্থান করছেন। এখানে আমাদের একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। তারা সবসময় পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছে। আমি অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। নিরাপত্তায় কারো কোনো সমস্যা হয়নি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরিশালের বিস্তীর্ণ জঙ্গলে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ মহড়ায় প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির রাজনীতির একমাত্র উৎস জনগণ: তারেক রহমান

বন্যায় প্রাণহানির জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন দায়ী: রিজভী

ফরিদপুরে স্ত্রীকে হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

ইংল্যান্ড ম্যাচে জার্সি বদলাতে চাইছে আর্জেন্টিনা, কিন্তু কেন?

ইসলামাবাদ সমঝোতা শেষ, সব মার্কিন ঘাঁটিই এখন লক্ষ্যবস্তু: ইরান

৪ জেলার মানুষের ভোগান্তির সেই সড়কে উন্নয়ন কাজ শুরু

বন্যার পানিতে যে ১০ ভুল কখনো করবেন না

৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কুমিল্লা নগরী

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নতুন কমিটি

১০

যুবদল নেতা রুবেল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা

১১

‘ইনকিলাব কালচারাল ট্রাস্ট’ গঠনে চার দফা প্রস্তাব শহীদ ওসমান হাদি ফাউন্ডেশনের

১২

প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি

১৩

ঢাবিতে ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

১৪

ঢাবির দুই ছাত্রী হলের জলাবদ্ধতা নিরসন, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৭ সদস্যের কমিটি গঠন

১৫

স্বাধীনতার ৫৭ বছরেও পাকা হয়নি ভরিপাশা-তালতলী সড়ক

১৬

চট্টগ্রামে বন্যায় সাপের কামড়ে আহত ৭৫

১৭

চট্টগ্রামে নামছে বন্যার পানি, ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

১৮

এনসিসি ব্যাংক ও আকিজ রিসোর্স গ্রুপের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

১৯

ঢাবির খেলার মাঠে জলাবদ্ধতার প্রতিবাদে দেশীয় মাছ অবমুক্ত করবে ডাকসু

২০
X