বুধবার, ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩ পৌষ ১৪৩২
কে এম, রাশেদ কামাল, মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫, ০১:২৮ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ০১:৩৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

‘কত যে না খাইয়া থাকছি হিসাব নাই’

মাদারীপুরের কালকিনিতে একের পর এক জমি যাচ্ছে নদীর গর্ভে। ছবি : কালবেলা
মাদারীপুরের কালকিনিতে একের পর এক জমি যাচ্ছে নদীর গর্ভে। ছবি : কালবেলা

‘ওই যে নদীর ওপার দেখতেছেন না? ওই পারে আমাগো বাড়িঘর সব আছিলো, এখন আর কিছুই নাই। আমার এই জীবনে পাঁচবার আমাগো বাড়িঘর নদীর পেটে গেছে। জায়গা-জমি যা ছিল সব শেষ। কত যে না খাইয়া থাকছি হিসাব নাই। যাগো নদীতে সব লইয়া যায়, তাগো তো আর কোনো অস্তিত্ব থাহে না।’

কাঁপা কাঁপা গলায় কথাগুলো বলছিলেন মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকার নতুন আন্ডারচর লঞ্চঘাট এলাকার ৭০ বছর বয়সী চান মিয়া। এক সময় তার কয়েক বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা ছিল। নদীভাঙনে সব কিছু হারিয়ে হয়েছেন একদম নিঃস্ব।

চান মিয়ার মতো একই অবস্থা প্রতিবেশী বজলু সরদার, আতিক আকন ও ওয়াজেদ ফকিরের। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পাঁচ থেকে সাতবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছেন জীবনে। যতবার নদী ভেঙেছে ততবারই নতুন নতুন জায়গায় গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।

যেখানেই ঘরবাড়ি তৈরি করে একটু সুখের নীড় গড়েছেন, কদিন যেতে না যেতে নদী সে নীড়টাকেই দখল করে নিয়েছে। চালচুলা হারিয়ে যেতে হয়েছে নতুন কোনো জায়গায়।

এই গল্প কেবল চান মিয়া, আতিক আর ওয়াজেদ ফকিরদেরই নয়, নদীর পাড়ে বসবাসরত অনেকেরই জীবনের সঙ্গে এর মিল রয়েছে।

ওয়াজেদ ফকির বলেন, ‘আমাগো বাড়িটা যেদিন প্রথম ভাইঙ্গা নিল নদীতে, সেদিন বাবা আর আমি হাটে গেছিলাম। আইয়া দেহি বাড়ির অর্ধেকটা শ্যাষ। বাবার লগে হেদিন ঘরের থালা বাসনগুলা খালি বস্তায় ভইরা সরাইয়া নিতে পারছিলাম। আমগাছ, জামগাছ যা আছিলো সব চোখের সামনে ভাইস্যা যাইতে দেখছি। তারপর একে একে নদীতে তিনবার বাড়ি ভাঙছে। এহন সরকারি জায়গায় থাহি।’

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল সাহেবরামপুর এলাকার নতুন আন্ডারচর লঞ্চঘাট ও উত্তর আন্ডারচর গ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদ। বছরের পর বছর আড়িয়াল খাঁর তাণ্ডবে বিলীন হয়ে গেছে হাজারো বাড়িঘর।

চলতি বছর নতুন করে আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে শেষ হয়েছে দুই শতাধিক বসতঘর। এ ছাড়াও একটি গ্রামীণ সড়কের ৫০০ মিটার অংশ নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে লঞ্চঘাট এলাকার আরও শতাধিক পরিবার।

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শুভ সরকার বলেন, কালকিনি সাহেবরামপুর আড়িয়াল খাঁ নদ এলাকায় আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ভাঙন কবলিত এলাকায় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়েছি। আমি সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেছি।

কালকিনি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ উল আরেফিন বলেন, লঞ্চঘাট এলাকায় ভাঙন কবলিত লোকজনের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিগগির তাদের সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে পুরো ইউনিয়নে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আকাশ গো ওটিটির যাত্রা শুরু

আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’ অনুষ্ঠান বুধবার

গোয়েন্দা সংস্থাকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা অনাকাঙ্ক্ষিত

বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে বিসিবির সঙ্গে বৈঠকে বসছে আইসিসি

তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে যুক্ত হলেন আরও ৩ জন

জকসুর ভোট গণনা নিয়ে যা জানাল নির্বাচন কমিশন

আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে ‘জুলাই বীর সম্মাননা’ অনুষ্ঠান বুধবার 

বিশ্বকাপে ভারতে না গেলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে বিসিবি!

কৃষক লীগ নেতা আব্দুর রহমান গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে জামায়াতের কোটিপতি প্রার্থী, সম্পদ কত?

১০

ঝালকাঠিতে ইনসাফ মঞ্চের যাত্রা শুরু

১১

বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা

১২

১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে

১৩

সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি নির্দেশনা

১৪

বিএনপিকে পত্রপল্লবে সজ্জিত করেছেন বেগম খালেদা জিয়া : কায়সার কামাল

১৫

ব্যালেট পেপার হাতে পেয়ে খুশি মালদ্বীপ প্রবাসীরা

১৬

খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় নিকডু শিক্ষক সমিতির দোয়া মাহফিল 

১৭

সোনারগাঁয়ে যুবলীগ নেতা জাকির ও নেত্রী রোজি গ্রেপ্তার

১৮

নিহত যুবদল নেতার স্ত্রী হলেন পল্লবী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক 

১৯

নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না : মিলন

২০
X