

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিজ বিভাগ রাজশাহীরসহ উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তিন দিনের এই নির্বাচনী সফরের শুরুতেই তিনি পদ্মাপাড়ের বিভাগীয় শহর রাজশাহীর নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিবেন। জনসভায় যোগ দেয়ার আগে হজরত শাহ মখদুম (রহ.) এর পবিত্র মাজার জিয়ারত করবেন।
দলীয় সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান আজ দুপুর সোয়া ১২টায় রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। দুপুর দেড়টায় তিনি হজরত শাহ মখদুম (রহ.) এর পবিত্র মাজার জিয়ারত করবেন। বেলা ২টায় রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। এই জনসভায় রাজশাহী জেলা ও মহানগরের পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেবেন।
এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় নওগাঁর এটিএম মাঠে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন। এ জনসভায় জয়পুরহাটের নেতা-কর্মীরা অংশ নেবেন। সেখান থেকে তিনি সড়কপথে নিজ জেলা বগুড়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় তারেক রহমান বগুড়ায় আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন। রাত সাড়ে ৮টায় রাত্রিযাপনের উদ্দেশ্যে তিনি হোটেল নাজ গার্ডেনে চলে যাবেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ৩টা ৪৫ মিনিটে রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টায় রংপুর ঈদগাহ মাঠে জনসভায় যোগ দেবেন। ঐদিন রাত ৯ টায় তিনি রাত্রি যাপনের উদ্দেশ্যে বগুড়ার হোটেল নাজ গার্ডেনে অবস্থান করবেন।
পরদিন শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ২টায় সিরাজগঞ্জে বিসিক শিল্প পার্কে, ৪টায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দরুন চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী জনসভা করবেন। পরে রাত ৮ টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবনে প্রত্যাবর্তন করবেন।
এর আগে ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু করেন তারেক রহমান। এরপর ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামে এবং ২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহে নির্বাচনী প্রচারাভিযান করেছেন তিনি। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারম্যান ১৬টি নির্বাচনী জনসভা করেছেন।
এদিকে দীর্ঘ ২২ বছর পর তিনি রাজশাহী সফরে আসছেন। তার এই সফর ঘিরে উজ্জীবিত রাজশাহীর নেতা-কর্মীরা। তারেক রহমান জনসভায় এসে এ অঞ্চলের মানুষের কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি তিনি ধানের শীষে ভোট চাইবেন।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, রাজশাহীর জনসভা থেকেই তারেক রহমান উত্তরের মানুষকে নিয়ে তার স্বপ্ন ও পরিকল্পনার কথা বলবেন। পাশাপাশি তিনি তিন জেলার ধানের শীষের ১৩ প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেবেন। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে রাজশাহীর পদ্মা নদী, ঐতিহ্যের সিল্ক ও বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি-সংকটের সমাধান নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরতে পারেন। তা ছাড়া এ অঞ্চলের পান, মাছ, আম ও সিল্ক নিয়েও তাঁর পরিকল্পনার কথা জানাতে পারেন।
রাজশাহী সদর আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহী অঞ্চলের বিএনপির নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। তাই জনসভাস্থলে কয়েক লাখ মানুষের ঢল নামবে। এই জনসভা রূপ নেবে ঐতিহাসিক জনসভায়।
বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত বলেন, ‘২২ বছর আগে ২০০৪ সালে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রাজশাহী এসেছিলেন। এত দিন পর তার আগমন ঘিরে আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত।’
রাজশাহীতে জনসভা উপলক্ষে গত রোববার সকাল থেকেই ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে মঞ্চ নির্মাণসহ সার্বিক প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলের মধ্যে সার্বিক সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মাঠের পশ্চিম পাশে স্থাপন করা হয়েছে ৮০ ফুট লম্বা এবং ২৪ ফুট চওড়া বিশাল মঞ্চ, শক্তিশালী সাউন্ড সিস্টেম, বড় পর্দা ও আলোকসজ্জা। সারি সারি চেয়ার বসানো হয়েছে মাঠের ভেতরে। তারেক রহমান রাজশাহী আসবেন এজন্য রাজশাহীকে সাজানোও হয়েছে ভিন্ন আঙ্গিকে। পুরো রাজশাহী এখন সাজ সাজ রব। এখন শুধু তারেক রহমানের আসার অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী।
সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মাদ্রাসা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ডগ স্কোয়াড ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
রাজশাহী নগর পুলিশের উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘জনসভা এবং তারেক রহমানের নিরাপত্তা দিতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে সাদা পোশাকে পুলিশের গোয়েন্দারা কাজ করছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাঁরা সতর্ক আছেন।’
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী জেলা স্টেডিয়ামে তৃণমূলের প্রতিনিধি সভায় যোগ দিয়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ দুই দশক পর পদ্মাপাড়ের বিভাগীয় শহর রাজশাহীর রাজনীতিতে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
মন্তব্য করুন