

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, সন্ত্রাসীদের যদি শাস্তি দেওয়া না যায়, আপনারা যদি সন্ত্রাসীদের পক্ষে দাঁড়ান, তাহলে আমরা মনে করব ১৭ বছরে যে নিপীড়িত হওয়ার গল্প আপনারা শোনান সেটা ভুয়া। যে সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেয়, সন্ত্রাসীর পাশে দাঁড়ায় তার আর পরাজয় সমান।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল স্টেশন রোডের পেট্রোল পাম্পের সামনে এনসিপিসহ ১০ দলীয় জোটের মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের নির্বাচনী পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনী দিন যত ঘনিয়ে আসছে, আমরা দেখছি একটি দল হিংস্র থেকে হিংস্রত হয়ে উঠছে। আমরা গতকাল সন্ত্রাস হতে দেখেছি। আমাদের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর একজন উপজেলা সেক্রেটারিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দেখছি ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের মতো হামলা-মামলা সন্ত্রাসকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা তাদেরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে দিতে চাই, এবার সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাদের এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম আর মেনে নেওয়া হবে না। আমরা নিশ্চয়তা দিতে চাই, ভোটের দিন কেন্দ্রে সুষ্ঠু পরিবেশে আপনারা ভোট দিতে পারবেন। সেটা নিশ্চিত করার জন্য ১১ দলীয় জোট, আমরা সেখানে উপস্থিত থাকব।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি ১৭ বছর বাংলাদেশের মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপির সর্বোচ্চ নেতারা বিভিন্ন জায়গায় সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার জন্য তারা বলছেন যে আজকে যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হয়, কালকে যে আমাদেরকে নিষিদ্ধ করা হবে না এই নিশ্চয়তা কোথায়? যদি কেউ ভুল করে, যদি তার ফাঁসির রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ বলে এসে যে আজকে যদি তাকে ফাঁসি দেওয়া হয় তাহলে কালকে যে আমাকে ফাঁসি দেওয়া হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? তার মানে আপনারাও ভুল করতে চান! তার মানে আপনারাও জুলাইব্যাপী যে গণহত্যা চালানো হয়েছে আবার তা করার চিন্তা আপনাদের মাথায় রয়েছে।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা ১১ দলীয় জোট। যদি আপনারা আমাদের ভোট দেন, আমরা নির্বাচিত হই, তাহলে আপনাদের এখানকার চা-শ্রমিকদের, মাটির মানুষদের, তাদের মাটির অধিকার, ভূমির অধিকার আমরা ফিরিয়ে দেব। বাংলাদেশের জনগণ এবারের নির্বাচনে ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে তাদের গণঅধিকার প্রয়োগ করবে এবং ফ্যাসিবাদীদের যারা সহায়তা করছে, যারা শেখা হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার কষ্ট পায়, যারা শেখ হাসিনাকে আবার ফিরিয়ে আনতে চায় তাদের বিরুদ্ধে গণঅধিকার প্রয়োগ করবে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এবারের নির্বাচনে গণভোট, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, আপনাদের ভবিষ্যৎ, আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য গণভোট এসেছে। আপনারা নির্বাচনে উৎসাহে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন এটা আমরা বিশ্বাস করি। আপনাদের ন্যায্য মজুরি আদায় করতে, অধিকার আদায় করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে। যদি ঘুষ ছাড়া চাকরি পেতে চান, আপনাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে চান তাহলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। যদি বনখেকো, ভূমিখেকোদের থেকে রক্ষা পেতে চান তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোটে ভোট দিতে হবে। যদি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি থেকে রক্ষা পেতে চান, আদালতে ন্যায়বিচার পেতে চান তাহলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। আমরা দেখছি দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের মা-বোনদের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করছে একটি দল। যদি মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান তাহলে ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, আপনাদের দীর্ঘদিনের পৌরসভা বর্ধিতকরণের যে দাবি, সেই দাবি আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করব। এই অঞ্চলের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আমরা কাজ করব। শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জকে পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনা, সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করব। ইতিমধ্যেই যখন আমি দায়িত্বে ছিলাম, আমি দেখেছি প্রীতম দাশ আপনাদের দাবি নিয়ে কীভাবে ছোটাছুটি করেছেন, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের জন্য একটি রাস্তা, কিছু অনুদান, ন্যায্য হিস্যা ও ন্যায্য মজুরি আদায়ের জন্য তিনি কাজ করে গেছেন এবং তিনি অনেক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। যদি আপনারা তাকে শক্তিশালী করেন, যদি নির্বাচিত করেন তাহলে আপনাদের দাবিদাওয়া পূরণ হবে। আমরা শ্রমিকদের জন্য জাতীয় ন্যূনতম যে মজুরি সেটা ঘণ্টায় ১০০ টাকা করার দাবি করেছি এবং সেটা বাস্তবায়নের জন্য সামনের দিনে আমরা কাজ করব। এ ছাড়া শিক্ষানবিশ শ্রমিকদের জন্য ঘণ্টায় ৬০ টাকা মজুরি আমরা দাবি করেছি। আপনারা বর্তমানে যে মজুরি পান, আমরা জানি এই মজুরি আপনাদের জীবনযাত্রা পরিচালনার জন্য অত্যন্ত কম। তারপরও আপনারা কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের জন্য, দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে আপনাদের মজুরি বৃদ্ধি করে আপনাদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য কাজ করব। আমরা ইতিমধ্যেই বলেছি এবং আন্দোলন হিসেবে গড়ে তুলবো, যারা এই মাটির মানুষ, যারা এই উর্বর মাটি থেকে চা উৎপাদন করে সারাদেশে ও বিশ্বে পৌঁছে দিচ্ছে তাদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আমরা কাজ করব।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১৬ বছর পর এ ভোট শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি একটি গণভোট। জনগণকে বিচার-বিবেচনা করে ভোট দিতে হবে। নির্বাচনে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও বিভ্রান্তি থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি দল সারা দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলা করছে এবং ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করছে; যা আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ডেরই পুনরাবৃত্তি।
বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, একটি দল সারাদেশে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা দিয়েছিল, এখন নির্বাচনে এসে বলছে, মামলা তুলে নেবে, এটা তাদের ‘কূটকৌশল, এতে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। তারা ৩১ দফা থেকেও সরে এসেছে। একতরফা হামলা চলতে থাকলে জনগণ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
পথ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা, অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রীতম দাশ, ব্যারিস্টার জুনেদ আহমেদ, ফয়সল মাহমুদ শান্ত, লুৎফর রহমান প্রমুখ।
মন্তব্য করুন