

ঝিনাইদহ-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিটশ্বর গ্রামে ধানের শীষের সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর (কাপ-পিরিচ প্রতীক) সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। হামলায় আকরাম হোসেন, ফজলুর রহমান, ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জাফর উদ্দীনসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। তাদের বর্তমানে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
একই ইউনিয়নের খড়াশুনি গ্রামেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ধানের শীষের সমর্থকদের হামলায় কওসার বিশ্বাস নামে এক কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থক আহত হন।
এদিকে, শুক্রবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারের খালকুলা গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে ধানের শীষের সমর্থক রবিউল শেখ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক মোশারেফ শেখ ও ইব্রাহিম শেখ আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পেয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালেব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে যান এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে মহেশপুর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত ‘প্রেস ক্লাব মহেশপুর’ কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এসময় কার্যালয়টিতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে এবং এসব সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।