ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪২ এএম
আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

মন্দাকিনী বিলে ৭ কৃষকের বাজিমাত

ফটিকছড়ির নাজিরহাট মন্দাকিনী বিলে নিজ ক্ষেতে তরমুজ হাতে কৃষকরা। ছবি : কালবেলা
ফটিকছড়ির নাজিরহাট মন্দাকিনী বিলে নিজ ক্ষেতে তরমুজ হাতে কৃষকরা। ছবি : কালবেলা

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাটে অবস্থিত ‘মন্দাকিনী বিল’। পানির সংকটে বছরের দীর্ঘ সময় অনাবাদি পড়ে থাকাই ছিল এই বিলের নিয়মিত চিত্র। আমন মৌসুম শেষ হলে সেচ সুবিধার অভাবে হেক্টরের পর হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা সম্ভব হতো না।

তবে এবার সেই ধূ-ধূ প্রান্তরে ভিন্ন এক দৃশ্য ফুটে উঠেছে। রাঙামাটি থেকে আসা সাত বর্গাচাষির হাত ধরে বিলটি এখন পরিণত হয়েছে সবুজ তরমুজের বিশাল এক সমারোহে।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বরকল উপজেলা থেকে আসা সাত কৃষক স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি বর্গা নিয়ে প্রথমবারের মতো ৭৬ কানি জমিতে তরমুজ আবাদ শুরু করেন। শুরুতে অনিশ্চয়তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রমে মিলেছে বাম্পার ফলন। বিশাল এই বিলটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘তরমুজ বিল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

চাষিরা জানান, সঠিক সময়ে চারা রোপণ, পরিমিত সার ব্যবহার এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণে ফলন আশাতীত হয়েছে। বর্তমানে বাজারে তরমুজের ভালো চাহিদা থাকায় বড় অঙ্কের লাভের স্বপ্ন দেখছেন তারা।

এই সাফল্যের নেপথ্যে কেবল সাত বর্গাচাষিই নন, তাদের স্ত্রী ও সন্তানরাও সমান তালে মাঠে কাজ করছেন। তরমুজ ক্ষেতের পাশেই অস্থায়ী তাঁবু টানিয়ে তারা রাতযাপন করছেন। দিন-রাত এক করে ফসলের পরিচর্যা ও পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে পুরো পরিবার।

চাষি মো. কাউসার হোসেন বলেন, আগে এই জমি বছরের বেশিরভাগ সময় পতিত পড়ে থাকত। আমরা সাতজন মিলে সেই জমি বর্গা নিয়ে ‘গ্লোরী জাম্বু’ জাতের তরমুজ চাষ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমবার হিসেবে অনেক ভালো ফলন পেয়েছি। পাইকাররা সরাসরি জমিতে এসেই ফসল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

আরেক চাষি মো. বাবুল জানান, শুরুতে পানির অভাবে দুশ্চিন্তায় থাকলেও সঠিক পরিচর্যায় ফসল ভালো হয়েছে। তবে ফসল কাটার এই সময়ে বৃষ্টি হলে পচে যাওয়ার কিছুটা আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল হাসান অপু বলেন, এই বিল আগে ফাঁকা পড়ে থাকত। এখন এখানে তরমুজ চাষ দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছি। কৃষকদের এই সাফল্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, সেচ সংকটের কারণে মন্দাকিনী বিল পুরোপুরি কাজে লাগানো যেত না। এই সাত বর্গাচাষি গ্লোরী জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। আমরা শুরু থেকেই তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে এসেছি।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এই উদ্যোগ সফল হওয়ায় আগামীতে আরও অনেক কৃষক পতিত জমিতে তরমুজসহ অন্যান্য বিকল্প ফসল চাষে আগ্রহী হবেন। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে মন্দাকিনী বিলের মতো অন্যান্য অনাবাদি জমিগুলোও উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্রে পরিণত হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়ে কঠোর অবস্থানে ইসরায়েল

বাড়ি বিক্রি করে বিশ্বভ্রমণে ব্রিটিশ নারী, ঘুরেছেন ১৭৯ দেশ

এবার ছোটপর্দার গোয়েন্দা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়

হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে একসঙ্গে কাজ করবে ইরান ও ওমান

সরফরাজ হোসেনের কবিতা : নীল

ধর্মমন্ত্রীর প্রতি সেই ওমরাযাত্রীর পরিবারের কৃতজ্ঞতা

সন্তানদের সঙ্গে মিলে গেছে নতুন ২ ইউনিয়নের নাম, সংসদে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী

জুনের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্সে শীর্ষে কৃষি ব্যাংক

বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ছাত্রদল নেতা তৌহিদের বৃক্ষরোপণ

সেই হজযাত্রীর জন্য ধর্মমন্ত্রীর শোক

১০

রাশিয়ায় যুদ্ধে গিয়ে নিখোঁজ ২ বাংলাদেশি  

১১

পশ্চিমবঙ্গের নতুন দল ‘এনসিপিআই’ বাংলাদেশে তৈরি, দাবি কংগ্রেস নেতার

১২

তিন জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পূর্বাভাস

১৩

প্রতিমন্ত্রীর মানহানির অভিযোগে ৪ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

১৪

২০২৬ বিশ্বকাপ কে জিতবে? চার এআই চ্যাট বক্সের একই উত্তর

১৫

বাংলাদেশি সাত জেলেকে বোটসহ ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি

১৬

আ.লীগ নেতা কারাগারে

১৭

এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘হার এশিয়াটিক সার্কেল’

১৮

প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামে দুই ইউনিয়ন  

১৯

আদালতে জবানবন্দি / মেয়েকে মারধরের প্রতিশোধ নিতেই ৬ বছরের শিশুকে হত্যা

২০
X