আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আসছে বৈশাখ, ব্যস্ত সময় কাটছে মৃৎশিল্পীদের

পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা সামগ্রী তৈরি করে রাঙিয়ে তুলছেন মৃৎশিল্পীরা। ছবি : কালবেলা
পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা সামগ্রী তৈরি করে রাঙিয়ে তুলছেন মৃৎশিল্পীরা। ছবি : কালবেলা

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। এ উৎসব ঘিরে চলছে নানা প্রস্তুতি। বিশেষ করে মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা এতটাই বেড়েছে যে দিন-রাত তাঁরা চোখের পাতা এক করতে পারছেন না। বৈশাখী মেলাকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বিভিন্ন গ্রামে রাতদিন কাজ চলছে। পুতুল, হাতি, ঘোড়া, ময়ূর, হাঁড়ি-পাতিলসহ নানা সামগ্রী তৈরি করে রাঙিয়ে তুলছেন তারা।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছেন কারিগরেরা। এর মধ্যে রয়েছে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, হাতি, ঘোড়া, নৌকা, টিয়া, সিংহ, দোয়েল, কচ্ছপ, মাছ, হাঁস ও বাহারি মাটির ব্যাংক। পয়লা বৈশাখ থেকে পুরো মাস চলবে এ ব্যবসা।

মৃৎশিল্পীরা জানান, বছরে এই একটা উৎসব ঘিরে তাঁদের অনেক আশা থাকে। এমনিতে সারা বছর মৃৎশিল্পের তেমন চাহিদা থাকে না। নববর্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈশাখী মেলা বসে। এ মেলায় কেবল চাহিদা থাকে। তাই সারা বছর উৎসবটার অপেক্ষা করেন তাঁরা। সারা বছর মাটির তৈজসপত্র তৈরি করে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করলেও মেলার জন্য তৈরি করছেন বাহারি সব মাটির খেলনা।

শিবনগর গ্রামের নরেশ চন্দ্র পাল কালবেলাকে বলেন, এখন আর মাটির জিনিসের তেমন কদর নেই। সারা বছর টানাপোড়নে চলতে হয়। পূর্বপুরুষের পেশা তাই ইচ্ছে হলেও ছাড়তে পারেন না। বৈশাখ মাস এলে মেলায় মাটির তৈরি খেলনা ও সামগ্রীর চাহিদা থাকে। তাই এই সময়টায় ভালো আয় হয়।

মদির পাল বলেন, এ শিল্পের জন্য প্রয়োজন হয় পরিষ্কার এঁটেল মাটি। কিন্তু এখন মাটির অভাব। তার ওপরে রংসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় অনেক বেড়েছে। সে অনুযায়ী উৎপাদিত পণ্যের দাম অতটা বাড়েনি। তারপরও পূর্বপুরুষেরা এ পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাই সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। এসব মাটির খেলনা ৩০ থেকে ১৫০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়।

রমেশ পাল নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, বাজারে এখন মাটির তৈরি পণ্যের কোনো কদর নেই। প্লাস্টিক পণ্যের ওপর মজেছে মানুষ। ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের দৃষ্টি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কুমাররা কীভাবে বেঁচে আছে, তারা তাদের পারিশ্রমিক অনুযায়ী ন্যায্যমূল্য পায় কি না এ খোঁজখবর কেউ রাখে না।

তিনি আরও বলেন, সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি এ পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই যথাযথ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেন, তাহলে একসময় মৃৎশিল্পের বিলুপ্তি ঘটবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে ৪ বিষয় : শিক্ষামন্ত্রী

দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরছেন বিন্দু

যুদ্ধ বা আলোচনা, কোনোটিই ছাড়েনি ইরান : পেজেশকিয়ান

বিএনপি-আ.লীগ সংঘর্ষ, ওসিসহ অর্ধশত আহত

গন্তব্য

ইসরায়েলকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, আপাতত হামলা বন্ধ : ইরান

আফগানিস্তানকে ইনিংস ও ৩০০ রানে হারিয়ে ভারতের রেকর্ড জয়

ইসরায়েলে হামলা বন্ধের ঘোষণা ইরানের, দিল কঠোর হুঁশিয়ারি 

মুখস্থবিদ্যা নয় সৃজনশীল শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে : মাউশি ডিজি

আইনজীবী বারে হামলা

১০

নির্বাচনের একদিন পরই বিসিবি পরিচালকের পদত্যাগ

১১

ভারতে আটক ৯১ বাংলাদেশি জেলে দেশে ফিরেছে, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

১২

কুমিল্লা বিমানবন্দর চালুর দাবি

১৩

এশিয়ার ‘সেরা গবেষক’ নির্বাচিত হয়েছিলেন দীপ্তিকে বিয়ে করা মুশতাক

১৪

রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৫

মরিশাসে ফের চালু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের শ্রমবাজার

১৬

২৩ ঘণ্টা ধরে মাদারগঞ্জ-ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ

১৭

খাদ্যের অপচয় রোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের বহুমুখী কার্যক্রম চলমান : খাদ্য প্রতিমন্ত্রী

১৮

ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিয়ে ইতিহাস গড়েছে যেসব দেশ

১৯

বিয়ের আগের শারীরিক সম্পর্ক চরিত্রহীনতার প্রমাণ নয় : ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

২০
X