সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
সরিষাবাড়ীতে টোকেন বাণিজ্য

চিকিৎসকের ভিজিটিং কার্ডে মিলছে জ্বালানি তেল 

ভিজিটিং কার্ড দিয়ে তেল নিতে আসা এক চালক। ছবি : কালবেলা
ভিজিটিং কার্ড দিয়ে তেল নিতে আসা এক চালক। ছবি : কালবেলা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জ্বালানি তেল বিক্রিতে এক অভিনব ও বিতর্কিত কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। পৌরসভার বাউসী এলাকায় অবস্থিত পপুলার ঝিনাই ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষারত সাধারণ মানুষকে পাশ কাটিয়ে এক সরকারি চিকিৎসকের ভিজিটিং কার্ডকে টোকেন হিসেবে ব্যবহার করে তেল বিক্রির ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিনব্যাপি ফিলিং স্টেশনে এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তেল বিক্রি করতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজের ভিজিটিং কার্ডকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল সিন্ডিকেট। স্থানীয় একদল অসাধু চক্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে এই ভিজিটিং কার্ডগুলো কৃষিজীবী ও বাইকারদের কাছে বিক্রি করছে।

জানা যায়, পাম্পে দীর্ঘ লাইন থাকলেও যার কাছে এই জাদুকরী কার্ড থাকছে, তিনি কোনো অপেক্ষা ছাড়াই দ্রুত ডিজেল বা পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন। সাধারণ গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেলেও, বাড়তি টাকার বিনিময়ে কার্ড সংগ্রহকারীদের প্রাধান্য দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এই অদ্ভুত বাণিজ্যের বিষয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান ফিরোজ বলেন, আমার ভিজিটিং কার্ড নিয়ে কে বা কারা কী করছে, তা আমার জানার বিষয় নয়। আমি কোনো কার্ড বিক্রি করিনি।

অন্যদিকে ঝিনাই ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করে জানান, তারা কোনো টোকেন বা কার্ড বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পাম্প কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছাড়া এমন বাণিজ্য সম্ভব নয়। এর আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও কারসাজির দায়ে এই ফিলিং স্টেশনকে একাধিকবার জরিমানা করেছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জ্বালানি তেলের মতো রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিতরণে এমন বৈষম্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ‘বড় ধরনের প্রশাসনিক অনিয়ম’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা আছে তা দ্রুত তদন্ত করা হোক। সরকারি চিকিৎসকের কার্ড কেন এবং কীভাবে এখানে ব্যবহার হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হোক। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে হয়রানি বন্ধে পাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা রিছিল বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি কেউ জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিগত বছরের তুলনায় কমেছে অপরাধের সংখ্যা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রহস্যজনকভাবে মাটি গরম হয়ে উঠছে ধোঁয়া, এলাকায় চাঞ্চল্য

ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালাল ইসরায়েল

এক দিনে হাম ও উপসর্গে ৮ মৃত্যু

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৪৭

নৌবাহিনীতে চাকরির সুযোগ, পদ ২১৪

বলিউডের বৈষম্য ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে মুখ খুললেন তাপসী পান্নু

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে টোল আদায়ের বৈধতা দিলেন পৌর প্রশাসক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি নিয়োগ দিল সরকার

শিশু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি শিগগিরই, হাইকোর্টে পৌঁছেছে পেপারবুক

১০

বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম

১১

মানসিক হাসপাতালে দুই রোগীর মারামারিতে একজনের মৃত্যু

১২

স্ত্রীর সামনে প্রস্রাব করার প্রতিবাদ করায় স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা

১৩

আবারও রিয়ালের সভাপতি পেরেজ, কোচ হয়ে ফিরছেন মরিনহো

১৪

আদ্-দ্বীনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেবে না সরকার : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

১৫

এসএসসির ফল ২০ জুলাই : শিক্ষামন্ত্রী

১৬

‘ঘুষ’ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল, বাগমারার সেই পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

১৭

বিশ্বকাপ শুরুর ৩ দিন আগে ইংল্যান্ডের বেস ক্যাম্পের কাছে গোলাগুলি

১৮

চিফ হুইপের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ

১৯

আবারও নিখোঁজ অভিনেত্রী হিমির নানা

২০
X