

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী একটি হাউসবোটের ইঞ্জিনে পড়ে সৌমাতা সরকার নিঝুম (৮) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাওরকেন্দ্রিক পর্যটন কার্যক্রমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (০৫ জুন) বিকেলে ভ্রমণশৈলী নামের হাউসবোটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত নিঝুম জেলার ধর্মপাশা উপজেলার কামলাবাজ গ্রামের স্বপন চন্দ্র সরকারের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে হাউসবোটে শিশু ও নারীসহ কয়েকজন টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে যান। হাওরে গোসল শেষে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত নিঝুম হাউসবোটের ইঞ্জিনের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকদের দুর্ঘটনায় প্রাণহানির একাধিক ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন আগে হাওরের পানিতে ডুবে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় পর্যটন ব্যবস্থাপনার নিরাপত্তা মান, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরকেন্দ্রিক পর্যটন খাতের আর্থিক সুবিধার বড় অংশ চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী ও একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে। অথচ পরিবেশ দূষণ, শব্দদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট এবং নিরাপত্তাহীনতার নেতিবাচক প্রভাব বহন করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
তিনি আরও বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের অভয়ারণ্য টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটনের প্রসার ঘটলেও নিরাপত্তা ও পরিবেশগত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। ফলে একদিকে হাওরের পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি।
এ অবস্থায় টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটন কার্যক্রমের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, হাউজবোটে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, পরিবেশ ও মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে টেকসই ও দায়িত্বশীল পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।