

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের আট মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যনির্বাহী সদস্য পদটি এখনও শূন্য রয়েছে। এ পদে নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেন আকাশ দাশ। তার বিরুদ্ধে এক বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ উঠলে কমিটি গঠন করে তদন্ত শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
তবে গঠিত তদন্ত কমিটি ক্ষমা প্রদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চার মাস হলেও এই নির্বাচিত প্রতিনিধির শপথ গ্রহণ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেনি প্রশাসন। এমনকি তদন্তের ফলাফল সম্পর্কেও অবগত নন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী, জানেন না চাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে লড়ে জয়ী হন আকাশ দাশ। তবে তার একটি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে শপথ গ্রহণ করতে পারেননি। পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জমা দেয়। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও এর ফলাফল সম্পর্কে অবগত নন শিক্ষার্থীরা। এমনকি কোনো স্পষ্ট তথ্য জানেন না চাকসুর প্রতিনিধিরাও।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স, হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের ২১তম সভায় আকাশ দাশকে ক্ষমা করার সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয়। যদিও, কার্যনিবার্হী সদস্য পদে তার শপথ গ্রহণের জন্য পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো বার্তা ছিল না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হলে সেটির জন্য যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি-তে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সিন্ডিকেটে এজেন্ডাভুক্ত করে উপস্থাপন করা হবে। অথচ চাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য আকাশ দাশকে নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ফলে, চাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য পদটি এখনও শূন্য রয়েছে। এদিকে নির্বাচনের আগে আকাশ দাস শিক্ষার্থীদের কাছে ৯ দফা অঙ্গীকার করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য থাকায় অঙ্গীকারগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে অনেকের।
এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটির ভাষ্য, প্রতিবেদন বাস্তবায়ন বা প্রকাশের দায়িত্ব প্রশাসনের। তারা অনেক আগেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে আলোচনা না হওয়ায় প্রতিবেদন বাস্তবায়ন না হওয়ার ধারণা তাদের।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও শাহজালাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফুয়াদ হাসান বলেন, রিপোর্ট অনেক আগেই জমা হয়েছে। প্রায় ৪-৫ মাস হয়ে গেছে। উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহ্ইয়া আখতারের দায়িত্বকালেই আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলাম। তবে প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমি কিছু বলতে পারব না, কারণ এটি গোপনীয়।
এ বিষয়ে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব বলেন, আকাশ দাশকে নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা হয়েছে বলে আমরা জানি। তবে প্রতিবেদনের ফলাফল সম্পর্কে এখনও আমাদের জানানো হয়নি। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং জানার চেষ্টা করেছি। শুধু এই প্রতিবেদন নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়েও তথ্য চেয়েছিলাম। আমরা চাই, কার্যনির্বাহী সদস্য পদ নিয়ে প্রশাসন দ্রুত একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাক।
আকাশ দাশের দেওয়া অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তার দেওয়া অঙ্গীকারগুলো উপেক্ষা করিনি। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।
এ বিষয়ে আকাশ দাশ বলেন, চিঠি আমি অনেক আগেই পেয়েছি। চিঠিতে বানানসহ অনেক ভুল ছিল। এর বিপরীতে আমি নিজেও প্রশাসনকে আবার একটি আবেদন করেছিলাম।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, বিষয়টা আমরা খতিয়ে দেখব এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেব।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি।