রাজশাহীর মোহনপুরে বর্তমান এমপি ও বিদ্রোহী প্রার্থী আয়েন উদ্দিনের লোকজনের মারধরে আওয়ামী লীগের তিন কর্মী আহত হয়েছেন।
বুধবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে মোহনপুর উপজেলার বাকশিমইল ইউনিয়নের সিন্দুরীগ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আসন্ন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে আহতদের দাবি। আহতরা হলেন, একই গ্রামের মাহবুব আলম, মুরাদুল ইসলাম ও এরশাদ আলী। তারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তারা সবাই রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদের কর্মী।
জানতে চাইলে আহত মাহবুব আলম বলেন, আমরা সবাই আসাদ ভাইয়ের নৌকার প্রোগ্রাম করি। এজন্যই বর্তমান এমপি আয়েনের লোক আমজাদ, আজাদ, নাজমুল, আলম, লতিফ, মুরাদ, জাহাঙ্গীরসহ বেশ কয়েকজন মিলে আমাদের ওপর হামলা করেছে। তারা আমাদেরকে এলোপাথাড়ি মারধর করেছে।
আহত মুরাদুল ইসলাম বলেন, নৌকার পক্ষে ভোট করার কারণে আমাদের মারার জন্য তারা আগে থেকেই পরিকল্পনা করছিল। গতকাল (মঙ্গলবার) বিকেলে এমপি আয়েনের লোকজন আমার বাড়ি ঘিরে রাখছিল। তখন আমি বাহিরে ছিলাম, আমার চাচা ফোন করে বললেন, ‘বাবা, বাড়িতে এসো না। তুমি আসাদের ভোট করো তাই আয়েনের লোকজন বাড়ি ঘিরে রাখছে। তোমাদের মারবে।’ পরে পুলিশকে জানালে তারা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। যারা বাড়ি ঘিরে রেখেছিল তাদের ও আমাদের থানায় দেখা করতে বলে যায় পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, সকালে আমি ও আমার বাবা জমিতে পটল তুলতে যাই। সেখানে তারা এসে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সবাই এমপি আয়েনের কাছের লোক। আমরা নৌকার পক্ষে ভোট করছি বলে এভাবে মেরেছে।
এ ব্যাপারে মোহনপুর থানার ওসি হরিদাস পাল বলেন, ২০১৪ সাল থেকে বিবাদবান দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল বলে শুনেছি। সাম্প্রতিক সময়ে এটি নির্বাচন কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে রূপ নিতে পারে। এক পক্ষের হামলায় অপরপক্ষের তিনজনের আহত হওয়ার খবর শুনেছি। তারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মন্তব্য করুন