দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তির আভাস পেয়েছিল। নতুন শাকসবজির দাম কিছুটা কমেও এসেছিলে। তবে হেমন্তের শেষ দিকে এসে হঠাৎ দিনভর বৃষ্টিতে সবজির বাজারে ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহের সঙ্গে তুলনা করলে কেজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বিভিন্ন সবজির দাম। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে। রোববার (১০ ডিসেম্বর) সকালে শরীয়তপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে কেবল কাঁচা সবজিই নয়, বেড়েছে আলু, আদা, রসুন, আটা, ময়দা, সয়াবিন তেলের মতো পণ্যের দামও। এসব পণ্যের দাম বৃদ্ধির সঠিক কারণ জানেন না বিক্রেতারাও। তবে তারা বলছেন, দাম আরও বাড়তে পারে। আর পেঁয়াজের যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দাম বাড়ছে। আর কাঁচা মরিচ এক লাফে ১২০ থেকে ২০০ টাকায়।
সকালে শরীয়তপুর পৌর কাঁচা বাজার ও আংগারিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজারে শিম জাত ভেদে ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া শালগম ৫০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৬০-৮০ টাকা, পাকা টমেটো ১০০-১২০ টাকা, পেঁয়াজ কলি ৯০-১০০ টাকা, পেঁয়াজ পাতা ৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, লাল মুলা ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৫০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ৮০-৯০ টাকা, শসা ৬০- ৮০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, পটল ৭০-৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দল ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিটি লাউ ৮০-১০০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে। এ ক্ষেত্রে গত সপ্তাহের তুলনায় আজকের বাজারের সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী।
সবজি বিক্রেতা রাসেল মাল কালবেলাকে বলেন, বৃষ্টি হলে তো এমনিতেই সবজির দাম বেড়ে যায়। আর এটা তো শীতকালের বৃষ্টি। দাম তো বাড়বেই।
বাজার করতে আসা এনজিও কর্মকর্তা হাসান নাহিদ কালবেলাকে বলেন, সবজির দাম কমতে শুরু করেছিল। ভেবেছিলাম স্বস্তি পাওয়া যাবে। কিন্তু বৃষ্টির অজুহাতে আবার সব কিছুর দাম বাড়ছে। সঙ্গে পেঁয়াজ যেন স্বপ্নের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে এক দিনের ব্যবধানে ২৪০ টাকা বিক্রি করছে একেক দোকানদারে।
আরেক ক্রেতা জুবায়ের কবির বলেন, ব্যবসায়ীরা শুধু উসিলা খোঁজেন দাম বাড়ানোর। এখন একটু বৃষ্টি হয়েছে, আর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভাই আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সামনে বেঁচে থাকাটাই কষ্ট হয়ে দাঁড়াবে। কী খাব? বাজারের দেখেন বেহাল অবস্থা। তবে চাকরিতে বেতন বাড়ছে না।
শুধু সবজিই নয়, বেড়েছে আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুনের দামও। বাড়তে থাকা পেঁয়াজের দাম বেড়েই চলছে। এক দিনের ব্যবধানে দেশি ও ক্রস পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ১০০ টাকার ওপরে। সাদা আলুর দাম বেড়েছে ৫ টাকা।
আজকের বাজারে দেশি পেঁয়াজ ১৮০ টাকা, ক্রস জাতের পেঁয়াজ ১৬০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লাল আলু ৫০ ও সাদা আলু ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়।
আজকে দেশি রসুন ২৪০, চায়না রসুন ২০০, ভারতীয় আদা ২২০, ইন্দোনেশিয়ান আদা ২৪০, চায়না আদা ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে ভারতীয় আদা ২০০ টাকা, দেশি রসুন ২২০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।
পালং বাজারের এক বিক্রেতা জামাল আকন বলেন, দাম যে কেন বাড়ল, সেটা তো জানি না। আমরা বেশি দামেই কিনে এনেছি। তাই বেশি দামেই বিক্রি করছি। যে অবস্থা দেখছি দাম হয়তো আরও বাড়বে। পেঁয়াজ আজ আনছি ১৮০ টাকা দরে। তো বিক্রি করব কয় টাকা করে বলেন।
পেঁয়াজ কিনছিলেন প্রকৌশলী জাবেদ ওসমান। তিনি দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে বলেন, আমরা এমন একটা অবস্থায় আছি, যদি আগামীকাল সকালে দেখি পেঁয়াজ ৫০০ টাকা কেজি, তবু অবিশ্বাস করব না। গত পরশু দিন ১২০ আজ ২০০ আগামীকাল ৫০০ হতেই পারে।
তবে পেঁয়াজ বেশি দরে বিক্রি করার কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অভিদপ্তরের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ অভিযান পরিচালনা করে একটি দোকানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, শরীয়তপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জনাব সুজন কাজী বলেন, জনস্বার্থে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিয়মিত বাজারের মনিটরিং করা হবে যাতে করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের ঠকাতে না পারে।
মন্তব্য করুন