রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৯ পিএম
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত ফরিদপুরের গাছিরা

রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। ছবি : কালবেলা
রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। ছবি : কালবেলা

শীতকাল এলেই বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে খেজুরের রস খাওয়ার প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় এই রস সংগ্রহেই ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা।

তবে এই এলাকায় রসের চাহিদা থাকলেও লোকবল সংকটের কারণে অনেক গাছেই হাড়ি পাতা হচ্ছে না। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী রসের জোগান দিতে পারছেন না গাছিরা।

প্রতি বছর শীত মৌসুমে খেজুরের রসের পিঠাপুলি, পায়েশ ও বিভিন্ন প্রকার পিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। এ ছাড়াও মুড়ি দিয়ে খেজুরের রস খাওয়ার মজাই যেন আলাদা। তাছাড়া ফরিদপুর জেলার খেজুরের রসের সুনাম দীর্ঘদিনের।

সদরপুর উপজেলার শৌলডুবি গ্রামের গাছি মিলন বলেন, এ বছর ৪০টির মতো গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করে পাটালি গুড় তৈরি করে বিক্রি করছি। এখন ভেজালের যুগে আর ফ্রেস খেজুরের গুড় পাওয়া খুব দুরূহ ব্যাপার। সবাই এখন চিনির মিশ্রণে গুড় তৈরি করেন।

তিনি আরও বলেন, এখন ফ্রেস এক কেজি খেজুরের গুড়ের দাম পড়বে কমপক্ষে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা। অথচ ক্রেতারা ২০০ টাকার বেশি দিয়ে গুড় কিনতে আগ্রহী না হওয়ার কারণে গুড়ের মধ্যে ভেজাল দিতে অনেকটা বাধ্য হচ্ছেন গাছিরা। আমার নিকট প্রতি বছর ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু শৌখিন ব্যক্তি আগাম খেজুরের গুড়ের অর্ডার দিয়ে থাকেন। তাদের কাছে কেজিপ্রতি ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি করি।

সুমন মিয়া নামে আরেক গাছি বলেন, আমি এবার ২৫টি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করছি। গুড় তৈরি না করে কাঁচা রস হাড়ি প্রতি ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করি। অনেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খেুজর রস নিতে আসেন। রস ও পাটালি ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভেজাল গুড় তৈরি সম্পর্কে তিনি জানান, গুড়ের পরিবর্তে আমি প্রতি বছর কাঁচা রস প্রতি লিটার ২০০ টাকায় বিক্রি করি। বর্তমানে খাঁটি খেজুর গুড় কেনার লোকের অভাব। তাই কাঁচা রস বিক্রিতে ঝামেলা যেমন কম আবার ক্রেতাও বেশি।

স্থানীয়রা জানান, খেজুর রসে নিপা ভাইরাস থাকতে পারে এমন আশঙ্কায় কাঁচা রসের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকেই। তাছাড়া এক হাঁড়ি রস বর্তমানে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা করে বিক্রি হয়। তাও আগেভাগে অর্ডার দিয়ে রাখতে হয়। তাছাড়া বাজারে খাঁটি খেজুরের গুড় মান ভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এবং সাধারণ খেজুরের গুড় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা করেও কেনা যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিটুল রায় বলেন, উপজেলায় খেজুরের রস ও পাটালির চাহিদা অনেক। শীত মৌসুমের শুরুতেই আমরা গাছিদের রস সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সদরপুরে খেজুরের রসের ভালো কোনো বাজার না থাকায় গাছিরা রস সংগ্রহের পর তা বিক্রি করতে পারছেন না। অনেকেই গুড় বানিয়ে সেগুলো বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, খেজুর গাছ ফসলের কোনো প্রকারের ক্ষতি করে না। এই গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। যা সকলে এই গাছ যে কোথাও বাড়ির পাশে লাগাতে পারে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খামেনির মহাপ্রয়াণ মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের মূল শক্তি: পেজেশকিয়ান

৯০০ পিস ইয়াবাসহ আর্জেন্টিনা সমর্থক তরুণ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ আদর্শ স্কুল চ্যাম্পিয়ন

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ফ্রান্সের একাদশ ঘোষণা

কেপ ভার্দেতে কেমন চলছে মুসলিমদের জীবনযাত্রা?

বিশ্বকাপ থেকে ‘এক’ স্বাগতিকের বিদায়

কানাডার স্বপ্ন ভেঙে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কো

কেপ ভার্দে যেতে কি বাংলাদেশিদের আগাম ভিসা লাগবে?

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না সরকার : বিজন কান্তি 

নরসিংদীতে মন্দির উন্নয়ন কাজের সরকারি বরাদ্দ বিএনপি নেতার পকেটে!

১০

সেমিনারে বক্তারা / সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য

১১

এএফসি টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন বিমান, রানার্সআপ ইউএস-বাংলা

১২

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৩

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফিরছে সরাসরি ফ্লাইট, রোববার প্রথম যাত্রা

১৪

জুলাই সনদের প্রতি পুনরায় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করলেন জামায়াত আমির

১৫

হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই গুরুত্বপূর্ণ 

১৬

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব আরও গভীর করার আহ্বান ডা. শফিকুর রহমানের

১৭

ইসলামিক ব্যাংকিংয়ে সুশাসন, শরিয়াহ কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নে জোর

১৮

ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি করপোরেশন হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

১৯

পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত নেইমার : আনচেলত্তি

২০
X