কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৫, ০১:৪৯ পিএম
আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৫, ০৩:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

মাগুরায় শিশু ধর্ষণ : ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার নির্দেশ 

হাইকোর্ট। পুরোনো ছবি
হাইকোর্ট। পুরোনো ছবি

মাগুরায় ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারী শিশু নির্যাতন ও দমন ট্রাইব্যুনালকে এ নির্দেশনা বাস্তাবায়ন করতে বলা হয়েছে।

রোববার (৯ মার্চ) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে মাগুরায় ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে নিয়ে আসেন ব্যারিস্টার মাহসিব হোসাইন। তিনি শিশুটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানান। পরে ধর্ষণের শিকার শিশুটির সব ছবি পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিটিআরসি ও পুলিশকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় হাইকোর্ট বলেন, ধর্ষিতা শিশুটির ছবি যারা প্রকাশ করছেন তারা আইন ভাঙছেন। এটা অন্যায়। জনগণকে বোঝাতে হবে ধর্ষণের শিকার কোনো ভিকটিমের নাম ও ছবি প্রকাশ আইনত দ্ণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ নিজের স্বার্থের জন্য ছবি প্রকাশ করলে সেটা সহ্য করা হবে না। ছবি নির্ধারিত সময়ে না সরালে নতুন আদেশ দেওয়া হবে।

এদিকে ধর্ষণের ঘটনার ৩ দিন পর শনিবার (৮ মার্চ) মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী শিশুটির মা। মামলায় অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামীর সহায়তায় তার বাবা (শ্বশুর) শিশুটিকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি মেয়ের শাশুড়ি ও ভাশুর জানতেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা শিশুটিকে হত্যার চেষ্টাও চালায়।

শনিবার সকালে শিশুটির বড় বোন ও বাবাকে দিয়ে মাগুরা সদর থানায় এজাহার পাঠান শিশুটির মা। সেই অনুযায়ী বিকেল ৩টার দিকে মামলা রেকর্ড হয়। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (৪) এর ক/ ৩০ ধারায় ধর্ষণ ও ধর্ষণের মাধ্যমে শিশুটিকে আহত করার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় শিশুটির বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুরকে আসামি করা হয়েছে। তারা আগে থেকেই পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, চার মাস আগে মাগুরা পৌর এলাকার এক ছেলের সঙ্গে শিশুটির বড় বোনের বিয়ে হয়। ওই বাড়িতে বোনের স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও ভাশুর থাকতেন। বিয়ের পর থেকে বড় মেয়েকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন তার শ্বশুর। বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যরা জানতেন। এ নিয়ে ঝগড়াও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত ১ মার্চ বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যায় আট বছরের শিশুটি।

এজাহারে বাদী আরও উল্লেখ করেন, বুধবার (৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে খাবার খেয়ে বড় বোন ও তার স্বামীর সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমায় শিশুটি। রাত আড়াইটার দিকে বড় বোন ঘুম থেকে জেগে দেখেন, ছোট বোন পাশে নেই, মেঝেতে পড়ে আছে। তখন শিশুটি বড় বোনকে জানায়, তার যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়া হচ্ছে। কিন্তু বড় বোন মনে করে, শিশুটি ঘুমের মধ্যে আবোলতাবোল বলছে। এরপর সকাল ৬টার দিকে শিশুটি আবার বোনকে যৌনাঙ্গে জ্বালাপোড়ার কথা বলে। কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বোনকে জানায়, রাতে দুলাভাই (বোনের স্বামী) দরজা খুলে দিলে তার বাবা (শ্বশুর) তার মুখ চেপে ধরে তার কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। সে চিৎকার করতে গেলে তার গলা চেপে ধরা হয়। পরে তাকে আবার বোনের কক্ষের মেঝেতে ফেলে রেখে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনা জানার পর শিশুটির বড় বোন তার মাকে মোবাইলে বিষয়টি জানাতে গেলে তার স্বামী ফোন কেড়ে নিয়ে তাকে মারধর করে। এ কথা কাউকে বললে শিশুটিকে হত্যার হুমকি দেয় এবং তাদের দুই বোনকে আলাদা দুটি কক্ষে আটকে রাখে। সকালে এক নারী প্রতিবেশী বাড়িতে এলে বোনের ভাশুর দরজা খুলে দেন। তখন শিশুটির মাথায় পানি দিয়ে সুস্থ করানোর চেষ্টা করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে বোনের শাশুড়ি অন্য প্রতিবেশীদের সহায়তায় মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে মেয়েটিকে জিনে ধরেছে বলে চিকিৎসকদের জানান। তবে, চিকিৎসক ও অন্যরা বিষয়টি টের পেলে শাশুড়ি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। পরে বাদী হাসপাতালে যান।

মেয়েটির বড় বোন সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার ২০ দিন আগে সন্ধ্যায় বাড়িতে কেউ ছিল না। তিনি ঘরে আলো জ্বালিয়ে টয়লেটে যান। সেখান থেকে ফিরে দেখেন ঘরে আলো বন্ধ। এ সময় হঠাৎ একজন পেছন থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে। উচ্চতা ও অন্য বিষয় দেখে তিনি ধারণা করেন, জড়িয়ে ধরা ব্যক্তিটি তার শ্বশুর হিটু শেখ। বিষয়টি স্বামী সজিবকে জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। পরে তিনি বাবার বাড়ি চলে যান। আর স্বামীর বাড়ি ফিরতে চাচ্ছিলেন না। বাবা-মা বুঝিয়ে ছোট বোনকে সঙ্গে করে শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বোনের শ্বশুরবাড়ি মাগুরা শহরের নান্দুয়ালী এলাকায় বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুর হিটু শেখ (৫০)-এর লালসার শিকার হয় শিশুটি। ওইদিন বেলা ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার বোনের শাশুড়ি। পরে শিশুটির মা হাসপাতালে যান। ওই দিন দুপুরেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার রাতেই পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শুক্রবার (০৭ মার্চ) রাতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শনিবার তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১

পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণে জমিয়ত নেতা নিহত

প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫১, হারালেন ১ জন

সুসংবাদ পেলেন বিএনপির আরও দুই নেতা

খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় আইইবির দোয়া ও শীতবস্ত্র বিতরণ

সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮

কোনো দুষ্কৃতিকারী বিএনপি করতে পারবে না : রবিউল আলম

রবীন্দ্র কুঠিবাড়ির বকুলতলায় স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিদের নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন

আ.লীগের মতোই জঘন্য কাজ করছে জামায়াত : কায়কোবাদ

কবিতা মানুষের মনে সৌন্দর্য, অনুভূতি ও ভাবনা নিয়ে আসে : আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

১০

খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয়তাবাদী শক্তির আদর্শ : পিএনপি

১১

সাতক্ষীরার তরুণদের মধ্যে বিপুল প্রতিভা রয়েছে : মিঠু

১২

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬

১৩

আ.লীগকে প্রশ্রয়দাতাদের প্রতিরোধ করতে হবে : মির্জা আব্বাস

১৪

ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের

১৫

ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা, মূলহোতা নারী গ্রেপ্তার

১৬

খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ় সংকল্প ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতীক : কবীর ভূইয়া

১৭

ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কার ভাগাভাগি, যা বলছে নোবেল কমিটি

১৮

ঢাবিতে ৩ দিনব্যাপী নন-ফিকশন বইমেলা শুরু

১৯

চুরির অপবাদে মাইকিং, ফল ব্যবসায়ীর ‘আত্মহত্যা’

২০
X