

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে করা ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত সব মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগামী রোববার (১৪ জুন) থেকে এই বিশেষ বেঞ্চ তার কার্যক্রম শুরু করবেন। বুধবার (১০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বেঞ্চ গঠনের বিষয়টি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা ডিভিশন বেঞ্চে বসবেন এবং শুনানির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধুমাত্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফারমেশনের রেফারেন্স এবং একই রায় থেকে উদ্ভূত সব ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল মঞ্জুরির আবেদনপত্র; উক্ত রায় থেকে উদ্ভূত ফৌজদারি বিবিধ ও ফৌজদারি রিভিশিন যদি থাকে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।
এর আগে গত ৭ জুন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এই বিশেষ বেঞ্চ গঠনের জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে আবেদন জানান। পরে সেদিন প্রধান বিচারপতি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের প্রস্তাবে রাজি হন।
প্রধান বিচারপতির এই উদ্যোগের ফলে আপিল নিষ্পত্তিতে বছরের পর বছর ধরে চলা বিলম্বের অবসান ঘটবে বলে সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি নারী এবং শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে এই জাতীয় মামলা, অর্থাৎ শিশু রামিসা, আসিয়া এবং রসু খাঁ এসব মামলাগুলো শুনানির জন্যে হাইকোর্টে একটি সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করবেন, যেটি আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।’
এই বেঞ্চটি শুধু এ ধরনের মামলার আপিল শুনানির জন্য ‘ডেডিকেটেড’ (সুনির্দিষ্ট) থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের পক্ষ থেকে আমাদের নিয়োজিত আইন কর্মকর্তারা কোনো মামলায় কোনো রকম মূলতবি চাইবেন না। কোনো মূলতবি ছাড়াই এই মামলাগুলো শুনানির জন্যে আমি আমাদের আইন কর্মকর্তাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছি।’
শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতি সম্প্রতি সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর যে নির্মম হত্যাকাণ্ড শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের যে মামলা, তার রায় ঘোষণা হয়েছে। ঘোষিত হয়েছে নিম্ন আদালত কর্তৃক; এবং দুজন আসামির মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’ হাই কোর্টের অনুমোদন ছাড়া এই রায় চূড়ান্ত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার রায় হয়, কিন্তু মানুষ এই রায় তার কার্যকর দেখতে পায় না বিলম্বের কারণে।’
দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরে বিলম্ব নিয়ে জনগণের শঙ্কা যৌক্তিক উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কথা সবসময় বলে থাকি, যতক্ষণ না সেই শাস্তি কার্যকর হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রায়ের ব্যাপারে মানুষের যে শঙ্কা – শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে আমি উন্মুক্ত আদালতে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টিতে এটি এনেছি।’
ছুটির মধ্যেও বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রের এই আইন কর্মকর্তা।