ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ঢাবির মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের ২.৩৫ লাখ ডলার অনুদান

ঢাবির মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ-পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন । ছবি : কালবেলা
ঢাবির মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ-পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন । ছবি : কালবেলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কার্জন হল প্রাঙ্গণে অবস্থিত ঐতিহাসিক মোগল স্থাপনা মুসা খান মসজিদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে ২ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাম্বাসেডরস ফান্ড ফর কালচারাল প্রিজারভেশন (এএফসিপি) কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়ন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১১টায় মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংরক্ষণ-পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাবিনা আলম।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মো. আক্রাম হোসেন ও এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মুস্তফা-সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিরা মসজিদটি পরিদর্শন করেন এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত হন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সপ্তদশ শতাব্দীর এই ঐতিহাসিক মুসা খান মসজিদের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এএফসিপির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সহায়তার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মসজিদের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও মোগল স্থাপত্যশৈলী পুনরুদ্ধার হবে এবং এটি দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে আরও সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মসজিদ সংরক্ষণের উদ্যোগে মার্কিন দূতাবাস ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে পেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রকল্প একাডেমিক গবেষণা, শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা, সাংস্কৃতিক সচেতনতা এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। এটি শুধু একটি পুনরুদ্ধার প্রকল্প নয়, বরং জ্ঞান ও প্রেরণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, সংস্কৃতি সংরক্ষণকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। গত দুই দশকে বাংলাদেশে এএফসিপির এটি ১৩তম প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় শুধু স্থাপত্য সংরক্ষণই নয়, বরং বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ববিদ ও সংরক্ষণবিদদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং একটি ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলার উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যা আন্তর্জাতিক গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এর আগে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কার্যালয়ে উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতি, ঐতিহ্য, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্বদান এবং শিক্ষা-গবেষণায় উন্নয়ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে এসে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে উদ্বুদ্ধ করা। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, স্কলারশিপ এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে আধুনিক গবেষণা সুবিধা নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ততা এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব জোরদার করা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অন্যতম কার্যকর উপায় হতে পারে।

উপাচার্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য অনুরোধ করেন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন ভিসা প্রক্রিয়ায় জাল নথিপত্রের কারণে সৃষ্ট জটিলতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অন্যদের কারণে প্রকৃত শিক্ষার্থীরাও ভোগান্তির শিকার হয়। এজন্য প্রতিটি কাগজপত্র যাচাই করতে অতিরিক্ত সময় লাগে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এই সমস্যা সমাধানে আমরা একটি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারি-যাচাইযোগ্য সনদপত্র ব্যবস্থা চালু করা।

বিশেষ করে QR কোডভিত্তিক একটি সিস্টেম চালু করলে খুব সহজেই নথির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে দূতাবাস সহায়তা করবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানে হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারাবে ইসরায়েল : ট্রাম্প

যশোরে আ.লীগ-যুবলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

গোপালগঞ্জে আওয়ামীলীগ নেতার পদত্যাগ

নিখোঁজের ৪ দিন পর প্রবাসীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

ক্যানসার শনাক্তে দেশে প্রথম রোবটিক প্রোস্টেট বায়োপসি হলো স্কয়ারে

আমার কথা বলে তাহেরী হুজুর আলোচনায় থাকতে চান : সামান্তা

অভিষেক ম্যাচেই ৪৭ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় ক্রিকেটার 

হার্ট ভালো রাখতে প্রতিদিন খাবেন যে পাঁচ খাবার

৩৪ তলায় ফ্ল্যাট কেনার পর জানতে পারলেন ভবনটিই ৩২ তলা

চাকরিনির্ভরতা থেকে উদ্যোক্তা: আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প

১০

পদত্যাগী মন্ত্রীর বাসায় খিচুড়ি, প্রতিমন্ত্রীর সভা শেষে বিরিয়ানি দিয়ে আপ্যায়ন

১১

বাজেটে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নতুনভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে : মির্জা ফখরুল 

১২

মৌচাকে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বিল্লাল খুন

১৩

মহানগর যুবদল নেতা বহিষ্কার

১৪

নুরজাহান বেগমের মৃত্যু : সমাজের এক নির্মম আয়না

১৫

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে স্থায়ী বহিষ্কার 

১৬

পবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হলেন প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান

১৭

তনু হত্যা  / ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ ২ আসামির বিরুদ্ধে 

১৮

নাগরিকসেবায় অবহেলা করলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

১৯

হোয়াটসঅ্যাপে ইসরায়েলের সাইবার হামলা, মামলা করবে মেটা

২০
X