

ট্রল, বিতর্ক আর সোশ্যাল মিডিয়ার ঝড়—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে এখন এক নাম, দিলজিৎ দোসাঞ্জ। দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেটদুনিয়ার একাংশ যখন কড়া সমালোচনায় সরব, তখন পরিস্থিতি যেন রীতিমতো উত্তপ্ত। তবে এই ঝড়ের মাঝেই তার পাশে শক্ত ঢাল হয়ে সামনে এলেন বলিউডের প্রভাবশালী প্রযোজক ভূষণ কুমার। সমালোচনার আগুনে ঘি না ঢেলে বরং দিলজিতের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি দিলেন স্পষ্ট বার্তা।
সম্প্রতি দিলজিতের একটি পাঞ্জাবি সিনেমাকে ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ছবিটিতে এক পাকিস্তানি অভিনেত্রীর উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি তোলে নেটিজেনদের একটি অংশ। ভারতজুড়ে পাকিস্তানি শিল্পীদের বয়কটের দাবি নতুন করে জোরালো হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই কাস্টিংকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয় সমালোচনার ঝড়। অনেকেই দিলজিতকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শুরু করেন।
বিতর্ক আরও উসকে ওঠে দিলজিতের আসন্ন বড় বাজেটের সিনেমা ‘বর্ডার ২’-তে তার কাস্টিং নিয়ে। কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ছবিটি বয়কটের ডাকও দেন। এমন পরিস্থিতিতে দিলজিতকে ঘিরে তৈরি হওয়া সমালোচনার জবাবে সামনে এসে সরাসরি অবস্থান জানান ভূষণ কুমার।
একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কী বলছে, তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। একজন অভিনেতার মূল্যায়ন হওয়া উচিত তার প্রতিভা, পরিশ্রম এবং পেশাদারি দিয়ে। তিনি অতীতে কোথায় কাজ করেছেন বা কার সঙ্গে কাজ করেছেন—সেটা দিয়ে শিল্পকে বিচার করা ঠিক নয়।”
ভূষণ কুমারের মতে, সিনেমা মূলত একটি সৃজনশীল মাধ্যম—যেখানে গল্প, নির্মাণ এবং অভিনয়ই সবচেয়ে বড় বিষয়। দর্শক প্রেক্ষাগৃহে যান ভালো কনটেন্ট দেখার জন্য, ট্রল বা অনলাইন বিতর্ক দেখে সিনেমার মান নির্ধারণ করতে নয়।
এই ইস্যুতে শুধু ভূষণ কুমার নন, ইন্ডাস্ট্রির আরও কয়েকজন পরিচালক ও শিল্পীও দিলজিতের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের অভিমত, সোশ্যাল মিডিয়ার চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে সৃজনশীল স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। শিল্পীদের কাজকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতাদর্শের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রবণতাকে তারা উদ্বেগজনক বলেও মনে করছেন।
মন্তব্য করুন