মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:৫৫ পিএম
আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বাবাকে নিয়ে যা বললেন তাহসানের হবু স্ত্রী

বাবাকে নিয়ে যা বললেন তাহসানের হবু স্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত
বাবাকে নিয়ে যা বললেন তাহসানের হবু স্ত্রী। ছবি : সংগৃহীত

মেকআপ আর্টিস্ট রোজা আহমেদ। একদিনেই দেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। যার কারণ সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা তাহসান খান। যার সঙ্গে বিয়ের খবর প্রকাশের পরই আলোচনায় তিনি। এরপরই তাকে নিয়ে শুরু হয় দেশের গণমাধ্যমে চর্চা। তার মাঝেই রোজার পুরোনো একটি স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়। যেটি তিনি ২০২৪ সালে ৪ জুন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছিলেন।

বাবাকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাসের শুরুতে রোজা লিখেছেন, ‘সেলফিটা একটু আগেই তুলেছি। সাধারণত আমার অনেক ছবি তোলা হয়। কিন্তু আজ এই সেলফিটা তোলার সময় চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। অনেক সময় ধরে কাঁদলাম। কিন্তু কী মনে করে কাঁদছি বা কেন কাঁদছি তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আমি বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। তাই সব থেকে আদরের ছিলাম সবার। আর বাবা আমাকে সব সময় বলতেন ‘আমার ছোট্ট পরীটা কইরে’। সেই সময় বরিশাল শহরে আমাদের পরিবারের বেশ প্রভাব ছিল। ছোটবেলায় কখনো কমতি পাইনি। এর বাসায় দাওয়াত, তার বাসায় দাওয়াত আর যেতেই হবে কারণ আমাদের ছাড়া দাওয়াত অসম্পূর্ণ হবে। এমন দিন গিয়েছে দিনে ৪টা দাওয়াতেও অংশ নিয়েছি। শুধু দেখা করে আসার জন্য। ’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘হঠাৎ বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন ওপারে। যতদিনের হায়াত তিনি নিয়ে এসেছেন ততদিন ছিলেন আমাদের সাথে। অভিযোগ তো অনেক জমা আছে, বাবার সেই ছোট্ট পরীটার, কিন্তু অভিযোগ কার কাছে করব? আর বাবা শুধু আমাদের ছেড়ে চলে যাননি, সাথে সাথে যে মানুষগুলো আমাদের এত সম্মান করতেন তাদের ভালোবাসাও চলে গেল আমাদের ওপর থেকে। আর সেই দিনটাতেই প্রথম বুঝতে পেরেছিলাম, যে ভালোবাসা আমরা পেয়েছি তা সবই বাবাকে ঘিরে আর সাথে অনেক অনেক স্বার্থ। বাবা চলে যাওয়ারি ঠিক ২ মাসের মাথায় আমার এক রিলেটিভের বিয়ে। আমরা অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলাম একে ওপরের, কিন্তু বিয়েতে দাওয়াত পেলাম না। যে রিলেটিভরা সেই বিয়েতে অংশ নিয়েছে সবাই ফোন করতে শুরু করল মাকে। কেন আমরা গেলাম না, কোথায় আমরা? বরিশালে আছি কিনা এই সেই। সেদিন সারারাত বসে দেখেছি মায়ের সেই সরল মনের কান্না। আপনারা লেখাটা পড়ে ভাবতে পারেন, দাওয়াত পাইনি বলে কাঁদছি? কিন্তু দাওয়াতের জন্য নয়, একই দালানে সবাই আনন্দ করছে, আমি, মা আর ছোটো ভাই উৎস তখন বাসার এক কোণে। খুব চিৎকার দিয়ে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল, বাবা তুমি একটু দেখে যাও, যাদের জন্য এত করেছ তারা আমাদের সব ফিরিয়ে দিচ্ছে। ’ এরপর তাদের জীবনে তার বাবার অবদান নিয়ে আরও লিখেছেন, ‘বাবা আমাদের জন্য অনেক কিছুই রেখে গেছেন, দাদা ভাইয়ের অনেক আছে কিন্তু কিছুই গোছানো না, কে বুঝেছেন যে এত অকালে উনি চলে যাবেন আমাদের ছেড়ে! আর দাদার সব সম্পত্তিতেই চাচা-ফুফুদের ভাগ আছে। মায়ের খুব অল্প বয়সেই বিয়ে হয়েছে। পড়াশোনার সুযোগ পায়নি। আর আমি চলে আসি তাদের কোলে। আমার মা খুব সরল মনের, দিন-দুনিয়ার কিছুই বোঝে না। সে যে নিজের ভয়েস রেইজ করবে বা তার সেটা রেইজ করার অধিকার আছে সেটা তার ধারণার বাইরে। কখনো তার সেই সাহসটাই ছিল না যে তার শ্বশুরকে বলবে, বাবা আমাদের সম্পত্তিটুকু আমাদের বুঝিয়ে দিন। আর উৎস তো তখন অনেক ছোট। আমরা দুই ভাইবোন তখন পিচ্চি পিচ্চি। আমাদের পড়াশোনার খরচ তখন একদম হিসাব করে টায় টায় দেওয়া হতো মায়ের হাতে। তাই কিছু খেতে ইচ্ছে করলে বলতাম না যাতে উৎস যেটা চায় সেটা যাতে পায়। আমার দিক থেকে একটু কম হলেও সমস্যা নেই।’

এরপর স্ট্যাটাসের শেষভাগে তিনি আরও লিখছেন ‘বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই প্রস্তাব আসা শুরু করে। এই রিলেটিভ একে আনে ওই রিলেটিভ ওকে আনে। সেই সময় আমি প্রথম ভয়েস রেইজ করেছি, আমার বয়স কম আর বাবা মারা গেছেন তো কি হয়েছে! বাবার আর আমার স্বপ্ন তো মারা যায়নি! ওই দিন কথাটায় খুব মাইন্ড করেছিল আমার কাছের লোকজন। বড়দের মুখে মুখে কথা, আমি আর মানুষ হব না। আর সেই থেকেই রটানো হয় কতো কথা। সারাদিন নাকি ছেলেদের সাথে ঘুরি, আমার বন্ধু-বান্ধব সার্কেল ভালো না, পর্দা করি না আরও কতো কি! মেয়ে তো নিশ্চয়ই প্রেম করে আর না হলে এতো ভালো প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়? আর প্রতিদিন এভাবেই বাসায় অভিযোগ আসা শুরু করে। কিন্তু আমার ভয়েস রেইজে সবাই এভাবে রিঅ্যাক্ট করবে বুঝতে পারিনি। আমার মা এত অভিযোগ শুনতে শুনতে বললেন, তুই আমাকে ছুঁয়ে বল এসব অভিযোগ কি সত্যি? আমি মাকে ছুঁয়ে বললাম, না মা সব মিথ্যে। আমি তো স্কুল আর বাসা বাদে কোথাও যাই না। এই বলে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করলাম মায়ের সাথে। ওইদিনের পর থেকে মা আমার সাথে নিয়মিত কোচিং-এ যেতেন আবার এসে বাসার সবার জন্য রান্না করতে হতো, খুব কষ্ট হয়ে যেত তার। তখন নিজের কাছে মনে হত আমি সবার জন্য একটা বোঝা, সব ক্ষেত্রেই আমার দোষ। দিনের পর দিন এভাবেই চলতে থাকে। হঠাৎ দাদাভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন, আর সেই থেকে আমার সাথে কোচিং-এ যাওয়া বন্ধ করে দেন মা। কারণ তাদের সেবা যত্ন করতে হতো মাকেই। তখন থেকেই একা একা চলা শুরু করলাম।’

জানা গেছে, রোজার বাবার নাম ফারুক আহম্মেদ ওরফে পানামা ফারুক। যিনি ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি র‍্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গিয়েছিলেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দেশে আজ ভ্যাটসহ স্বর্ণ কিনতে পকেট থেকে খসবে যত টাকা

নতুন পে-স্কেল, নিম্ন গ্রেডের কর্মীদের জন্য বড় সুসংবাদ

বজ্রঝড়ে থমকে গেল ফ্রান্স–ইরাক ম্যাচ, বিরতিতে এগিয়ে এমবাপ্পেরা

বিশ্বমঞ্চে নতুন কীর্তি / মাত্র ২৭ বছরেই ব্রাজিল কিংবদন্তিকে স্পর্শ করলেন এমবাপ্পে

বিশ্বকাপ জিতেছে ২বার, তবু তাদের জার্সিতে কেন চারটি স্টার? রহস্যটা কী?

এমবাপ্পের গোলে ইরাকের বিপক্ষে প্রথমার্ধেই এগিয়ে ফ্রান্স

জুনে চারবার ভূমিকম্প, রাত নামলেই কাঁপছে দেশ!

অস্ট্রিয়া ম্যাচে যে ৮ রেকর্ড গড়ল মেসি ও আর্জেন্টিনা

‘স্বপ্ন পূরণ করতে চাই’, অ্যাটলেটিকো ছাড়ার ইঙ্গিত আলভারেজের

ইরাককে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিতের মিশনে নামল এমবাপ্পেরা

১০

জামায়াতে ইসলামীর নাম ‘আওয়ামী জামায়াত লীগ’ দিলেন রাশেদ খাঁন

১১

৩২ বছর ১৮১ দিন— ‘বুড়ো দল’ হিসেবে ইরানের ইতিহাস

১২

ইতিহাস গড়ার পর মেসি, ‘রেকর্ড নিয়ে ভাবছি না, জয়টাই আমার কাছে বড়’

১৩

দুই ম্যাচে পাঁচ গোল, গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে মেসি

১৪

মেসির জাদুতে মুগ্ধ শাকিরা!

১৫

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ঠেকাতে মাঠে বিএনপি

১৬

ফের মেসিময় ম্যাচ, নকআউটে আর্জেন্টিনা

১৭

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের 'ফোর্স মবিলাইজেশন ড্রিল'

১৮

সারওয়ার আলম তার কর্মের খেসারত দিলেন

১৯

১৪৯ পেনাল্টির ৩৩টিতেই ব্যর্থ মেসি

২০
X