

আমরা অনেকেই দুধকে একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে দেখি এবং নানা খাবারের সঙ্গে দুধ খেতে অভ্যস্ত। কেউ গরম বা ঠান্ডা দুধ খান, কেউ আবার চকলেট, কলা বা হলুদ মিশিয়ে দুধ পান করেন। সকাল কিংবা রাতে দুধ খাওয়ার নানা রকম অভ্যাস রয়েছে। তবে যতই দুধ উপকারী হোক না কেন, কিছু খাবারের সঙ্গে দুধ খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
দুধ হজম হতে সময় নেয়। ফলে কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সঙ্গে দুধ খেলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি গ্যাস, বুকজ্বালা, পেট খারাপসহ নানা অসুবিধা হতে পারে। আবার অনেক মানুষ ল্যাকটোজ অসহিষ্ণু, অর্থাৎ দুধের ল্যাকটোজ ঠিকমতো হজম করতে পারেন না। তাই দুধ খাওয়ার সময় খাবারের সংমিশ্রণে সতর্ক থাকা জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, নিচের এই ৫টি খাবারের সঙ্গে দুধ একেবারেই খাওয়া উচিত নয়।
দুধ শরীরকে ঠান্ডা করে, আর মাছের প্রকৃতি তুলনামূলক গরম। এই দুই বিপরীতধর্মী খাবার একসঙ্গে খেলে শরীরে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে হজমে সমস্যা, পেট ভার লাগা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তাই মাছ বা যে কোনো ধরনের মাংসের সঙ্গে দুধ খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
অনেক দিন ধরেই কলা আর দুধকে স্বাস্থ্যকর জুটি হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এই দুই খাবার একসঙ্গে খেলে হজম হতে অনেক সময় লাগে। ফলে শরীরে ক্লান্তি, ভারভাব ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। কলা ও দুধ ভিন্ন সময় খেলে সেগুলোর পুষ্টিগুণ ভালোভাবে পাওয়া যায়।
দুধের সঙ্গে অনেক ফল মেশানো ক্ষতিকর হতে পারে। তরমুজ ও বাঙ্গি জাতীয় ফল মূত্রবর্ধক, আর দুধ হালকা জোলাপের মতো কাজ করে। একসঙ্গে খেলে পেটে গন্ডগোল, বমি বা পাতলা পায়খানার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এসব ফলের সঙ্গে দুধ না খাওয়াই নিরাপদ।
মুলা সাধারণত ক্ষতিকর নয়, তবে এর স্বভাব গরম। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, মুলা খাওয়ার পর দুধ পান করা উচিত নয়। এতে হজমে সমস্যা হতে পারে এবং পেটে জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। মুলা খাওয়ার অন্তত দুই ঘণ্টা পর দুধ খাওয়াই ভালো।
লেবু, কমলা বা ভিটামিন সি সমৃদ্ধ টক ফলের সঙ্গে দুধ খাওয়া উচিত নয়। দুধ হজম হতে দেরি হয় এবং টক ফলের সঙ্গে খেলে দুধ জমাট বেঁধে যেতে পারে। এতে গ্যাস, বুকজ্বালা, সর্দি, কাশি, এমনকি ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যাও হতে পারে।
দুধ নিঃসন্দেহে পুষ্টিকর একটি খাবার, তবে ভুল সংমিশ্রণে তা শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই দুধ খাওয়ার সময় কোন খাবারের সঙ্গে খাচ্ছেন, সেদিকে নজর দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আলাদা সময়ে দুধ ও অন্যান্য খাবার খেলে হজম ভালো হয় এবং শরীরও সুস্থ থাকে। সুস্থ থাকতে সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে জরুরি।
সূত্র : Health Shots
মন্তব্য করুন