

হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম অনেকের কাছে সামান্য সমস্যা মনে হলেও, সময়মতো যত্ন না নিলে এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বেই হার্টের অসুখ দ্রুত বাড়ছে, আর তাই খাবার-দাবার ও জীবনযাপনে সচেতন হওয়া খুবই জরুরি।
কিছু খাবার আছে, যেগুলো হৃদয়ের ছন্দ ঠিক রাখতে, রক্ত সঞ্চালন ভালো করতে এবং প্রদাহ কমাতে দারুণ উপকারী। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন ৬টি সহজলভ্য খাবারের কথা, যেগুলো আপনার প্রতিদিনের ডায়েটে থাকলে হার্ট আরও সুস্থ থাকবে।
আমন্ড (Almonds): আমন্ড বা বাদাম শুধু ভালো ফ্যাটের উৎসই নয়, এতে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা হৃদপেশির স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে পেশিতে টান ধরতে পারে, ক্র্যাম্প হতে পারে বা হার্টবিট অনিয়মও দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন ৫-৭টি আমন্ড খেলে হার্টের ছন্দ ঠিক রাখতে সহায়ক হয়। এতে থাকা ভিটামিন-ই শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকেও রক্ষা করে।
কলা (Bananas): হৃৎস্পন্দন ঠিক রাখতে পটাসিয়াম খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি খনিজ। আর কলা হলো পটাসিয়ামের সবচেয়ে সহজলভ্য খাবার। এটি শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালান্স বজায় রাখে এবং সোডিয়াম-পটাসিয়াম অনুপাত ঠিক রাখতে সাহায্য করে, যা হার্টবিট স্থির রাখার জন্য জরুরি। প্রতিদিন একটি কলা খাওয়ার অভ্যাস রক্তচাপ কমাতে ও হৃদযন্ত্র মজবুত রাখতে সহায়ক।
ডার্ক চকলেট (Dark chocolate): চকলেট পছন্দ করেন? তাহলে ডার্ক চকলেট আপনার জন্য সুখবর। এটি মূলত প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে থাকা ফ্লাভোনয়েড রক্তনালীকে শিথিল করে, রক্তচাপ কমায় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। তবে খেয়াল রাখবেন, দিনে ১-২ স্কোয়ারের বেশি নয়!
ওটস (Oats): ওটসকে বলা হয় হৃদস্বাস্থ্যের সুপারফুড। এতে থাকা বিটা-গ্লুকান খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং হৃৎস্পন্দন স্থির রাখতে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও এটি কোলেস্টেরল কমাতে কার্যকর। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও ওটস উপকারী। প্রতিদিনের নাশতায় দুধ বা দইয়ের সঙ্গে ওটস খেলে শরীর পায় ফাইবার আর হৃদয় পায় সুরক্ষা।
সালমনসহ অন্যান্য ফ্যাটি মাছ: সালমন, ম্যাকারেল বা সার্ডিনের মতো ফ্যাটি মাছগুলোতে থাকে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হার্টবিট নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত সহায়ক। এগুলো প্রদাহ কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদয়ের বৈদ্যুতিক সিগন্যাল স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। যদি সালমন স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য না হয়, তবে ইলিশ, রুই বা তেলাপিয়ার মতো স্থানীয় মাছেও কিছুটা ওমেগা-৩ থাকে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পালং শাকসহ সবুজ শাক: পালং ও অনান্য সবুজ শাকে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম থাকে। ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি হলে অ্যারিদমিয়া বা হৃৎস্পন্দনের অনিয়ম দেখা দিতে পারে। সবুজ শাক শরীরের ডিটক্স প্রক্রিয়াও উন্নত করে। প্রতিদিনের খাবারে একবাটি শাক রাখলে উপকার পাবেন খুব দ্রুতই।
- প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট হাঁটুন
- লবণ ও অতিরিক্ত তেল-চর্বি কমান
- ক্যাফেইন ও জাঙ্ক ফুড কমিয়ে দিন
- স্ট্রেস কমাতে মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
সঠিক খাবার, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আর নিয়মিত চেকআপ—এই তিনটাই মিলে দীর্ঘদিন আপনার হৃদয়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা
মন্তব্য করুন