বহুল আলোচিত অভিন্ন নদী তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির সমাধানে ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। দিল্লির এই সুপারিশকে উৎসাহজনক, তাৎপর্যপূর্ণ এবং আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও জনকূটনীতি বিভাগের মহাপরিচালক সেহেলী সাবরীন বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে প্রায় এক যুগ ধরে ঝুলে আছে তিস্তা চুক্তির খসড়াটি। গত ২৫ জুলাই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বাংলাদেশের সঙ্গে ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত করতে’ তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে সুপারিশ করেছে।
সব দলের আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে গঠিত স্থায়ী কমিটি সংসদের উভয় কক্ষ রাজ্যসভা, উচ্চকক্ষ ও লোকসভার নিম্নকক্ষে জমা দেওয়া ‘ভারতের প্রতিবেশী প্রথম নীতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি বিশেষ অধ্যায়ে এ সুপারিশ করে।
কমিটি এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত অর্থবহ সংলাপ শুরু করারও আহ্বান জানায়। সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সুপারিশ সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে জানিয়ে মুখপাত্র সেহেলী বলেন, দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনও আমাদের অবহিত করেছে। বিষয়টি অবশ্যই আশাব্যাঞ্জক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে এই সংসদীয় কমিটিতে বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেসসহ ভারতের সব রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা আছেন। তাই এ ধরনের একটি সুপারিশ আমাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
এই সুপারিশকে উদ্ধৃত করে আগামী দিনে দুদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন