কালবেলা ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৩, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট : ০৬ জুন ২০২৩, ০১:৫৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আদালতে ড. ইউনূস

ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পুরোনো ছবি
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পুরোনো ছবি

শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে হাজির হয়েছেন নোবেলজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি সেখানে হাজির হন। আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ৩১ মে আদালত কর ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রায় ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নির্দেশ দেন। বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সেই সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা খারিজ করে দেন আদালত।

আদালতে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, ২০১১-১২ থেকে ২০১৩-১৪—এ তিন অর্থবছরে নিজের নামে গঠিত দুটি ট্রাস্ট ও একটি প্রতিষ্ঠানে ৭৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা স্থানান্তর করেন। আয়কর নথিতে বলা হয়েছে, এ টাকা মৃত্যুভীতি থেকে ওই প্রতিষ্ঠানে দান করেন তিনি। ওই দিন উচ্চ আদালত জানান, ব্যক্তি ও পারিবারিক স্বার্থে ট্রাস্ট গঠন করেছেন ড. ইউনূস, মৃত্যুভীতি থেকে সেই ট্রাস্টে টাকা দান অকল্পনীয়। ফলে দানকর অব্যাহতি পাবেন না তিনি। পরিশোধ করতে হবে রাষ্ট্রের পাওনা প্রায় ১২ কোটি টাকা। রায়ে বলা হয়, তিন মামলায় ড. ইউনূসের কর ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। অন্যদিকে ড. ইউনূসের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১১-১২ করবর্ষে মোট ৬১ কোটি ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার টাকা দানের বিপরীতে প্রায় ১২ কোটি ২৮ লাখ ৭৪ হাজার টাকা কর দাবি করে ইউনূসকে নোটিশ পাঠায় এনবিআর। একইভাবে ২০১২-১৩ করবর্ষে ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা দানের বিপরীতে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং ২০১৩-১৪ করবর্ষে ৭ কোটি ৬৫ হাজার টাকা দানের বিপরীতে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা দানকর চেয়ে আরও দুটি নোটিশ দেওয়া হয় তাকে। এনবিআরের সেসব নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কর আপিল ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ইউনূস। ২০১৪ সালে কর আপিল ট্রাইব্যুনাল তার মামলা খারিজ করে এনবিআরের পক্ষে রায় দেন। এরপর হাইকোর্টে তিনটি আয়কর রেফারেন্স মামলা করেন ইউনূস, যার রায়ও তার বিপক্ষে গেল। আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে এই আবেদন করার সময় তিন কোটি টাকা জমা দিতে হয়েছিল ইউনূসকে। হাইকোর্টে মামলা হারায় বাকি ১২ কোটি টাকাও তাকে পরিশোধ করতে হবে। ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা বিচারাধীন উচ্চ আদালতে। এ ছাড়া গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কল্যাণ ট্রাস্টের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউনূসকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনায় ভয়াবহ দাবানলে বনভূমি পুড়ে ছাই

প্রস্তাব পেলে বাংলাদেশের কোচ হবেন কি না জানালেন মিকি আর্থার

রোলার চাপায় খেলার বয়সেই থেমে গেল শিশু আজিমের জীবন

জাপা-এনডিএফের প্রার্থীদের প্রার্থিতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না: হাইকোর্টের রুল

ইন্টারনেট নিয়ে গ্রাহকদের বড় সুখবর দিল বিটিসিএল

আমেরিকানদের খুব দ্রুত ভেনেজুয়েলা ছাড়ার নির্দেশ

আ.লীগ নেতার বাড়িতে আগুন

আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াতে প্রার্থী মোবিন

কুমিল্লা-২ আসন নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইসির আবেদন

কর ফাঁকির মামলায় খালাস পেলেন দুলু

১০

সাবেক মেয়র লিটনের ৪১ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

১১

পাওনা টাকা সংগ্রহে বাড়ি থেকে বের হন, মরদেহ ধানক্ষেতে

১২

জীবনযাপনের মধ্যেই লুকিয়ে আছে মাথাব্যথার কারণ

১৩

যেভাবেই হোক, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র দখল করবেই : ট্রাম্প

১৪

ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে এখনও অটল বিসিবি

১৫

মাইক্রোবাস চালককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

১৬

আজ থেকে নতুন দামে যত টাকায় বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

১৭

রোড টু ২৬: ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কারা, কবে কখন ম্যাচ

১৮

আলোচিত সেই মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

১৯

সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সমর্থন বাংলাদেশের

২০
X