রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সড়ক নিরাপত্তা আইন জরুরি, বছরে ৫ হাজারের বেশি প্রাণহানি

জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে সড়ক নিরাপত্তা আইন : বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা। ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে সড়ক নিরাপত্তা আইন : বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রতিবছর পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় সড়ক দুর্ঘটনায়, যার প্রায় ৭০ শতাংশের জন্য দায়ী অতিরিক্ত গতি ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি। মৃত্যুহার অর্ধেকে নামিয়ে আনার বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও এখনো কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন হয়নি—এ কারণে দ্রুত আইনগত ও কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।

সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নে সড়ক নিরাপত্তা আইন : বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুহার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হলে অবিলম্বে সমন্বিত ও কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা আইন করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) রোডক্র্যাশকে প্রতিরোধযোগ্য অসংক্রামক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা নীতি পরিবর্তন ছাড়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোড সেফটি ইনজুরি অ্যান্ড প্রিভেনশন প্রোগ্রামের ম্যানেজার মোহাম্মদ ওয়ালী নোমান জানান, বিআরটিএসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে—দেশের ৭০ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ অতিরিক্ত গতি ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাব। তিনি বলেন, ‘সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ বাস্তবায়ন করা গেলে নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ গতি ও নিরাপদ যানবাহন নিশ্চিত করা সম্ভব, যা অনেক দেশে মৃত্যুহার কমিয়েছে।

তিনি ২০২৩ সালের সিআইপিআরবি-হার্ট ফাউন্ডেশনের গবেষণা উদ্ধৃত করে বলেন, অধিকাংশ আহত ব্যক্তি প্রথমে যান প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে—যেখানে জরুরি সেবার সক্ষমতা সীমিত। হাসপাতালে শয্যার ১৬.২ শতাংশ এসব রোগীর জন্য বরাদ্দ থাকে, একজন রোগী গড়ে ১৬ দিন চিকিৎসাধীন থাকেন এবং পরিবারকে গড়ে ৩১ হাজার ৬৮৩ টাকা ব্যয় বহন করতে হয়, যা পরিবার ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা দুয়ের ওপরই চাপ সৃষ্টি করে।

তরুণ প্রতিনিধিরা আলোচনায় বলেন, রোডক্র্যাশ এখন তরুণদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। মরক্কোতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল মিনিস্টেরিয়াল কনফারেন্সে বাংলাদেশ ২০২৭ সালের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা আইন এবং ২০২৬ সালের মধ্যে গতিসীমা ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা ও মানসম্মত হেলমেট গাইডলাইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবায়ন ধীরগতিতে চলছে—তাই দ্রুত অগ্রগতির দাবি জানান তারা।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নিখিল কুমার দাস বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়; এটি মানবিক বেদনার পাশাপাশি জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ ক্ষতি করে। তার মতে, কার্যকর ল্যান্ড ইউজ প্ল্যানিং না থাকায় সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। কৃষিজমি ও জলাশয় সংরক্ষণ নীতির অসংগতি অনেক উন্নয়ন কার্যক্রমকে উল্টো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের মরদেহ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা

জরুরি সেবা নম্বরে কল পেয়ে লঞ্চে অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা দিল কোস্ট গার্ড

ছাত্রদলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

এনসিপি নেত্রী মনিরাকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য গণঅধিকার নেতার

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি খেলাফত আন্দোলনের

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

বিভেদ ভুলে এক কাতারে অপু-বুবলী

বিএনপি দেশ ও মানুষের স্বার্থে কাজ করে : প্রধানমন্ত্রী

হুইপ অপুর কাছে ছাউনি চাইল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী

নিরব-পরীমণির গোলাপ নিয়ে নয়া পরিকল্পনা

১০

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি

১১

ব্রাজিলের ম্যাচের দিনে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা

১২

শম্পার নতুন গান ‘প্রেমের বিজ্ঞাপন’

১৩

গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ স্থগিত : বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্বেগ

১৪

জেনেভা ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক কারবারি মনু গ্রেপ্তার

১৫

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ৮৮ বছর ধরে অপরাজিত ব্রাজিল

১৬

ব্রাজিল সমর্থকদের আনন্দ মিছিল রূপ নিল বিষাদে

১৭

ইরানে শান্তিচুক্তি পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া ও চীনের প্রতিনিধিদের বৈঠক 

১৮

কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ  / স্কুলে যাতায়াতে শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকার ব্যবস্থা করলেন সংসদ সদস্য

১৯

‘ভবিষ্যতে সফল হতে প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকল্প নেই’

২০
X