কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ অর্থবছরে ৬ মাসে ব্যাংক ঋণ বেড়েছে ৮ গুণ

ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের এই ঋণের অংক পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সরকারের ব্যাংকঋণের সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে ৮ গুন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঋণের পরিমাণ ৫৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়াকে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে ব্যাংক ঋণ বাড়লেও সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

গত বছরের ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকার বিপরীতে এবার এই খাত থেকে ঋণ এসেছে মাত্র ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। বিশেষ করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমে যাওয়ায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এখন বিল ও বন্ডের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে মোট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি মন্থর থাকলেও সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতেই এই ঋণের একটি বড় অংশ ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করায় সরকারের এই বিশাল ঋণ গ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে বড় কোনো সংকট তৈরি না করলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা বাড়লে ব্যাংকগুলো সরকারি ঋণ পরিশোধে ব্যস্ত থাকায় সাধারণ উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে বাধাগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এখনো বিয়েই করিনি, গণঅধিকারের কিছু নেতা গুজব ছড়াচ্ছেন : মনিরা শারমিন

এমবোলোর সফল স্পট-কিকে এগিয়ে সুইজারল্যান্ড

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ে ২ কোটি বোনাস পাচ্ছেন মিরাজরা

‘এগিয়ে চলো ব্রাজিল’, হুঙ্কার ছুড়লেন নেইমার

ভারতের বোলারদের পিটিয়ে গুরবাজের ৪৮ বলে সেঞ্চুরি

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় খুলসী থানার ওসি প্রত্যাহার

যে রেফারি দিয়ে শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন

গোলাহাট গণহত্যার ৫৫ বছর পূর্তিতে শহীদদের স্মরণে ঢাকায় সভা

চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগ / ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করিয়ে মায়ের মরদেহ ফেরত দিলেন চিকিৎসকরা

জরুরি সেবা নম্বরে কল পেয়ে লঞ্চে অসুস্থ শিশুকে চিকিৎসা সহায়তা দিল কোস্ট গার্ড

১০

ছাত্রদলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

১১

এনসিপি নেত্রী মনিরাকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য গণঅধিকার নেতার

১২

আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি খেলাফত আন্দোলনের

১৩

সকাল ৯টার মধ্যে ঝড় হতে পারে যেসব অঞ্চলে

১৪

বিভেদ ভুলে এক কাতারে অপু-বুবলী

১৫

বিএনপি দেশ ও মানুষের স্বার্থে কাজ করে : প্রধানমন্ত্রী

১৬

হুইপ অপুর কাছে ছাউনি চাইল পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী

১৭

নিরব-পরীমণির গোলাপ নিয়ে নয়া পরিকল্পনা

১৮

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি

১৯

ব্রাজিলের ম্যাচের দিনে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের শোভাযাত্রা

২০
X