

বৃষ্টি ঝরানো মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটেছে দেশের পাঁচ বিভাগজুড়ে। বুধবার (১০ জুন) দেশের সব বিভাগের বেশিরভাগ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। জ্যৈষ্ঠের শেষ সপ্তাহে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাতকে বর্ষার আগমনী বার্তা বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির কালবেলাকে বলেন, ‘দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আসা মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশে কার্যত বর্ষাকালের সূচনা হলো। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এসব এলাকায় কার্যত বর্ষা এসে পড়েছে। মৌসুমীবায়ু আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে বাংলাদেশের বাকি অংশে বিস্তার লাভ করার জন্য অনুকূল অবস্থায় রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মৌসুমীবায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে, যার প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। ফলে মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গেল সোমবার পর্যন্ত চলা টানা তাপপ্রবাহের অবসান হয়েছে। বৃষ্টি যতদিন চলবে, ততদিন গরম কিছুটা কম অনুভূত হবে। তবে বাতাসে আদ্রতা বেশি থাকায় কখনো কখনো অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হবে।’
বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। দুপুরের দিকে কালো হয়ে আসে আকাশ, যেন সন্ধ্যা নেমে গেছে। এরপর শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। নগরবাসীর জন্য এই বৃষ্টি যেন স্বস্তির পরশ হয়ে এসেছে। এদিন ঢাকায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আজ সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল পটুয়াখালীতে; ৩৫ ডিগ্রি দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ ও নওগাঁর বদলণগাছীতে; ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১০৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ডের তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শুক্রবারের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলেছে- রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। পরবর্তী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।
চলতি বছর স্বাভাবিক সময়ের এক সপ্তাহ পরে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছে। দেশের মোট বৃষ্টিপাতের ৮০ ভাগের বেশি হয় মৌসুমি বায়ুর কারণে। তবে এ বছর বৃষ্টির মৌসুমে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। অথচ উষ্ণ এপ্রিল ও মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ ভাগের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।